নড়াইলে নদীভাঙনে হুমকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়ি
মো তুহিন মোল্লা নড়াইল প্রতিনিধি:- নড়াইলে নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাজারখালি মহাশ্মশানসহ আশপাশের বসতবাড়ি। ইতোমধ্যে ভাঙনে মহাশ্মশানের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরেও দেখা দিয়েছে ফাটল। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চিকিৎসাসেবা ও মরদেহ সৎকার নিয়ে সংকটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকার চিত্র। হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসী আরও জানান, তিন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পাজারখালি মহাশ্মশানে মরদেহ দাহ করেন। কিন্তু নদীভাঙনে শ্মশানের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাত জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। বসার স্থান ও চিতার জায়গারও একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে মরদেহ সৎকার নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের বসতবাড়িও। স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বলেন, তার বাড়ির সামনেও আগে দুই দফা নদীভাঙন হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার ভাঙন শুরু হলে তার বাড়িও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কাদের পিন্টু বলেন, এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই। এর মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নদীভাঙনরোধে জরুরি কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের জন্য একটি ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর নড়াইল জেলাজুড়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধ করা না গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই জরুরি কাজের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
নড়াইলে নদীভাঙনে হুমকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়ি
মো তুহিন মোল্লা নড়াইল প্রতিনিধি:- নড়াইলে নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাজারখালি মহাশ্মশানসহ আশপাশের বসতবাড়ি। ইতোমধ্যে ভাঙনে মহাশ্মশানের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরেও দেখা দিয়েছে ফাটল। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চিকিৎসাসেবা ও মরদেহ সৎকার নিয়ে সংকটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকার চিত্র। হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসী আরও জানান, তিন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পাজারখালি মহাশ্মশানে মরদেহ দাহ করেন। কিন্তু নদীভাঙনে শ্মশানের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাত জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। বসার স্থান ও চিতার জায়গারও একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে মরদেহ সৎকার নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের বসতবাড়িও। স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বলেন, তার বাড়ির সামনেও আগে দুই দফা নদীভাঙন হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার ভাঙন শুরু হলে তার বাড়িও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কাদের পিন্টু বলেন, এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই। এর মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নদীভাঙনরোধে জরুরি কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের জন্য একটি ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর নড়াইল জেলাজুড়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধ করা না গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই জরুরি কাজের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন