ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

পঞ্চগড়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজের ২৬ দিন, মেয়েকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি; প্রধান শিক্ষককে ঘিরে প্রশ্ন

পঞ্চগড়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজের ২৬ দিন, মেয়েকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি; প্রধান শিক্ষককে ঘিরে প্রশ্ন

পঞ্চগড়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজের ২৬ দিন, মেয়েকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি; প্রধান শিক্ষককে ঘিরে প্রশ্ন

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- বোদা (পঞ্চগড়), ১৭ জুলাই ২০২৬: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের নতুনহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিনা (১৪) গত ২৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান না মেলায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমানের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিখোঁজ ছাত্রীর স্বজনরা।

পরিবারের দাবি, তামিনা নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের পরিচয় গোপন করে ছাত্রীর দাদীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেন। ওই ফোনে তিনি তামিনা ঢাকায় কিংবা চট্টগ্রামে ভালো আছে বলে জানান এবং তাকে খোঁজাখুঁজি না করার পরামর্শ দেন। তবে পরে সরাসরি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এমন কোনো ফোনকলের কথা অস্বীকার করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় তামিনা। কিন্তু সেদিন সে বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি এবং এরপর থেকে আর বাড়িতেও ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ ছাত্রীর দাদী সমিজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার নাতনি সবসময় তার সঙ্গেই থাকত। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১০ দিন পর একটি ফোনে তামিনার অবস্থান সম্পর্কে জানানো হলেও পরে সেই ব্যক্তি সবকিছু অস্বীকার করেন। তিনি দ্রুত নাতনিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

মা রুনা বেগম অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রথমে মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে জানার ইঙ্গিত দিলেও পরে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেন। তিনি বলেন, থানায় জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বাবা আলতাবুর রহমানও অভিযোগ করেন, মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়ছেন।

এলাকার বাসিন্দা সামছুল আলম বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে নতুনহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমান বলেন, যে নম্বর থেকে ফোন করার অভিযোগ উঠেছে সেটি তার ব্যক্তিগত নম্বর নয়, তার চাচার ব্যবহৃত নম্বর। তার ভাষ্য, কেউ হয়তো তার কণ্ঠস্বর নকল করে কথা বলেছে। এছাড়া বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। তার বিরুদ্ধে আনা আগের অভিযোগগুলোও তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পঞ্চগড়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজের ২৬ দিন, মেয়েকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি; প্রধান শিক্ষককে ঘিরে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

পঞ্চগড়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজের ২৬ দিন, মেয়েকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি; প্রধান শিক্ষককে ঘিরে প্রশ্ন

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- বোদা (পঞ্চগড়), ১৭ জুলাই ২০২৬: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের নতুনহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিনা (১৪) গত ২৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান না মেলায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমানের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিখোঁজ ছাত্রীর স্বজনরা।

পরিবারের দাবি, তামিনা নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের পরিচয় গোপন করে ছাত্রীর দাদীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেন। ওই ফোনে তিনি তামিনা ঢাকায় কিংবা চট্টগ্রামে ভালো আছে বলে জানান এবং তাকে খোঁজাখুঁজি না করার পরামর্শ দেন। তবে পরে সরাসরি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এমন কোনো ফোনকলের কথা অস্বীকার করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় তামিনা। কিন্তু সেদিন সে বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি এবং এরপর থেকে আর বাড়িতেও ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ ছাত্রীর দাদী সমিজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার নাতনি সবসময় তার সঙ্গেই থাকত। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১০ দিন পর একটি ফোনে তামিনার অবস্থান সম্পর্কে জানানো হলেও পরে সেই ব্যক্তি সবকিছু অস্বীকার করেন। তিনি দ্রুত নাতনিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

মা রুনা বেগম অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রথমে মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে জানার ইঙ্গিত দিলেও পরে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেন। তিনি বলেন, থানায় জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বাবা আলতাবুর রহমানও অভিযোগ করেন, মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়ছেন।

এলাকার বাসিন্দা সামছুল আলম বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে নতুনহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমান বলেন, যে নম্বর থেকে ফোন করার অভিযোগ উঠেছে সেটি তার ব্যক্তিগত নম্বর নয়, তার চাচার ব্যবহৃত নম্বর। তার ভাষ্য, কেউ হয়তো তার কণ্ঠস্বর নকল করে কথা বলেছে। এছাড়া বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। তার বিরুদ্ধে আনা আগের অভিযোগগুলোও তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করছেন।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ