বেড়ায় মৃত লাশ কবর দিতে দেয়া হলো না নিজ গ্রামে:
আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি: মৃত লাশ নিজ গ্রামের কবরস্থানে কবর দিতে না দেয়ার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে।পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), পিতাঃ মৃত. ইসহাক আলী, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের নেওলাইপাড়া গ্রামে তার শশুর বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তার আত্মীয়-স্বজন মৃত. আব্দুর রাজ্জাককে নিজ গ্রামে তারাপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করার জন্য গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট মানবিক সহযোগিতা কামনা করেন। অনেক অনুনয় বিনয় করে কোনভাবেই মৃতের আত্মীয়-স্বজন সেখানে কবর দেয়ার অনুমতি তো পায়ই না বরং লাশ নিয়ে আসলে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও প্রদান করা হয়। এমতাবস্থায় কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে আব্দুর রাজ্জাকের শশুর বাড়ির এলাকার লেওলাইপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত লাশকে কবর দিতে না দেওয়ার মত এমন জঘন্য ঘটনায় আশেপাশের এলাকাবাসী চরম হতাশ।
মৃত. আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে হাসান অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা আজ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, তার পিতা, মাতা, আত্মীয়-স্বজন যে কবরে শুয়ে আছেন সেই কবরেও আমার বাবাকে কবরস্থ করতে পারলাম না এই কষ্টের কথা কাকে বলবো, কার কাছে এই বিচারের ভার দেব? তিনি আরো বলেন, গ্রামের প্রধানদের কাছে মানবিক আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে নানার বাড়ি এলাকায় আমার বাবাকে কবর দিতে হলো।
গত বছর ২৫ জুলাই, ২০২৫, মসজিদ কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্য মারামারি হয়।মারামারিতে বেশ কয়েকজন আহত হলে তাদের মধ্য একগ্রুপের ২ জন ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামি হয়ে গ্রেফতারি এড়াতে একপক্ষ এলাকা থেকে আত্মগোপনে চলে যায়। সেই মৃত্যুর ঘটনা কে কেন্দ্র করে নিহত পক্ষের লোকজন প্রায় পুরুষ শূন্য অপর পক্ষের লোকদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাত করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছাতে পৌঁছাতে হামলার শিকার বাড়িগুলো পুড়ে ভৎস হয়ে যায় এবং তাদের বাড়িতে থাকা গরু, গরুর বাছুর সহ অন্যান্য জিনিস লুটপাট চালানো হয়। এরপর থেকে আর কেউ বাড়ি ফিরে যাওয়ার সাহস পায়নি। এমন কি প্রশাসনের চেষ্টাতেও এই ঘটনার সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
জানাযায় উপস্থিত গত বছর ঘটে যাওয়া হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, ঝগড়া, মারামারি, হত্যা এগুলো কখনো শান্তি দিতে পারে না, অনেক হয়েছে এবার আমরা মুক্তি চাই। সাত মাস আগে মামলা থেকে জামিন নিলেও নানান ভয়-ভীতি দেখানোর কারণে এখনো আমরা কেউ বাড়িতে যেতে পারিনি। শেষ বয়সে নিজের এলাকায় ফিরে গিয়ে নিজের বাড়িতে বসবাস করতে চাই।
এই মামলার আসামির অনেকেই বলেন, দেশে কি কেউ নেই যে এই সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবে, কতদিন আর আমরা এভাবে ভাসমান হয়ে ঘুরে বেড়াবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে প্রশাসনের সহযোগিতায় যত দ্রুত সম্ভব তারা যাতে নিজ গ্রামে ফিরে যেতে পারেন সেজন্য মানবিক আবেদন জানান গ্রামবাসী।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
বেড়ায় মৃত লাশ কবর দিতে দেয়া হলো না নিজ গ্রামে:
আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি: মৃত লাশ নিজ গ্রামের কবরস্থানে কবর দিতে না দেয়ার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে।পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), পিতাঃ মৃত. ইসহাক আলী, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের নেওলাইপাড়া গ্রামে তার শশুর বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তার আত্মীয়-স্বজন মৃত. আব্দুর রাজ্জাককে নিজ গ্রামে তারাপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করার জন্য গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট মানবিক সহযোগিতা কামনা করেন। অনেক অনুনয় বিনয় করে কোনভাবেই মৃতের আত্মীয়-স্বজন সেখানে কবর দেয়ার অনুমতি তো পায়ই না বরং লাশ নিয়ে আসলে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও প্রদান করা হয়। এমতাবস্থায় কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে আব্দুর রাজ্জাকের শশুর বাড়ির এলাকার লেওলাইপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত লাশকে কবর দিতে না দেওয়ার মত এমন জঘন্য ঘটনায় আশেপাশের এলাকাবাসী চরম হতাশ।
মৃত. আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে হাসান অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা আজ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, তার পিতা, মাতা, আত্মীয়-স্বজন যে কবরে শুয়ে আছেন সেই কবরেও আমার বাবাকে কবরস্থ করতে পারলাম না এই কষ্টের কথা কাকে বলবো, কার কাছে এই বিচারের ভার দেব? তিনি আরো বলেন, গ্রামের প্রধানদের কাছে মানবিক আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে নানার বাড়ি এলাকায় আমার বাবাকে কবর দিতে হলো।
গত বছর ২৫ জুলাই, ২০২৫, মসজিদ কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্য মারামারি হয়।মারামারিতে বেশ কয়েকজন আহত হলে তাদের মধ্য একগ্রুপের ২ জন ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামি হয়ে গ্রেফতারি এড়াতে একপক্ষ এলাকা থেকে আত্মগোপনে চলে যায়। সেই মৃত্যুর ঘটনা কে কেন্দ্র করে নিহত পক্ষের লোকজন প্রায় পুরুষ শূন্য অপর পক্ষের লোকদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাত করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছাতে পৌঁছাতে হামলার শিকার বাড়িগুলো পুড়ে ভৎস হয়ে যায় এবং তাদের বাড়িতে থাকা গরু, গরুর বাছুর সহ অন্যান্য জিনিস লুটপাট চালানো হয়। এরপর থেকে আর কেউ বাড়ি ফিরে যাওয়ার সাহস পায়নি। এমন কি প্রশাসনের চেষ্টাতেও এই ঘটনার সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
জানাযায় উপস্থিত গত বছর ঘটে যাওয়া হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, ঝগড়া, মারামারি, হত্যা এগুলো কখনো শান্তি দিতে পারে না, অনেক হয়েছে এবার আমরা মুক্তি চাই। সাত মাস আগে মামলা থেকে জামিন নিলেও নানান ভয়-ভীতি দেখানোর কারণে এখনো আমরা কেউ বাড়িতে যেতে পারিনি। শেষ বয়সে নিজের এলাকায় ফিরে গিয়ে নিজের বাড়িতে বসবাস করতে চাই।
এই মামলার আসামির অনেকেই বলেন, দেশে কি কেউ নেই যে এই সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবে, কতদিন আর আমরা এভাবে ভাসমান হয়ে ঘুরে বেড়াবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে প্রশাসনের সহযোগিতায় যত দ্রুত সম্ভব তারা যাতে নিজ গ্রামে ফিরে যেতে পারেন সেজন্য মানবিক আবেদন জানান গ্রামবাসী।

আপনার মতামত লিখুন