ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সাভারে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ক গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

সাভারে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ক গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

ধামরাইয়ে প্রবাসীর বাড়িতে গ্রিল কেটে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: গৃহকর্তা আহত, আটক ২

ধামরাইয়ে প্রবাসীর বাড়িতে গ্রিল কেটে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: গৃহকর্তা আহত, আটক ২

প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ইয়াবা গডফাদার, আবারও আলোচনায় সরোয়ারের

প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ইয়াবা গডফাদার, আবারও আলোচনায় সরোয়ারের

একটি সড়কের জন্য থমকে আছে হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা নরসিংপুর-রগারপাড় বালিউরা সড়ক পিচ উঠে জেগেছে গর্ত, বৃষ্টি হলেই মরণফাঁদ'

একটি সড়কের জন্য থমকে আছে হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা নরসিংপুর-রগারপাড় বালিউরা সড়ক পিচ উঠে জেগেছে গর্ত, বৃষ্টি হলেই মরণফাঁদ'

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে পঞ্চগড়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে পঞ্চগড়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে,  পৌরসভা হচ্ছে  বারহাট্টা উপজেলা

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, পৌরসভা হচ্ছে বারহাট্টা উপজেলা

কটিয়াদীতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কটিয়াদীতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বোদায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ, উপকৃত ৫ হাজার ৮৯০ কৃষক

বোদায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ, উপকৃত ৫ হাজার ৮৯০ কৃষক

ঈদগাঁওর অলিগলিতে অবৈধ হাসপাতালের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ঈদগাঁওর অলিগলিতে অবৈধ হাসপাতালের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ঈদগাঁওর অলিগলিতে অবৈধ হাসপাতালের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

জামাল উদ্দীন  কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:- কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাহ বাজারের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনুমোদনের জন্য নামমাত্র আবেদন করে বছরের পর বছর কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। এতে একদিকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা, অন্যদিকে ভুল চিকিৎসায় ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদগাঁও বাজার ও আশপাশ এলাকায় অন্তত ১৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মাত্র ৩টি হাসপাতাল ও ১টি ল্যাব অনুমোদনপ্রাপ্ত হলেও বাকিগুলো কার্যত অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঈদগাহ মডেল হাসপাতাল, ঈদগাহ মেডিকেল অ্যান্ড হাসপাতাল, ঈদগাঁও আধুনিক হাসপাতাল এবং বাসস্টেশন এলাকার পপুলার ল্যাব। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তারাও স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা মানছে না। সি ক্যাটাগরির লাইসেন্স নিয়ে বি ক্যাটাগরির কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিছু প্রতিষ্ঠান।

এসব হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম। নেই পোস্ট-অপারেটিভ রিকভারি রুম, উন্নত অপারেশন টেবিল, অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন, মনিটর বা ভেন্টিলেটর। এমনকি দক্ষ সার্জন ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়াই করা হচ্ছে জটিল অস্ত্রোপচার।

নার্সিং সেবাতেও রয়েছে চরম সংকট। বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল অনুমোদিত কোনো ডিপ্লোমাধারী নার্স নেই অনেক প্রতিষ্ঠানে। একইভাবে ল্যাব ও এক্স-রে বিভাগেও নেই প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট। এক্স-রে মেশিনে নেই বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA)-এর অনুমোদন, ফলে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক রেডিয়েশন ঝুঁকি।

এছাড়া ইসিজি ও ইকো কার্ডিওগ্রাফির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও করানো হচ্ছে অদক্ষ কর্মচারী দিয়ে, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই চালু রয়েছে অন্তত ১৩টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে রয়েছে—আল হেরামাইন হাসপাতাল, ঈদগাহ সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল মদিনা ডক্টরস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মীম এক্স-রে সেন্টার, নাবিল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জম জম হাসপাতাল, সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দীপু প্যাথলজি, নিউরন মেডিকেল সেন্টার, আল শেফা হাসপাতাল, নিউরোসেন্স হাসপাতাল ও পেইস ল্যাবসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে মাসোহারা দিয়েই চলছে এসব অবৈধ কার্যক্রম। ফলে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, “বিষয়টি নজরে এসেছে। অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মইনুদ্দিন মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।এদিকে, নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


ঈদগাঁওর অলিগলিতে অবৈধ হাসপাতালের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঈদগাঁওর অলিগলিতে অবৈধ হাসপাতালের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

জামাল উদ্দীন  কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:- কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাহ বাজারের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনুমোদনের জন্য নামমাত্র আবেদন করে বছরের পর বছর কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। এতে একদিকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা, অন্যদিকে ভুল চিকিৎসায় ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদগাঁও বাজার ও আশপাশ এলাকায় অন্তত ১৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মাত্র ৩টি হাসপাতাল ও ১টি ল্যাব অনুমোদনপ্রাপ্ত হলেও বাকিগুলো কার্যত অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঈদগাহ মডেল হাসপাতাল, ঈদগাহ মেডিকেল অ্যান্ড হাসপাতাল, ঈদগাঁও আধুনিক হাসপাতাল এবং বাসস্টেশন এলাকার পপুলার ল্যাব। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তারাও স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা মানছে না। সি ক্যাটাগরির লাইসেন্স নিয়ে বি ক্যাটাগরির কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিছু প্রতিষ্ঠান।

এসব হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম। নেই পোস্ট-অপারেটিভ রিকভারি রুম, উন্নত অপারেশন টেবিল, অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন, মনিটর বা ভেন্টিলেটর। এমনকি দক্ষ সার্জন ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়াই করা হচ্ছে জটিল অস্ত্রোপচার।

নার্সিং সেবাতেও রয়েছে চরম সংকট। বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল অনুমোদিত কোনো ডিপ্লোমাধারী নার্স নেই অনেক প্রতিষ্ঠানে। একইভাবে ল্যাব ও এক্স-রে বিভাগেও নেই প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট। এক্স-রে মেশিনে নেই বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA)-এর অনুমোদন, ফলে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক রেডিয়েশন ঝুঁকি।

এছাড়া ইসিজি ও ইকো কার্ডিওগ্রাফির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও করানো হচ্ছে অদক্ষ কর্মচারী দিয়ে, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই চালু রয়েছে অন্তত ১৩টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে রয়েছে—আল হেরামাইন হাসপাতাল, ঈদগাহ সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল মদিনা ডক্টরস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মীম এক্স-রে সেন্টার, নাবিল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জম জম হাসপাতাল, সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দীপু প্যাথলজি, নিউরন মেডিকেল সেন্টার, আল শেফা হাসপাতাল, নিউরোসেন্স হাসপাতাল ও পেইস ল্যাবসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে মাসোহারা দিয়েই চলছে এসব অবৈধ কার্যক্রম। ফলে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, “বিষয়টি নজরে এসেছে। অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মইনুদ্দিন মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।এদিকে, নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ