মদনে নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু
মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার মদনে নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারুফ খান (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মদন আদর্শ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফ খান মদন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মদন কান্দাপাড়া গ্রামের আশিক খান কপির ছেলে। তিনি ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর মা পপি আক্তার মদন পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মারুফের বাবা আশিক খান কপি বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস ভবনের সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর ছেলে মারুফ নিয়মিত বাবার সঙ্গে কাজের দেখাশোনা করতেন।
মঙ্গলবার সকালে বাবার সঙ্গে বিদ্যালয়ে কাজ দেখতে যান মারুফ। এ সময় নির্মাণাধীন ভবনের গ্রীলের সঙ্গে একটি বৈদ্যুতিক তার ঝুলতে দেখা যায়। ওই তারে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারুফ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁর বাবা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেন। তবে ততক্ষণে মারুফ মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা আশিক খান কপি বলেন, “আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাই আমার ছেলেই আমাকে নিয়ে কাজের দেখাশোনা করত। আজও বাবা-ছেলে একসঙ্গে বিদ্যালয়ে কাজ দেখতে গিয়েছিলাম। গ্রীলের সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক তারে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে আমি লাইন বন্ধ করি। কিন্তু তাকে আর বাঁচানো যায়নি।”
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “মারুফই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। তাকে সিঙ্গাপুরে কাজে পাঠানোর জন্য টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমার ছেলে আর বিদেশে যেতে পারল না। আমি নিজেও অসুস্থ। এখন আমার সংসার কীভাবে চলবে, জানি না।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে।”

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মদনে নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু
মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার মদনে নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারুফ খান (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মদন আদর্শ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফ খান মদন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মদন কান্দাপাড়া গ্রামের আশিক খান কপির ছেলে। তিনি ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর মা পপি আক্তার মদন পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মারুফের বাবা আশিক খান কপি বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস ভবনের সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর ছেলে মারুফ নিয়মিত বাবার সঙ্গে কাজের দেখাশোনা করতেন।
মঙ্গলবার সকালে বাবার সঙ্গে বিদ্যালয়ে কাজ দেখতে যান মারুফ। এ সময় নির্মাণাধীন ভবনের গ্রীলের সঙ্গে একটি বৈদ্যুতিক তার ঝুলতে দেখা যায়। ওই তারে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারুফ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁর বাবা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেন। তবে ততক্ষণে মারুফ মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা আশিক খান কপি বলেন, “আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাই আমার ছেলেই আমাকে নিয়ে কাজের দেখাশোনা করত। আজও বাবা-ছেলে একসঙ্গে বিদ্যালয়ে কাজ দেখতে গিয়েছিলাম। গ্রীলের সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক তারে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে আমি লাইন বন্ধ করি। কিন্তু তাকে আর বাঁচানো যায়নি।”
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “মারুফই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। তাকে সিঙ্গাপুরে কাজে পাঠানোর জন্য টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমার ছেলে আর বিদেশে যেতে পারল না। আমি নিজেও অসুস্থ। এখন আমার সংসার কীভাবে চলবে, জানি না।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন