ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : রোববার, ০৩ মে ২০২৬

সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় নতুন দিগন্ত:'জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি (JRIS)'

সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় নতুন দিগন্ত:'জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি (JRIS)'

গোয়ালঘরে পরিণত স্কুল ভবন, দুর্গন্ধে ক্লাস করতে বাধ্য শিক্ষার্থীরা

গোয়ালঘরে পরিণত স্কুল ভবন, দুর্গন্ধে ক্লাস করতে বাধ্য শিক্ষার্থীরা

ডিমলা সদর ইউনিয়নে জনদুর্ভোগ: ১ কিমি রাস্তার বেহাল দশায় পাঁচ গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে

ডিমলা সদর ইউনিয়নে জনদুর্ভোগ: ১ কিমি রাস্তার বেহাল দশায় পাঁচ গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে

‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিএনসি’র অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার।  ‎

‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিএনসি’র অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার। ‎

মোল্লাহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, গুরুতর আহত ২

মোল্লাহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, গুরুতর আহত ২

বদলগাছীতে বিষাক্ত সাপের দংশনে ৭ বছরের শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বদলগাছীতে বিষাক্ত সাপের দংশনে ৭ বছরের শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু

দুই উপজেলা সংযোগকারী আর্মিদিং নদীর উপর নির্মিত ব্রিজে অনিয়মের অভিযোগ

দুই উপজেলা সংযোগকারী আর্মিদিং নদীর উপর নির্মিত ব্রিজে অনিয়মের অভিযোগ

পীরগঞ্জে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ।

পীরগঞ্জে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ।

গোয়ালঘরে পরিণত স্কুল ভবন, দুর্গন্ধে ক্লাস করতে বাধ্য শিক্ষার্থীরা

গোয়ালঘরে পরিণত স্কুল ভবন, দুর্গন্ধে ক্লাস করতে বাধ্য শিক্ষার্থীরা

গোয়ালঘরে পরিণত স্কুল ভবন, দুর্গন্ধে ক্লাস করতে বাধ্য শিক্ষার্থীরা

‎মোঃ আক্তার হোসেন (সাকিল) ‎বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি:-  ‎ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ১৩৬ নং দক্ষিণ দেউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—এক সময়ের স্বাভাবিক শিক্ষাঙ্গন—আজ যেন হারিয়ে ফেলেছে তার প্রকৃত চেহারা। দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ বিদ্যালয়টি এখন স্থানীয়দের কাছে “পারিবারিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” হিসেবেই বেশি পরিচিত। আর বাস্তব চিত্র? সেটি আরও উদ্বেগজনক—বিদ্যালয়ের ভবনই পরিণত হয়েছে গরু-ছাগলের খামারে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক। পুরো ভবনের চারপাশে গরু-ছাগলের বিষ্ঠা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতেও পশুর মল-মূত্র, আর তৃতীয় তলায় একটি কক্ষের সামনে খোলা জায়গায় তিনজন শিক্ষক একত্রে ক্লাস নিচ্ছেন। দুর্গন্ধে সেখানে অবস্থান করাই কষ্টকর, অথচ সেই পরিবেশেই পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

‎বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট না থাকলেও রয়েছে পারিবারিক আধিপত্যের অভিযোগ। মোট ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনই একই পরিবারের সদস্য। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারই বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। পূর্বে বিদ্যালয়ের সভাপতিও ছিলেন ওই পরিবারের একজন সদস্য, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, তার বোন ও স্ত্রী—সবাই মিলে দায়িত্ব পালন করছেন।

‎অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিরও শেষ নেই। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অপব্যবহার, নোংরা পরিবেশে পাঠদান, সরকারি ভবন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা—সব মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

‎এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়,‎“স্কুল সবসময় নোংরা থাকে। গরু-ছাগলের ময়লা পায়ে লাগলে খুব খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে স্কুলে আসতেই ইচ্ছা করে না।”‎স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মিয়ার অভিযোগ,‎“শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেন না। অনেক সময় দুপুর ১টা-২টার মধ্যেই স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যান।”

‎এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন, “সম্প্রতি বিদ্যুতের মিটার চুরি হয়েছে, তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রামের লোকজন বর্ষার সময় নিচতলায় গরু-ছাগল বেঁধে রাখে। আমরা নিষেধ করলেও তারা শোনে না।”

‎তিনি আরও জানান, “পুরনো ভবনের চাবি আগের প্রধান শিক্ষক নিয়ে গেছেন। ফলে আমরা চাইলেও সেটি ব্যবস্থাপনায় আনতে পারছি না।”

‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭১ জন, আর শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন। তবে বাস্তব চিত্রে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম বলে জানা যায়।

‎উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনারা ভিডিও ফুটেজ পাঠান, আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” 

‎এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি—বিদ্যালয়টিকে পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করে একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্তত একটি স্বাভাবিক শিক্ষাঙ্গন ফিরে পায়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


গোয়ালঘরে পরিণত স্কুল ভবন, দুর্গন্ধে ক্লাস করতে বাধ্য শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

গোয়ালঘরে পরিণত স্কুল ভবন, দুর্গন্ধে ক্লাস করতে বাধ্য শিক্ষার্থীরা

‎মোঃ আক্তার হোসেন (সাকিল) ‎বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি:-  ‎ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ১৩৬ নং দক্ষিণ দেউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—এক সময়ের স্বাভাবিক শিক্ষাঙ্গন—আজ যেন হারিয়ে ফেলেছে তার প্রকৃত চেহারা। দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ বিদ্যালয়টি এখন স্থানীয়দের কাছে “পারিবারিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” হিসেবেই বেশি পরিচিত। আর বাস্তব চিত্র? সেটি আরও উদ্বেগজনক—বিদ্যালয়ের ভবনই পরিণত হয়েছে গরু-ছাগলের খামারে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক। পুরো ভবনের চারপাশে গরু-ছাগলের বিষ্ঠা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতেও পশুর মল-মূত্র, আর তৃতীয় তলায় একটি কক্ষের সামনে খোলা জায়গায় তিনজন শিক্ষক একত্রে ক্লাস নিচ্ছেন। দুর্গন্ধে সেখানে অবস্থান করাই কষ্টকর, অথচ সেই পরিবেশেই পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

‎বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট না থাকলেও রয়েছে পারিবারিক আধিপত্যের অভিযোগ। মোট ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনই একই পরিবারের সদস্য। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারই বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। পূর্বে বিদ্যালয়ের সভাপতিও ছিলেন ওই পরিবারের একজন সদস্য, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, তার বোন ও স্ত্রী—সবাই মিলে দায়িত্ব পালন করছেন।

‎অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিরও শেষ নেই। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অপব্যবহার, নোংরা পরিবেশে পাঠদান, সরকারি ভবন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা—সব মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

‎এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়,‎“স্কুল সবসময় নোংরা থাকে। গরু-ছাগলের ময়লা পায়ে লাগলে খুব খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে স্কুলে আসতেই ইচ্ছা করে না।”‎স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মিয়ার অভিযোগ,‎“শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেন না। অনেক সময় দুপুর ১টা-২টার মধ্যেই স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যান।”

‎এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন, “সম্প্রতি বিদ্যুতের মিটার চুরি হয়েছে, তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রামের লোকজন বর্ষার সময় নিচতলায় গরু-ছাগল বেঁধে রাখে। আমরা নিষেধ করলেও তারা শোনে না।”

‎তিনি আরও জানান, “পুরনো ভবনের চাবি আগের প্রধান শিক্ষক নিয়ে গেছেন। ফলে আমরা চাইলেও সেটি ব্যবস্থাপনায় আনতে পারছি না।”

‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭১ জন, আর শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন। তবে বাস্তব চিত্রে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম বলে জানা যায়।

‎উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনারা ভিডিও ফুটেজ পাঠান, আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” 

‎এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি—বিদ্যালয়টিকে পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করে একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্তত একটি স্বাভাবিক শিক্ষাঙ্গন ফিরে পায়।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ