ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটায় অভিযোগ কামরুল–জসিম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটায় অভিযোগ কামরুল–জসিম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

রক্ষকই ভক্ষক প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রস্তাবিত ভূমি অফিসের জমি ব্যক্তিগত লীজে

রক্ষকই ভক্ষক প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রস্তাবিত ভূমি অফিসের জমি ব্যক্তিগত লীজে

অন্ধকার রাতে সড়কের পাশে মিললো নবজাতক শিশু।

অন্ধকার রাতে সড়কের পাশে মিললো নবজাতক শিশু।

দেওয়ানগঞ্জ কৃষি কার্যক্রম সচল রাখতে কৃষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে

দেওয়ানগঞ্জ কৃষি কার্যক্রম সচল রাখতে কৃষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে

মানিকগঞ্জে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মোঃ সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ।

মানিকগঞ্জে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মোঃ সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ।

জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন, সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা

জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন, সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা

বাংলা নববর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রবাসী সাংবাদিক মোঃ হাসান আলী

বাংলা নববর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রবাসী সাংবাদিক মোঃ হাসান আলী

উখিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

উখিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

রক্ষকই ভক্ষক প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রস্তাবিত ভূমি অফিসের জমি ব্যক্তিগত লীজে

রক্ষকই ভক্ষক প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রস্তাবিত ভূমি অফিসের জমি ব্যক্তিগত লীজে

রক্ষকই ভক্ষক প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রস্তাবিত ভূমি অফিসের জমি ব্যক্তিগত লীজে

আশীষ বিশ্বাস নীলফামারী প্রতিনিধি: যে জমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রস্তাবিত, সাইনবোর্ড ছিলো, সেই জমিই শেষ পর্যন্ত নীলফামারী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নাজিরের ব্যক্তিগত লীজের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নীলফামারী নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন পুরাতন তিস্তা ক্লিনিকের পাশে, নীলফামারী বাজার মৌজাধীন এস, এ ৪০৮নং খতিয়ানের ৩৪৯নং দাগের ১৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ব্যবহারেই ছিল। একসময় এটি মুখ্য পাঠ পরিদর্শকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে পাট অধিদপ্তর স্থানটি ছেড়ে দিলে ১০ জুন ২০২০ খ্রি. তারিখের ২৪.০১.৭৩০০.০০১.০০৬.০০১.২০-৬১ নং স্মারকে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেলায়েত হোসেন ওই জায়গাটিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের জন্য নির্ধারণে উদ্যোগ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং সেখানে ‘প্রস্তাবিত ভূমি অফিস’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সেটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে জমি সরকারি অফিস স্থাপনের স্থান  ছিল। সেই জমিতেই চলতি বছরের ২৮ মার্চ থেকে ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

নথি ঘেঁটে দেখা যায়, স্মারকনংঃ ০৫.৪৭.৭৩০০.০১৬.০৯.৫/৮৬-৯০ তারিখঃ ২৪ মার্চ ২০২৬খ্রি:   তারিখে স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এস,এ শাখার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সুমনা পারভীন মিতা, একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে ৪৪/-৬৮-৬৯ ভূক্ত বাজার মৌজাধীন এস,এ ৪০৮নং খতিয়ানের ৩৪৯নং দাগের ১৫ শতক জমিতে বকেয়া লীজমানি আদায়পূর্বক সেমি-পাকা অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি দেন। প্রশ্ন উঠেছে যে, জমি সরকারি প্রয়োজনে প্রস্তাবিত ছিল, সেটিকে কী প্রক্রিয়ায় সাধারণ লীজযোগ্য জমি হিসেবে বিবেচনা করা হলো? আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই লীজের সুবিধাভোগীদের পরিচয়। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নেজারেত ডেপুটি কালেক্টর শাখার নাজির মো. মমিন তার স্ত্রী মোছা. ইসরাত জাহান মিমের নামে রাস্তা-সংলগ্ন ৫ শতক জমি লীজ নেন। একইভাবে এস,এ শাখার নাজির মনিরুজ্জামান তার স্ত্রী মোছা. রুমা বেগমের নামে রাস্তা-সংলগ্ন পূর্ব পাশের ৫ শতক জমি লীজ নেন। এছাড়া শাহীপাড়ার বাসিন্দা মো. মুহীন আনছারী দক্ষিণ পাশে ৫ শতক জমি লীজ গ্রহণ করেন। জনমনে প্রশ্ন এটি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার। বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ঘিরে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের নোটিশে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ নং বিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিধি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে সরকারি কর্মচারীর নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ক্ষমতার সুষ্ঠু ব্যবহার এবং স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলার বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। অথচ অভিযোগ উঠেছে, সেই বিধিমালাকেই কার্যত উপহাস করে প্রশাসনিক প্রভাব ও পদমর্যাদার সুবিধা ব্যবহার করে প্রস্তাবিত সরকারি জমি ব্যক্তিগত লীজে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রস্তাবিত জমি কীভাবে ব্যক্তিগত লীজে পরিণত হলো? কে বা কারা মাঠপর্যায়ে তদন্ত করলেন? কোন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেওয়া হলো? জমির সরকারি প্রস্তাবনার তথ্য কি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছিল? নাকি জেনেশুনেই ব্যক্তি-দখলের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে?

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ মলি আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে জানানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, লীজ বাতিল করা হবে এবং উক্ত জমিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬


রক্ষকই ভক্ষক প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রস্তাবিত ভূমি অফিসের জমি ব্যক্তিগত লীজে

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রক্ষকই ভক্ষক প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রস্তাবিত ভূমি অফিসের জমি ব্যক্তিগত লীজে

আশীষ বিশ্বাস নীলফামারী প্রতিনিধি: যে জমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রস্তাবিত, সাইনবোর্ড ছিলো, সেই জমিই শেষ পর্যন্ত নীলফামারী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নাজিরের ব্যক্তিগত লীজের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নীলফামারী নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন পুরাতন তিস্তা ক্লিনিকের পাশে, নীলফামারী বাজার মৌজাধীন এস, এ ৪০৮নং খতিয়ানের ৩৪৯নং দাগের ১৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ব্যবহারেই ছিল। একসময় এটি মুখ্য পাঠ পরিদর্শকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে পাট অধিদপ্তর স্থানটি ছেড়ে দিলে ১০ জুন ২০২০ খ্রি. তারিখের ২৪.০১.৭৩০০.০০১.০০৬.০০১.২০-৬১ নং স্মারকে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেলায়েত হোসেন ওই জায়গাটিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের জন্য নির্ধারণে উদ্যোগ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং সেখানে ‘প্রস্তাবিত ভূমি অফিস’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সেটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে জমি সরকারি অফিস স্থাপনের স্থান  ছিল। সেই জমিতেই চলতি বছরের ২৮ মার্চ থেকে ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

নথি ঘেঁটে দেখা যায়, স্মারকনংঃ ০৫.৪৭.৭৩০০.০১৬.০৯.৫/৮৬-৯০ তারিখঃ ২৪ মার্চ ২০২৬খ্রি:   তারিখে স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এস,এ শাখার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সুমনা পারভীন মিতা, একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে ৪৪/-৬৮-৬৯ ভূক্ত বাজার মৌজাধীন এস,এ ৪০৮নং খতিয়ানের ৩৪৯নং দাগের ১৫ শতক জমিতে বকেয়া লীজমানি আদায়পূর্বক সেমি-পাকা অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি দেন। প্রশ্ন উঠেছে যে, জমি সরকারি প্রয়োজনে প্রস্তাবিত ছিল, সেটিকে কী প্রক্রিয়ায় সাধারণ লীজযোগ্য জমি হিসেবে বিবেচনা করা হলো? আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই লীজের সুবিধাভোগীদের পরিচয়। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নেজারেত ডেপুটি কালেক্টর শাখার নাজির মো. মমিন তার স্ত্রী মোছা. ইসরাত জাহান মিমের নামে রাস্তা-সংলগ্ন ৫ শতক জমি লীজ নেন। একইভাবে এস,এ শাখার নাজির মনিরুজ্জামান তার স্ত্রী মোছা. রুমা বেগমের নামে রাস্তা-সংলগ্ন পূর্ব পাশের ৫ শতক জমি লীজ নেন। এছাড়া শাহীপাড়ার বাসিন্দা মো. মুহীন আনছারী দক্ষিণ পাশে ৫ শতক জমি লীজ গ্রহণ করেন। জনমনে প্রশ্ন এটি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার। বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ঘিরে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের নোটিশে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ নং বিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিধি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে সরকারি কর্মচারীর নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ক্ষমতার সুষ্ঠু ব্যবহার এবং স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলার বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। অথচ অভিযোগ উঠেছে, সেই বিধিমালাকেই কার্যত উপহাস করে প্রশাসনিক প্রভাব ও পদমর্যাদার সুবিধা ব্যবহার করে প্রস্তাবিত সরকারি জমি ব্যক্তিগত লীজে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রস্তাবিত জমি কীভাবে ব্যক্তিগত লীজে পরিণত হলো? কে বা কারা মাঠপর্যায়ে তদন্ত করলেন? কোন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেওয়া হলো? জমির সরকারি প্রস্তাবনার তথ্য কি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছিল? নাকি জেনেশুনেই ব্যক্তি-দখলের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে?

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ মলি আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে জানানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, লীজ বাতিল করা হবে এবং উক্ত জমিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ