নাসিরনগরে হাওরের পানির নিচে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু, ফসল হারিয়ে দিশেহারা হাজারো কৃষক
তানভীর ভুইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হাওরের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে গিয়ে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের মেদির হাওড়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ মিয়া রামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদ হোসেন রিতুর চাচাতো ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজের জমিতে গিয়ে আহাদ মিয়া দেখেন তার আবাদি ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শেষ সম্বল রক্ষার আশায় তিনি পানিতে নেমে ধান কাটতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় বুকসমান পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করার একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। এলাকাবাসীর ধারণা, অতিরিক্ত পরিশ্রম ও মানসিক চাপের কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
একই দিনে গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতোলা গ্রামে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। চার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে নজরুল ইসলাম নামে এক কৃষক মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তার জ্ঞান ফিরলেও তিনি চরম মানসিক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নাসিরনগরের হাওরাঞ্চলে হাজার হাজার বিঘা জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসলহানির পাশাপাশি তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে পুরো অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
নাসিরনগরে হাওরের পানির নিচে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু, ফসল হারিয়ে দিশেহারা হাজারো কৃষক
তানভীর ভুইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হাওরের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে গিয়ে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের মেদির হাওড়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ মিয়া রামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদ হোসেন রিতুর চাচাতো ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজের জমিতে গিয়ে আহাদ মিয়া দেখেন তার আবাদি ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শেষ সম্বল রক্ষার আশায় তিনি পানিতে নেমে ধান কাটতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় বুকসমান পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করার একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। এলাকাবাসীর ধারণা, অতিরিক্ত পরিশ্রম ও মানসিক চাপের কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
একই দিনে গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতোলা গ্রামে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। চার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে নজরুল ইসলাম নামে এক কৃষক মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তার জ্ঞান ফিরলেও তিনি চরম মানসিক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নাসিরনগরের হাওরাঞ্চলে হাজার হাজার বিঘা জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসলহানির পাশাপাশি তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে পুরো অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন