সরিষাবাড়িতে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে গোপন বাসায় ধরা সাবেক পুলিশ সদস্য, এলাকায় তোলপাড়
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের গোপনে ভাড়া বাসায় বসবাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী স্বামী, শ্বশুর -শাশুড়ি ও স্থানীয়দের অভিযানে ওই নারী ও সাবেক পুলিশ সদস্যকে একটি কক্ষ থেকে ধরে ফেলে। লোকজনের ভিড়ের সুযোগে কৌশলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার পৌর সভার বাউসি উত্তরপাড়া এলাকার লিয়াকত শিকদারের বাড়িতে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের মহিষাবাদুরিয়া গ্রামের খলিলের মোড় এলাকার মুহাম্মদ আলী মুহারের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আফছার আলীর সঙ্গে সবুজা আক্তার শিলা নামে দুই সন্তানের জননীর ছোট বেলা থেকেই পরিচয় ছিল। সম্প্রতি শিলা বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
সবুজা আক্তার শিলার বড় ভাবি খালেদা বেগমের দাবি, গত ২৫ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে আফছার আলীর সঙ্গে তিনি চলে যান। পরে তারা বাউসি উত্তরপাড়ার লিয়াকত শিকদারের বাড়িতে ভাড়া থেকে অবস্থান নেন।
ভুক্তভোগী স্বামী আল আমিন বলেন, তাঁদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একজন পবিত্র কোরআনের হাফেজ। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কাকতালীয়ভাবে আফছার উদ্দিন এর বন্ধু আরিফুর ইসলাম অঙ্কুরের সঙ্গে দেখা হয়। পরে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি আফছারের অবস্থানের তথ্য দেন বলে অভিযোগ করেন আল আমিন।
এরপর আল আমিন, তাঁর বাবা আনোয়ার হোসেন,মাতা নুরজাহান, দুই সন্তান এবং স্থানীয় লোকজন বাউসি উত্তরপাড়ার ওই বাড়িতে গিয়ে একটি কক্ষ থেকে শিলা ও আফছার আলীকে একসঙ্গে ধরে ফেলেন । তবে উপস্থিত লোকজনের ভিড়ের সুযোগে আফছার আলী কৌশলে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সবুজা আক্তার শিলা স্বামী আল আমিনকে তালাক দিয়ে আফছার আলীর সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছার কথা জানান বলে একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন। পরে স্থানীয়ভাবে ডাক্তার আব্দুল আজিজ বিন শরীফ নামে একজন কাজী ডেকে এনে আল আমিন ও শিলার তালাক সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয়রা আফছারের সঙ্গে তাঁর বিয়ের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্ত আফসার পালিয়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন আফছার আলী, বাড়ির মালিক লিয়াকত শিকদার এবং আরিফুল ইসলাম অঙ্কুরের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযুক্ত আফছার আলী বলেন, “প্রথমে আমাদের কোনো কাবিন বা বিয়ে হয়নি। পরে আমরা কাবিন করে বিয়ে করেছি।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
সরিষাবাড়িতে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে গোপন বাসায় ধরা সাবেক পুলিশ সদস্য, এলাকায় তোলপাড়
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের গোপনে ভাড়া বাসায় বসবাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী স্বামী, শ্বশুর -শাশুড়ি ও স্থানীয়দের অভিযানে ওই নারী ও সাবেক পুলিশ সদস্যকে একটি কক্ষ থেকে ধরে ফেলে। লোকজনের ভিড়ের সুযোগে কৌশলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার পৌর সভার বাউসি উত্তরপাড়া এলাকার লিয়াকত শিকদারের বাড়িতে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের মহিষাবাদুরিয়া গ্রামের খলিলের মোড় এলাকার মুহাম্মদ আলী মুহারের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আফছার আলীর সঙ্গে সবুজা আক্তার শিলা নামে দুই সন্তানের জননীর ছোট বেলা থেকেই পরিচয় ছিল। সম্প্রতি শিলা বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
সবুজা আক্তার শিলার বড় ভাবি খালেদা বেগমের দাবি, গত ২৫ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে আফছার আলীর সঙ্গে তিনি চলে যান। পরে তারা বাউসি উত্তরপাড়ার লিয়াকত শিকদারের বাড়িতে ভাড়া থেকে অবস্থান নেন।
ভুক্তভোগী স্বামী আল আমিন বলেন, তাঁদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একজন পবিত্র কোরআনের হাফেজ। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কাকতালীয়ভাবে আফছার উদ্দিন এর বন্ধু আরিফুর ইসলাম অঙ্কুরের সঙ্গে দেখা হয়। পরে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি আফছারের অবস্থানের তথ্য দেন বলে অভিযোগ করেন আল আমিন।
এরপর আল আমিন, তাঁর বাবা আনোয়ার হোসেন,মাতা নুরজাহান, দুই সন্তান এবং স্থানীয় লোকজন বাউসি উত্তরপাড়ার ওই বাড়িতে গিয়ে একটি কক্ষ থেকে শিলা ও আফছার আলীকে একসঙ্গে ধরে ফেলেন । তবে উপস্থিত লোকজনের ভিড়ের সুযোগে আফছার আলী কৌশলে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সবুজা আক্তার শিলা স্বামী আল আমিনকে তালাক দিয়ে আফছার আলীর সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছার কথা জানান বলে একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন। পরে স্থানীয়ভাবে ডাক্তার আব্দুল আজিজ বিন শরীফ নামে একজন কাজী ডেকে এনে আল আমিন ও শিলার তালাক সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয়রা আফছারের সঙ্গে তাঁর বিয়ের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্ত আফসার পালিয়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন আফছার আলী, বাড়ির মালিক লিয়াকত শিকদার এবং আরিফুল ইসলাম অঙ্কুরের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযুক্ত আফছার আলী বলেন, “প্রথমে আমাদের কোনো কাবিন বা বিয়ে হয়নি। পরে আমরা কাবিন করে বিয়ে করেছি।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন