ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীতে গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজের নির্মানাধীন ভবনে দুর্ঘটনা

পটুয়াখালীতে গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজের নির্মানাধীন ভবনে দুর্ঘটনা

বীরগঞ্জে ৬২ শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআন প্রদান ও সবক অনুষ্ঠান

বীরগঞ্জে ৬২ শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআন প্রদান ও সবক অনুষ্ঠান

ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান এমপি আশফাকের

ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান এমপি আশফাকের

মিডিয়াকে ‘কখনো কখনো সন্ত্রাস’ বললেন কুড়িগ্রামের বিএনপি নেতা

মিডিয়াকে ‘কখনো কখনো সন্ত্রাস’ বললেন কুড়িগ্রামের বিএনপি নেতা

রাজৈরে জামায়াতের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলেন।

রাজৈরে জামায়াতের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলেন।

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে উত্তরায় জাতীয়তাবাদী চালক দলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে উত্তরায় জাতীয়তাবাদী চালক দলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে হেরোইনসহ দুইজন আটক

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে হেরোইনসহ দুইজন আটক

সিলেটে সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ সম্পন্ন

সিলেটে সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ সম্পন্ন

সুনামগঞ্জে জুয়া ও মাদকের বলি তিন ভাইবোন বিষ খাইয়ে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

সুনামগঞ্জে জুয়া ও মাদকের বলি তিন ভাইবোন বিষ খাইয়ে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

সুনামগঞ্জে জুয়া ও মাদকের বলি তিন ভাইবোন বিষ খাইয়ে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

​সিলেট ব্যুরো:সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জুয়া ও মাদকের ভয়াল থাবায় প্রাণ হারিয়েছে এক প্রবাসীর তিন নিষ্পাপ শিশুসন্তান। নিজ হাতে সন্তানদের বিষপান করিয়ে হত্যার পর বাবা নিজেও বিষপান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই বাবাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

​নিহত তিন শিশু হলো—রজনী লাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং দুই ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। অভিযুক্ত বাবা সরাফত আলী (৩৫) বর্তমানে পুলিশের প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন। তিন দিন আগে তিনি পুনরায় প্রবাসে চলে যান। স্ত্রীর প্রবাসে যাওয়া এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছুদিন ধরে মনমালিন্য ও কলহ চলছিল।

​স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সরাফত আলী তিন সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় বড়ছড়া বাজারে যান এবং ফেরার পথে বিরিয়ানি কিনে বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে ওই খাবারের সঙ্গে কিংবা কৌশলে সন্তানদের বিষপান করান তিনি। পরে নিজেও বিষপান করেন সরাফত। বিষক্রিয়া শুরু হলে ময়মনসিংহে থাকা এক ফুফুকে ফোন করে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন ও পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।

শনিবার সকালে শিশুদের গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনরা এগিয়ে আসেন। পরে চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

​খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে শিশুদের মরদেহ উদ্ধার করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় সরাফত আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

​উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী সরাফত আলী জুয়া ও মাদকে আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা জোগাড় করা এবং পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এই নৃশংস পথ বেছে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ জানান, সকালের দিকে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালের আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

​তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

​এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্বজনরা এই নৃশংসতার বিচার দাবি করেছেন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুনামগঞ্জে জুয়া ও মাদকের বলি তিন ভাইবোন বিষ খাইয়ে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জে জুয়া ও মাদকের বলি তিন ভাইবোন বিষ খাইয়ে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

​সিলেট ব্যুরো:সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জুয়া ও মাদকের ভয়াল থাবায় প্রাণ হারিয়েছে এক প্রবাসীর তিন নিষ্পাপ শিশুসন্তান। নিজ হাতে সন্তানদের বিষপান করিয়ে হত্যার পর বাবা নিজেও বিষপান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই বাবাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

​নিহত তিন শিশু হলো—রজনী লাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং দুই ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। অভিযুক্ত বাবা সরাফত আলী (৩৫) বর্তমানে পুলিশের প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন। তিন দিন আগে তিনি পুনরায় প্রবাসে চলে যান। স্ত্রীর প্রবাসে যাওয়া এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছুদিন ধরে মনমালিন্য ও কলহ চলছিল।

​স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সরাফত আলী তিন সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় বড়ছড়া বাজারে যান এবং ফেরার পথে বিরিয়ানি কিনে বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে ওই খাবারের সঙ্গে কিংবা কৌশলে সন্তানদের বিষপান করান তিনি। পরে নিজেও বিষপান করেন সরাফত। বিষক্রিয়া শুরু হলে ময়মনসিংহে থাকা এক ফুফুকে ফোন করে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন ও পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।

শনিবার সকালে শিশুদের গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনরা এগিয়ে আসেন। পরে চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

​খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে শিশুদের মরদেহ উদ্ধার করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় সরাফত আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

​উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী সরাফত আলী জুয়া ও মাদকে আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা জোগাড় করা এবং পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এই নৃশংস পথ বেছে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ জানান, সকালের দিকে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালের আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

​তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

​এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্বজনরা এই নৃশংসতার বিচার দাবি করেছেন


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ