পৈতৃক জমি ও ‘রেওয়াজ বদল’ নিয়ে সরিষাবাড়ীতে হামলার অভিযোগ,আহত- ৪
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৈতৃক জমির মালিকানা ও ‘রেওয়াজ বদল’কে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্যসহ নৌ৪ জনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আওনা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পী, তাঁর স্বামী সালাউদ্দিন তুহিন ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আওনা ইউনিয়নের গোয়ালবাথান মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পী বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের গোয়ালবাথান মধ্যপাড়া গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে মিজানুর রহমান মিজানকে প্রধান আসামি করে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওনা তরনীআটা মৌজার ১৬১ নম্বর খতিয়ানের ১৫৫ নম্বর দাগের ১৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ শতাংশ জমি পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করেন সালাউদ্দিন তুহিন ও তাঁর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ভাই ফারুক আহমেদ।
তাদের অভিযোগ, বড় ভাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব ফেরদৌস হাসান অন্য এক অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ না করে নিজ সিদ্ধান্তে ওই জমি চাচাতো ভাই ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার নাজাতের সঙ্গে ‘রেওয়াজ বদল’ করেন। পরে নাজাত চেয়ারম্যান জমিটি শরাফত আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
স্থানীয় ও স্তাগভোগী পরিবার সূত্রে এবং অভিযোগে জানা গেছে, প্রবাসী ফারুক আহমেদের দেয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পী, তাঁর স্বামী সালাউদ্দিন তুহিন ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বিষয়টি জানতে শরাফত আলীর বাড়িতে যান। সেখানে গেলে দূ পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শরাফত আলীর ছেলে মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পীর অভিযোগ।
এ সময় নজরুল ইসলাম মারধরের প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধরের একপর্যায়ে পাকা রাস্তার সংলগ্ন স্থানে একটি নর্দমা পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি পুকুর থেকে উঠে রাস্তায় গেলে তাঁকে ফের মারধরের জন্য ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। দৌড়ে গোয়ালবাথান বাজারে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্ষা করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, হামলার সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি ভিভো অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন, হিসাবের নোটবই ও নগদ ৫ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে আহত ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পী বলেন, আমার প্রবাসী ভাসুর ফারুক আহমেদ তাঁর সম্পত্তির অংশ দেখভালের জন্য আমাকে ও আমার মেয়ে রোশনি আক্তার কে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আমরা শুধু জমির বিষয়টি জানতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও বঞ্চিত ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শরাফত আলী ও তাঁর ছেলে মিজানুর রহমান মিজান বলেন, তাঁরা সঠিক কাগজপত্র যাচাই করেই জমি কিনেছেন। তাঁদের দাবি, শিল্পী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম খারাপ আচরণ করায় তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। নজরুল ইসলামকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দেওয়া এবং পরে ধাওয়া দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করলেও হামলার অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।
প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান মিজান আরও দাবি করেন, তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ভ্যানের ওপর ফেলে দেওয়া হলে তিনি আহত হন। তিনিও ঘটনার বিচার দাবি করেন।
জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
পৈতৃক জমি ও ‘রেওয়াজ বদল’ নিয়ে সরিষাবাড়ীতে হামলার অভিযোগ,আহত- ৪
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৈতৃক জমির মালিকানা ও ‘রেওয়াজ বদল’কে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্যসহ নৌ৪ জনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আওনা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পী, তাঁর স্বামী সালাউদ্দিন তুহিন ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আওনা ইউনিয়নের গোয়ালবাথান মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পী বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের গোয়ালবাথান মধ্যপাড়া গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে মিজানুর রহমান মিজানকে প্রধান আসামি করে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওনা তরনীআটা মৌজার ১৬১ নম্বর খতিয়ানের ১৫৫ নম্বর দাগের ১৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ শতাংশ জমি পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করেন সালাউদ্দিন তুহিন ও তাঁর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ভাই ফারুক আহমেদ।
তাদের অভিযোগ, বড় ভাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব ফেরদৌস হাসান অন্য এক অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ না করে নিজ সিদ্ধান্তে ওই জমি চাচাতো ভাই ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার নাজাতের সঙ্গে ‘রেওয়াজ বদল’ করেন। পরে নাজাত চেয়ারম্যান জমিটি শরাফত আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
স্থানীয় ও স্তাগভোগী পরিবার সূত্রে এবং অভিযোগে জানা গেছে, প্রবাসী ফারুক আহমেদের দেয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পী, তাঁর স্বামী সালাউদ্দিন তুহিন ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বিষয়টি জানতে শরাফত আলীর বাড়িতে যান। সেখানে গেলে দূ পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শরাফত আলীর ছেলে মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পীর অভিযোগ।
এ সময় নজরুল ইসলাম মারধরের প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধরের একপর্যায়ে পাকা রাস্তার সংলগ্ন স্থানে একটি নর্দমা পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি পুকুর থেকে উঠে রাস্তায় গেলে তাঁকে ফের মারধরের জন্য ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। দৌড়ে গোয়ালবাথান বাজারে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্ষা করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, হামলার সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি ভিভো অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন, হিসাবের নোটবই ও নগদ ৫ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে আহত ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার শিল্পী বলেন, আমার প্রবাসী ভাসুর ফারুক আহমেদ তাঁর সম্পত্তির অংশ দেখভালের জন্য আমাকে ও আমার মেয়ে রোশনি আক্তার কে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আমরা শুধু জমির বিষয়টি জানতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও বঞ্চিত ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শরাফত আলী ও তাঁর ছেলে মিজানুর রহমান মিজান বলেন, তাঁরা সঠিক কাগজপত্র যাচাই করেই জমি কিনেছেন। তাঁদের দাবি, শিল্পী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম খারাপ আচরণ করায় তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। নজরুল ইসলামকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দেওয়া এবং পরে ধাওয়া দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করলেও হামলার অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।
প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান মিজান আরও দাবি করেন, তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ভ্যানের ওপর ফেলে দেওয়া হলে তিনি আহত হন। তিনিও ঘটনার বিচার দাবি করেন।
জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন