ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

পীরগাছায় চলাচলের পথ বন্ধ: অবরুদ্ধ পরিবারের পাশে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি

পীরগাছায় চলাচলের পথ বন্ধ: অবরুদ্ধ পরিবারের পাশে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি

পীরগাছায় চলাচলের পথ বন্ধ: অবরুদ্ধ পরিবারের পাশে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি

পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে একটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথটি টিনের বেড়া দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে যাতায়াত করা পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজ গৃহেই অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী রুজিনা বেগম ও তার পরিবার। চারদিকে ঘেরাও হয়ে পড়ায় ঘর থেকে বের হওয়ার আর কোনো বিকল্প পথ নেই তাদের।

​ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৭ নম্বর সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নগরজিতপুর গ্রামে। মুক্ত চলাচলের অধিকার ফিরে পেতে ও সুবিচারের দাবিতে পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৬১৪) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

​স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, নগরজিতপুর গ্রামে গত সাড়ে তিন দশক ধরে বসবাস করছেন রোজিনা বেগম। এতদিন ধরে একটি মাত্র নির্দিষ্ট পথ দিয়েই তারা যাতায়াত করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে প্রতিপক্ষ ওই রাস্তায় টিনের বেড়া তুলে দেয়। ফলে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পরিবারটি।

​অশ্রুসিক্ত চোখে আকুতি জানিয়ে ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম বলেন, "দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমি এই এক পথ দিয়েই যাতায়াত করছি। পাওনা টাকা নিয়ে ঝামেলার কারণে আমার বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। চতুর্দিকে বেড়া, আমি এখন মাঝখানে আটকা। বাসা থেকে বের হওয়ার মতো কোনো বিকল্প পথ নেই। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি চাই।"

​তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ মহব্বত হোসেন বলেন, "কারো ক্ষতি করা বা অবরুদ্ধ রাখা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি কেবল আমার পৈতৃক ও দখলীয় জমির সীমানা সুরক্ষার জন্যই এই বেড়া দিয়েছি।"

​এদিকে চলাচলের পথ বন্ধ করে একটি পরিবারকে এভাবে আটকে রাখার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অমানবিক এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পীরগাছায় চলাচলের পথ বন্ধ: অবরুদ্ধ পরিবারের পাশে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পীরগাছায় চলাচলের পথ বন্ধ: অবরুদ্ধ পরিবারের পাশে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি

পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে একটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথটি টিনের বেড়া দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে যাতায়াত করা পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজ গৃহেই অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী রুজিনা বেগম ও তার পরিবার। চারদিকে ঘেরাও হয়ে পড়ায় ঘর থেকে বের হওয়ার আর কোনো বিকল্প পথ নেই তাদের।

​ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৭ নম্বর সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নগরজিতপুর গ্রামে। মুক্ত চলাচলের অধিকার ফিরে পেতে ও সুবিচারের দাবিতে পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৬১৪) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

​স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, নগরজিতপুর গ্রামে গত সাড়ে তিন দশক ধরে বসবাস করছেন রোজিনা বেগম। এতদিন ধরে একটি মাত্র নির্দিষ্ট পথ দিয়েই তারা যাতায়াত করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে প্রতিপক্ষ ওই রাস্তায় টিনের বেড়া তুলে দেয়। ফলে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পরিবারটি।

​অশ্রুসিক্ত চোখে আকুতি জানিয়ে ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম বলেন, "দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমি এই এক পথ দিয়েই যাতায়াত করছি। পাওনা টাকা নিয়ে ঝামেলার কারণে আমার বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। চতুর্দিকে বেড়া, আমি এখন মাঝখানে আটকা। বাসা থেকে বের হওয়ার মতো কোনো বিকল্প পথ নেই। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি চাই।"

​তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ মহব্বত হোসেন বলেন, "কারো ক্ষতি করা বা অবরুদ্ধ রাখা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি কেবল আমার পৈতৃক ও দখলীয় জমির সীমানা সুরক্ষার জন্যই এই বেড়া দিয়েছি।"

​এদিকে চলাচলের পথ বন্ধ করে একটি পরিবারকে এভাবে আটকে রাখার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অমানবিক এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ