মদনের পাহাড়পুর ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ
মোঃরাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৬ নং তিয়শ্রী ও ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাহাড়পুর ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে সড়কটি দেবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়পুর ব্রিজটি তিয়শ্রী ও ফতেপুর ইউনিয়নের মানুষের মদন উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে দুই ইউনিয়নের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাজারে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে আসা মানুষজনও এই সড়ক ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়পুর ব্রিজের পশ্চিম পাশে ব্রিজ থেকে নেমে মেইন সড়কে ওঠার অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির স্রোতে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে রাস্তার একটি অংশ দেবে গেছে। ফলে ওই পথে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়পুর ব্রিজটি অনেক পুরোনো। ব্রিজটির দুই পাশে ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংযোগ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচ ও সংযোগ সড়কের পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে বর্তমানে কৃষকদের জমিতে ধান রোপণের মৌসুম চলছে। এ সময়ে জমিতে সার, বীজধানসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ পৌঁছানো জরুরি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কৃষি উপকরণ পরিবহন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো সার ও বীজধান জমিতে পৌঁছাতে না পারলে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে শুধু কৃষকরাই নয়, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। জরুরি রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়বে। বিকল্প পথে চলাচল করতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বর্ষাকালে পানির স্রোত আরও বাড়লে সড়কের ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ব্রিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
৬ নং তিয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাব।”
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, “আমি এই বিষয়ে আপনার মাধ্যমে অবগত হয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মদন উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর সন্তান অসুস্থ থাকায় তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি তাঁর মুঠোফোন নম্বর দেন।
পরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িকভাবে মাটি ফেলে সড়কটি চলাচলের উপযোগী না করে ব্রিজ ও এর সংযোগস্থল প্রকৌশলগতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পানির স্রোতে যাতে ভবিষ্যতে মাটি সরে গিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং জরুরি ভিত্তিতে সংযোগ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর নয়, বরং বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ৬নং তিয়শ্রী ও ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
মদনের পাহাড়পুর ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ
মোঃরাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৬ নং তিয়শ্রী ও ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাহাড়পুর ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে সড়কটি দেবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়পুর ব্রিজটি তিয়শ্রী ও ফতেপুর ইউনিয়নের মানুষের মদন উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে দুই ইউনিয়নের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাজারে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে আসা মানুষজনও এই সড়ক ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়পুর ব্রিজের পশ্চিম পাশে ব্রিজ থেকে নেমে মেইন সড়কে ওঠার অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির স্রোতে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে রাস্তার একটি অংশ দেবে গেছে। ফলে ওই পথে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়পুর ব্রিজটি অনেক পুরোনো। ব্রিজটির দুই পাশে ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংযোগ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচ ও সংযোগ সড়কের পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে বর্তমানে কৃষকদের জমিতে ধান রোপণের মৌসুম চলছে। এ সময়ে জমিতে সার, বীজধানসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ পৌঁছানো জরুরি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কৃষি উপকরণ পরিবহন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো সার ও বীজধান জমিতে পৌঁছাতে না পারলে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে শুধু কৃষকরাই নয়, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। জরুরি রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়বে। বিকল্প পথে চলাচল করতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বর্ষাকালে পানির স্রোত আরও বাড়লে সড়কের ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ব্রিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
৬ নং তিয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাব।”
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, “আমি এই বিষয়ে আপনার মাধ্যমে অবগত হয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মদন উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর সন্তান অসুস্থ থাকায় তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি তাঁর মুঠোফোন নম্বর দেন।
পরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িকভাবে মাটি ফেলে সড়কটি চলাচলের উপযোগী না করে ব্রিজ ও এর সংযোগস্থল প্রকৌশলগতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পানির স্রোতে যাতে ভবিষ্যতে মাটি সরে গিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং জরুরি ভিত্তিতে সংযোগ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর নয়, বরং বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ৬নং তিয়শ্রী ও ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন