ধুনটে চাঁদা দাবির অভিযোগের পর ফের তরুণের টাকা-মোবাইল ছিনতাই
আশরাফুদ্দীন আল আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধি:- বগুড়ার ধুনটে চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কয়েকদিন পর ফের এক তরুণকে পথরোধ করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরপর এমন অভিযোগ ওঠায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ধুনট উপজেলা সদরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনটের এফএইচ কবির বর্ষন (১৮) গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ধুনট মডেল মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে উপজেলা গেট সংলগ্ন একটি হোটেলের সামনে পৌঁছালে মামুন (৩২), শাকিব (১৯) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বর্ষনকে মারধর করা হয় এবং মাদকদ্রব্য দিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মারধরের ঘটনায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ ও ফোলা জখম হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় বর্ষনের মা মোছা. ফৌজিয়া হক বিথী ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
ফৌজিয়া হক বিথীর অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার তাঁর ছেলে বর্ষনকে ধুনট উপজেলা সদরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে পথরোধ করে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁর কাছে থাকা নগদ ৩১ হাজার ৬৫০ টাকা ও একটি Realme 60 X মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি ধুনট থানায় জানানো হলে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেয় বলে জানান ফৌজিয়া হক বিথী।
তিনি বলেন, “আমার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সময়মতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ আবারও এমন ঘটনা ঘটত না। একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ ওঠায় আমরা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।”
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন আগে স্থানীয় এক চায়ের দোকানি আব্দুস সালামের কাছেও ১ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ধুনটে চাঁদা দাবির অভিযোগের পর ফের তরুণের টাকা-মোবাইল ছিনতাই
আশরাফুদ্দীন আল আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধি:- বগুড়ার ধুনটে চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কয়েকদিন পর ফের এক তরুণকে পথরোধ করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরপর এমন অভিযোগ ওঠায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ধুনট উপজেলা সদরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনটের এফএইচ কবির বর্ষন (১৮) গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ধুনট মডেল মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে উপজেলা গেট সংলগ্ন একটি হোটেলের সামনে পৌঁছালে মামুন (৩২), শাকিব (১৯) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বর্ষনকে মারধর করা হয় এবং মাদকদ্রব্য দিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মারধরের ঘটনায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ ও ফোলা জখম হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় বর্ষনের মা মোছা. ফৌজিয়া হক বিথী ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
ফৌজিয়া হক বিথীর অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার তাঁর ছেলে বর্ষনকে ধুনট উপজেলা সদরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে পথরোধ করে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁর কাছে থাকা নগদ ৩১ হাজার ৬৫০ টাকা ও একটি Realme 60 X মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি ধুনট থানায় জানানো হলে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেয় বলে জানান ফৌজিয়া হক বিথী।
তিনি বলেন, “আমার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সময়মতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ আবারও এমন ঘটনা ঘটত না। একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ ওঠায় আমরা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।”
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন আগে স্থানীয় এক চায়ের দোকানি আব্দুস সালামের কাছেও ১ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন