ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীতে গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজের নির্মানাধীন ভবনে দুর্ঘটনা

পটুয়াখালীতে গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজের নির্মানাধীন ভবনে দুর্ঘটনা

বীরগঞ্জে ৬২ শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআন প্রদান ও সবক অনুষ্ঠান

বীরগঞ্জে ৬২ শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআন প্রদান ও সবক অনুষ্ঠান

ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান এমপি আশফাকের

ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান এমপি আশফাকের

মিডিয়াকে ‘কখনো কখনো সন্ত্রাস’ বললেন কুড়িগ্রামের বিএনপি নেতা

মিডিয়াকে ‘কখনো কখনো সন্ত্রাস’ বললেন কুড়িগ্রামের বিএনপি নেতা

রাজৈরে জামায়াতের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলেন।

রাজৈরে জামায়াতের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলেন।

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে উত্তরায় জাতীয়তাবাদী চালক দলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে উত্তরায় জাতীয়তাবাদী চালক দলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে হেরোইনসহ দুইজন আটক

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে হেরোইনসহ দুইজন আটক

সিলেটে সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ সম্পন্ন

সিলেটে সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ সম্পন্ন

গাছের চারা রোপনের সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, দেওয়ালে লেখা 'Joy Bangla'

গাছের চারা রোপনের সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, দেওয়ালে লেখা 'Joy Bangla'

গাছের চারা রোপনের সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, দেওয়ালে লেখা 'Joy Bangla'

জিএম তারিকুল ইসলাম  কয়রা  খুলনা প্রতিনিধি:- খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারের পরিবেশবান্ধব দূরদর্শী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চরম অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন ১২৭ নম্বর শিমলার আইট খেজুরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বৃক্ষরোপণের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সামনের দেওয়ালে ইংরেজি অক্ষরে 'জয় বাংলা' লেখা দুই বছরের মধ্যে মুছে না ফেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। আওয়ামী সমর্থিত প্রধান শিক্ষক হওয়ায় বিতর্ক সৃষ্টির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এসব কাজ করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছে। 

 সরেজমিন ১৮ জুলাই বিকালে সেখানে যেয়ে দেখা যায়,  বিদ্যালয় চত্বরে কোন গাছ রোপন করা নেই। বিদ্যালয়ের মূল ফটকে ইংরেজি অক্ষরে 'জয় বাংলা' লেখা রয়েছে। সেখানে কথা হয় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর সাথে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, স্কুলে কোন গাছ রোপন করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম মোল্লা বলেন, বিদ্যালয়ে কোন গাছের চারা রোপন করতে দেখিনি। 

স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদারুল ইসলাম, যুবদল নেতা কামাল উদ্দিন, জিয়াউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রধান শিক্ষক আওয়ামী সমর্থিত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন। স্বৈরাচার সরকার পতনের দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো জয় বাংলা শ্লোগান রেখে দিয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গাছের চারা রোপন করেন নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে গাছের চারা রোপন করলে তারা উৎসাহ পেত। তিনি বিগত সময়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা রেখে নানা অপকর্ম করতেন। এছাড়া ঠিকমতো স্কুলে আসেন না। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রধান শিক্ষকের চরম গাফিলতি রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ১৫ জুলাই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি—এই তিন শ্রেণির সমন্বয়ে পাঁচটি করে গাছের চারা রোপণের নির্দেশনা দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। 

নিজের অবহেলা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ১৫ জুলাই আমরা চারা রোপণ করি নাই। তবে বিদ্যালয়ে 'জয় বাংলা' লেখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সম্পূর্ণ দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এমন শব্দ লেখা রয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নাই, আমি কোনো দিন এই লেখা দেখি নাই।

কয়রা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল আলম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা থাকাটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি করছি।

কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার  তপন কুমার কর্মকার বলেছেন, গাছের চারা রোপনসহ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সকল লেখা ও ছবি সরিয়ে ফেলতে আমরা যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছিলাম। উপজেলায় পাঁচ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার স্থলে মাত্র দুইজন রয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। কেউ দায়িত্ব পালনে উদাসীনতার পরিচয় দিলে তদন্ত-পূর্বক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গাছের চারা রোপনের সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, দেওয়ালে লেখা 'Joy Bangla'

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাছের চারা রোপনের সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, দেওয়ালে লেখা 'Joy Bangla'

জিএম তারিকুল ইসলাম  কয়রা  খুলনা প্রতিনিধি:- খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারের পরিবেশবান্ধব দূরদর্শী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চরম অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন ১২৭ নম্বর শিমলার আইট খেজুরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বৃক্ষরোপণের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সামনের দেওয়ালে ইংরেজি অক্ষরে 'জয় বাংলা' লেখা দুই বছরের মধ্যে মুছে না ফেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। আওয়ামী সমর্থিত প্রধান শিক্ষক হওয়ায় বিতর্ক সৃষ্টির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এসব কাজ করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছে। 

 সরেজমিন ১৮ জুলাই বিকালে সেখানে যেয়ে দেখা যায়,  বিদ্যালয় চত্বরে কোন গাছ রোপন করা নেই। বিদ্যালয়ের মূল ফটকে ইংরেজি অক্ষরে 'জয় বাংলা' লেখা রয়েছে। সেখানে কথা হয় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর সাথে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, স্কুলে কোন গাছ রোপন করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম মোল্লা বলেন, বিদ্যালয়ে কোন গাছের চারা রোপন করতে দেখিনি। 

স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদারুল ইসলাম, যুবদল নেতা কামাল উদ্দিন, জিয়াউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রধান শিক্ষক আওয়ামী সমর্থিত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন। স্বৈরাচার সরকার পতনের দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো জয় বাংলা শ্লোগান রেখে দিয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গাছের চারা রোপন করেন নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে গাছের চারা রোপন করলে তারা উৎসাহ পেত। তিনি বিগত সময়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা রেখে নানা অপকর্ম করতেন। এছাড়া ঠিকমতো স্কুলে আসেন না। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রধান শিক্ষকের চরম গাফিলতি রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ১৫ জুলাই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি—এই তিন শ্রেণির সমন্বয়ে পাঁচটি করে গাছের চারা রোপণের নির্দেশনা দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। 

নিজের অবহেলা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ১৫ জুলাই আমরা চারা রোপণ করি নাই। তবে বিদ্যালয়ে 'জয় বাংলা' লেখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সম্পূর্ণ দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এমন শব্দ লেখা রয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নাই, আমি কোনো দিন এই লেখা দেখি নাই।

কয়রা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল আলম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা থাকাটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি করছি।

কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার  তপন কুমার কর্মকার বলেছেন, গাছের চারা রোপনসহ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সকল লেখা ও ছবি সরিয়ে ফেলতে আমরা যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছিলাম। উপজেলায় পাঁচ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার স্থলে মাত্র দুইজন রয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। কেউ দায়িত্ব পালনে উদাসীনতার পরিচয় দিলে তদন্ত-পূর্বক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ