গাইবান্ধায় দুদকের গণশুনানি ঘিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা:
দুর্নীতি দমনে জনসম্পৃক্ততার জোরালো আহ্বান
গাইবান্ধায় দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর উদ্যোগে গণশুনানিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক তাৎপর্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভার আয়োজন করে দুদকের সমন্বিত রংপুর জেলা কার্যালয়; এতে সহযোগিতা করে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মুশফিকুর রহমান, দুদকের উপ-পরিচালক মো. শাওন মিয়া, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এম. আব্দুস সালামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অর্ধশতাধিক গণমাধ্যমকর্মী।
সভাটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় রূপ নেয়, যেখানে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। সভায় দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১১ মে গাইবান্ধা জেলা ইনডোর স্টেডিয়ামে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শহরের পাবলিক লাইব্রেরি এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে—মোট তিনটি স্থানে অস্থায়ী অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের অভিযোগ জমা দিতে পারেন।
একইসঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গণশুনানিকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অপরদিকে, গণমাধ্যমকর্মীরা দুদকের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিরাজমান অনিয়ম, ভোগান্তি ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীতারা নানা জটিলতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন—এই গণশুনানি সেই সমস্যাগুলো প্রকাশ্যে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা আরও আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে, সেবার মান উন্নত হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সার্বিকভাবে, এই মতবিনিময় সভা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।
আশা করা যায়, আসন্ন গণশুনানি গাইবান্ধায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
গাইবান্ধায় দুদকের গণশুনানি ঘিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা:
দুর্নীতি দমনে জনসম্পৃক্ততার জোরালো আহ্বান
গাইবান্ধায় দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর উদ্যোগে গণশুনানিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক তাৎপর্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভার আয়োজন করে দুদকের সমন্বিত রংপুর জেলা কার্যালয়; এতে সহযোগিতা করে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মুশফিকুর রহমান, দুদকের উপ-পরিচালক মো. শাওন মিয়া, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এম. আব্দুস সালামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অর্ধশতাধিক গণমাধ্যমকর্মী।
সভাটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় রূপ নেয়, যেখানে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। সভায় দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১১ মে গাইবান্ধা জেলা ইনডোর স্টেডিয়ামে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শহরের পাবলিক লাইব্রেরি এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে—মোট তিনটি স্থানে অস্থায়ী অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের অভিযোগ জমা দিতে পারেন।
একইসঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গণশুনানিকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অপরদিকে, গণমাধ্যমকর্মীরা দুদকের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিরাজমান অনিয়ম, ভোগান্তি ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীতারা নানা জটিলতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন—এই গণশুনানি সেই সমস্যাগুলো প্রকাশ্যে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা আরও আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে, সেবার মান উন্নত হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সার্বিকভাবে, এই মতবিনিময় সভা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।
আশা করা যায়, আসন্ন গণশুনানি গাইবান্ধায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

আপনার মতামত লিখুন