ওসমানীনগরে ইউপিতে প্রশাসক নিয়োগ কেন অবৈধ হবে না? হাইকোর্টের রুল,স্থানীয় সরকার সচিবসহ ৭ জনকে জবাবের নির্দেশ
উপজেলা প্রতিনিধি ওসমানীনগর (সিলেট) সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বহুল আলোচিত ৬নং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য ও ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন নং-৫৭০৭/২০২৬ দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে গত ২০ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। তবে ঈদুল আজহার দীর্ঘ সরকারি ছুটির কারণে রুলের সার্টিফায়েড কপি উত্তোলনে বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের পর গত ১ জুন মো. কবির আহমদ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন দাখিল করেন।
হাইকোর্টে দাখিলকৃত রিটে মো. কবির আহমদ আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬নং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তিনি ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় এবং ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৪ জুন ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসককে পুনরায় চেয়ারম্যান প্যানেল নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেয়। একই তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমানীনগরকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে মো. কবির আহমদ হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-১৫৫৬২/২০২৫ দায়ের করেন।
উক্ত রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষে সরকার সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-৩৯৪৫/২০২৫ দায়ের করলে বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন হয়।
এদিকে বিচারাধীন অবস্থার মধ্যেই চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সরকারি ছুটির দিনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে জারিকৃত এক পত্রের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ওসমানীনগরকে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে বেআইনি এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী দাবি করে মো. কবির আহমদ গত ১২ মে পুনরায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-৫৭০৭/২০২৬ দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট স্মারক নং-০৫.৪৬-৯১০ এর মাধ্যমে জারিকৃত প্রশাসক নিয়োগের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
রিটকারী মো. কবির আহমদ বলেন, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বৈধভাবে নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যান। তিনি দাবি করেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ওসমানীনগর উপজেলায় সিসিটিভি স্থাপন প্রকল্পে ইউএনওর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন,চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তিনি পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এম. সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন,আদালতের রুলের কপি আমার হাতে পৌঁছেছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালু রাখা বা বন্ধ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাকে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমি প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
ওসমানীনগরে ইউপিতে প্রশাসক নিয়োগ কেন অবৈধ হবে না? হাইকোর্টের রুল,স্থানীয় সরকার সচিবসহ ৭ জনকে জবাবের নির্দেশ
উপজেলা প্রতিনিধি ওসমানীনগর (সিলেট) সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বহুল আলোচিত ৬নং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য ও ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন নং-৫৭০৭/২০২৬ দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে গত ২০ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। তবে ঈদুল আজহার দীর্ঘ সরকারি ছুটির কারণে রুলের সার্টিফায়েড কপি উত্তোলনে বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের পর গত ১ জুন মো. কবির আহমদ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন দাখিল করেন।
হাইকোর্টে দাখিলকৃত রিটে মো. কবির আহমদ আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬নং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তিনি ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় এবং ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৪ জুন ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসককে পুনরায় চেয়ারম্যান প্যানেল নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেয়। একই তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমানীনগরকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে মো. কবির আহমদ হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-১৫৫৬২/২০২৫ দায়ের করেন।
উক্ত রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষে সরকার সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-৩৯৪৫/২০২৫ দায়ের করলে বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন হয়।
এদিকে বিচারাধীন অবস্থার মধ্যেই চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সরকারি ছুটির দিনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে জারিকৃত এক পত্রের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ওসমানীনগরকে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে বেআইনি এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী দাবি করে মো. কবির আহমদ গত ১২ মে পুনরায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-৫৭০৭/২০২৬ দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট স্মারক নং-০৫.৪৬-৯১০ এর মাধ্যমে জারিকৃত প্রশাসক নিয়োগের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
রিটকারী মো. কবির আহমদ বলেন, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বৈধভাবে নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যান। তিনি দাবি করেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ওসমানীনগর উপজেলায় সিসিটিভি স্থাপন প্রকল্পে ইউএনওর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন,চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তিনি পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এম. সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন,আদালতের রুলের কপি আমার হাতে পৌঁছেছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালু রাখা বা বন্ধ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাকে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমি প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন