নদী বাঁচবে, তবেই বাঁচবে বাংলাদেশের খাল
মো: ছালিম আহমদ খান সমাজকর্মী চেয়ারম্যান, হাফিজ সোসিয়াল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
"খালকাটা ও বৃক্ষরোপণ" দুটিই পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এসব কর্মসূচির কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে দেশের নদ-নদীগুলোর অস্তিত্ব ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। নদী যদি দখল, দূষণ, ভরাট ও নাব্যতা সংকটে ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে, তাহলে শুধু খাল খনন বা বিপুলসংখ্যক গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন।
বাংলাদেশ মূলত নদীমাতৃক দেশ। নদীগুলো আমাদের কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন, জীববৈচিত্র্য ও ভূপ্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকলে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের সুযোগ বাড়ে, জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়তা করে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতাও বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। বিপরীতে নদী দখল ও ভরাটের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
খালকাটা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তাই পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। কোনো খাল কোথা থেকে পানি নেবে, কোথায় গিয়ে নদীর সঙ্গে যুক্ত হবে, সারা বছর সেই খালে পানির প্রবাহ থাকবে কি না এবং খননের পর সেটি দখল ও ভরাট থেকে কীভাবে রক্ষা করা হবে এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে শুধু খাল কাটলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
একইভাবে বৃক্ষরোপণও হতে হবে পরিকল্পিত। কোটি কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো উপযুক্ত প্রজাতির গাছ নির্বাচন, সঠিক জায়গায় রোপণ এবং পরবর্তী সময়ে গাছগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। নদীর তীর, জলাভূমি ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে বিবেচনায় রেখে বৃক্ষরোপণ করলে এর সুফল আরও টেকসই হতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নদীর দখল ও দূষণ বন্ধ করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল-বিল ও জলাধারগুলো সংরক্ষণ করা। একটি নদীকে বাঁচানো মানে শুধু একটি জলধারাকে রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে কৃষি, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবিকা এবং একটি বিস্তৃত পরিবেশব্যবস্থাকে রক্ষা করা।
তাই খালকাটা বা বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নদী, খাল, জলাভূমি, বন ও জীববৈচিত্র্যকে সমন্বিতভাবে সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র, নীতিনির্ধারক, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ কাজ টেকসই হবে না।
নদ-নদী বাঁচলে বাংলাদেশের পানি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বাঁচবে। আর নদী রক্ষার এই কাজ যত দ্রুত ও কার্যকরভাবে শুরু করা যাবে, ততই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বাড়বে।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
নদী বাঁচবে, তবেই বাঁচবে বাংলাদেশের খাল
মো: ছালিম আহমদ খান সমাজকর্মী চেয়ারম্যান, হাফিজ সোসিয়াল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
"খালকাটা ও বৃক্ষরোপণ" দুটিই পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এসব কর্মসূচির কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে দেশের নদ-নদীগুলোর অস্তিত্ব ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। নদী যদি দখল, দূষণ, ভরাট ও নাব্যতা সংকটে ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে, তাহলে শুধু খাল খনন বা বিপুলসংখ্যক গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন।
বাংলাদেশ মূলত নদীমাতৃক দেশ। নদীগুলো আমাদের কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন, জীববৈচিত্র্য ও ভূপ্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকলে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের সুযোগ বাড়ে, জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়তা করে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতাও বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। বিপরীতে নদী দখল ও ভরাটের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
খালকাটা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তাই পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। কোনো খাল কোথা থেকে পানি নেবে, কোথায় গিয়ে নদীর সঙ্গে যুক্ত হবে, সারা বছর সেই খালে পানির প্রবাহ থাকবে কি না এবং খননের পর সেটি দখল ও ভরাট থেকে কীভাবে রক্ষা করা হবে এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে শুধু খাল কাটলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
একইভাবে বৃক্ষরোপণও হতে হবে পরিকল্পিত। কোটি কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো উপযুক্ত প্রজাতির গাছ নির্বাচন, সঠিক জায়গায় রোপণ এবং পরবর্তী সময়ে গাছগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। নদীর তীর, জলাভূমি ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে বিবেচনায় রেখে বৃক্ষরোপণ করলে এর সুফল আরও টেকসই হতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নদীর দখল ও দূষণ বন্ধ করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল-বিল ও জলাধারগুলো সংরক্ষণ করা। একটি নদীকে বাঁচানো মানে শুধু একটি জলধারাকে রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে কৃষি, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবিকা এবং একটি বিস্তৃত পরিবেশব্যবস্থাকে রক্ষা করা।
তাই খালকাটা বা বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নদী, খাল, জলাভূমি, বন ও জীববৈচিত্র্যকে সমন্বিতভাবে সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র, নীতিনির্ধারক, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ কাজ টেকসই হবে না।
নদ-নদী বাঁচলে বাংলাদেশের পানি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বাঁচবে। আর নদী রক্ষার এই কাজ যত দ্রুত ও কার্যকরভাবে শুরু করা যাবে, ততই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বাড়বে।

আপনার মতামত লিখুন