৩০ বছর ধরে ভোগদখলের জমি নিয়ে বিরোধে সরিষাবাড়ীতে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত জমিতে প্রায় ৩০ বছর ধরে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলে থাকার পরও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ক’টি পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে।
আছিয়া বেগম তার প্রতিপক্ষ আ: জুব্বার আলীর বিরুদ্ধে ২০১৬ ইং সালে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এর মোকদ্দমা নং-২৫০ ও ২৫১ নম্বর মামলাগুলো খারিজ হওয়ার পর বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ক্রিমিনাল রিভিশন মামলায় আছিয়া বেগম হেরে যান। এর পরেও প্রায় ছয় বছর পর একটি নতুন করে সাজানো মামলা বিজ্ঞ মামলা আমলে নেওয়ার সরিষাবাড়ী আদালত জামালপুরে সি আর মামলা নং- ৩৩৫(১) ২০২৬ দায়েরের অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় গতকাল রোববার ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জুব্বার আলী স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পত্রে মিথ্যা মামলা ও নানা হুমকি -ধামকি সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার , সহকারী কমিশনার(ভূমি) , সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ , সাংবাদিক সংগঠন সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাব, সরিষাবাড়ী প্রেস ক্লাব ও সরিষাবাড়ী রিপোর্টার্স ক্লাব এর নিকট আবেদন করেছেন। এ ছাড়াও আবেদনে মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং প্রশাসনের নিকট একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী সহ অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জমিতে দীর্ঘদিন আগে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাসের পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের কাছে ঘর ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। তার মৃত্যুর পর সন্তানরা ওই সম্পত্তি দেখাশোনা করে আসছেন। তবে আছিয়া বেগম বহিরাগত লোকজন নিয়ে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মরহুম আব্দুস সাত্তারের মেয়ে শাহনাজ বেগম , জামাতা আ: জুব্বার আলী ও অনান্য পরিবারের সদস্যরা।
ভুুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, শাহনাজ বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দিয়ে জমিটির একটি অংশ নিজেদের দখলে রাখেন। সেখানে বর্তমানে একটি চৌচালা টিনে ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ওই ঘরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে আছিয়া বেগমের লোকজনের হামলা ও তাণ্ডবের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে আছিয়া বেগমের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর পক্ষের লোকজন শাহনাজ বেগমের পরিবারের সদস্যদের ওপর মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, জমি নিয়ে পূর্বের মামলাগুলো আদালতে খারিজ হওয়ার প্রায় ছয় বছর পর আছিয়া বেগমের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার ওরফে আলমিনা বাদী হয়ে জুব্বার আলী কে প্রধান বিবাদী করে শাহনাজ বেগম , আলম, নাহার, নাহিদ, আসাদুল, ফারুক ও ফরহাদ সহ আট জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১২ই জুন মাসের তারিখ রোজ শুক্রবার দুপুর ৩ ঘটিকার সময় উপজেলাধীন আরামনগর ছাগল হাটি সুরাইয়া আক্তার ওরফে আলমিনার বসত ঘর দেখানো হয়েছে।
নতুন করে ওই মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শাহনাজ বেগমের পরিবারের দাবি, মামলাটি হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে নতুন করে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি নিয়ে একের পর এক মামলা, পুলিশি অভিযোগ ও ভাড়াটিয়া লোকজন দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তাঁরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আছিয়া বেগম এর মেয়ে সুরাইয়া আক্তার ওরফে আলমিনা বলেন, ওই জমিটি নানী আমার মাকে দিয়েছেন। ঘর থেকে দামী জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় আমি একা ছিলাম আমাকে মারধর করেছে কিন্ত রক্তাক্ত করেনি। অভিযোগের সত্যতা স্বাক্ষীগন আদালতে দেবে। তবে ঘরটিতে আলমিনা বসবাস করেন কিনা সে বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা স্থানীয়রা জানান তাকে বসবাস করতে দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
৩০ বছর ধরে ভোগদখলের জমি নিয়ে বিরোধে সরিষাবাড়ীতে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত জমিতে প্রায় ৩০ বছর ধরে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলে থাকার পরও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ক’টি পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে।
আছিয়া বেগম তার প্রতিপক্ষ আ: জুব্বার আলীর বিরুদ্ধে ২০১৬ ইং সালে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এর মোকদ্দমা নং-২৫০ ও ২৫১ নম্বর মামলাগুলো খারিজ হওয়ার পর বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ক্রিমিনাল রিভিশন মামলায় আছিয়া বেগম হেরে যান। এর পরেও প্রায় ছয় বছর পর একটি নতুন করে সাজানো মামলা বিজ্ঞ মামলা আমলে নেওয়ার সরিষাবাড়ী আদালত জামালপুরে সি আর মামলা নং- ৩৩৫(১) ২০২৬ দায়েরের অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় গতকাল রোববার ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জুব্বার আলী স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পত্রে মিথ্যা মামলা ও নানা হুমকি -ধামকি সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার , সহকারী কমিশনার(ভূমি) , সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ , সাংবাদিক সংগঠন সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাব, সরিষাবাড়ী প্রেস ক্লাব ও সরিষাবাড়ী রিপোর্টার্স ক্লাব এর নিকট আবেদন করেছেন। এ ছাড়াও আবেদনে মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং প্রশাসনের নিকট একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী সহ অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জমিতে দীর্ঘদিন আগে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাসের পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের কাছে ঘর ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। তার মৃত্যুর পর সন্তানরা ওই সম্পত্তি দেখাশোনা করে আসছেন। তবে আছিয়া বেগম বহিরাগত লোকজন নিয়ে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মরহুম আব্দুস সাত্তারের মেয়ে শাহনাজ বেগম , জামাতা আ: জুব্বার আলী ও অনান্য পরিবারের সদস্যরা।
ভুুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, শাহনাজ বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দিয়ে জমিটির একটি অংশ নিজেদের দখলে রাখেন। সেখানে বর্তমানে একটি চৌচালা টিনে ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ওই ঘরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে আছিয়া বেগমের লোকজনের হামলা ও তাণ্ডবের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে আছিয়া বেগমের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর পক্ষের লোকজন শাহনাজ বেগমের পরিবারের সদস্যদের ওপর মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, জমি নিয়ে পূর্বের মামলাগুলো আদালতে খারিজ হওয়ার প্রায় ছয় বছর পর আছিয়া বেগমের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার ওরফে আলমিনা বাদী হয়ে জুব্বার আলী কে প্রধান বিবাদী করে শাহনাজ বেগম , আলম, নাহার, নাহিদ, আসাদুল, ফারুক ও ফরহাদ সহ আট জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১২ই জুন মাসের তারিখ রোজ শুক্রবার দুপুর ৩ ঘটিকার সময় উপজেলাধীন আরামনগর ছাগল হাটি সুরাইয়া আক্তার ওরফে আলমিনার বসত ঘর দেখানো হয়েছে।
নতুন করে ওই মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শাহনাজ বেগমের পরিবারের দাবি, মামলাটি হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে নতুন করে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি নিয়ে একের পর এক মামলা, পুলিশি অভিযোগ ও ভাড়াটিয়া লোকজন দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তাঁরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আছিয়া বেগম এর মেয়ে সুরাইয়া আক্তার ওরফে আলমিনা বলেন, ওই জমিটি নানী আমার মাকে দিয়েছেন। ঘর থেকে দামী জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় আমি একা ছিলাম আমাকে মারধর করেছে কিন্ত রক্তাক্ত করেনি। অভিযোগের সত্যতা স্বাক্ষীগন আদালতে দেবে। তবে ঘরটিতে আলমিনা বসবাস করেন কিনা সে বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা স্থানীয়রা জানান তাকে বসবাস করতে দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন