যমুনা নদীর বালু উত্তোলন নিয়ে বিএনপির দু-পক্ষের সংঘর্ষে আহত -১২
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা; ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ, বালুভর্তি বাল্কহেড জব্দ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থক দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বালুভর্তি এমবি আব্দুল্লাহ বায়েজিদ পরিবহনের একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিংনা ইউনিয়নের রসপাল মৌজায় যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সুভাষ সরকার। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি সমর্থক মাজহারুল ইসলাম মুকুল ও আনিছুর রহমান আনিছ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুভাষ সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে রসপাল মৌজা সহ কয়েকটি স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। অপরদিকে আনিছুর রহমান আনিছের পক্ষ ওই এলাকায় কৃষি জমি রক্ষায় বালু উত্তোলন করতে সুভাষের বালু উত্তোলনে বাধা দিয়ে আসছিল।ধ
শনিবার সন্ধ্যার দিকে চাষাবাদ যোগ্য কৃষি জমির এলাকা রসপাল মেীজাধ থেকে বালু উত্তোলন করা একটি বালুভর্তি বাল্কহেডকে নিয়ে আসে এবং ইঞ্জিন আগুনে পুডিয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় সুভাষ সরকারের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হন।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় সুভাষ সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাজহারুল ইসলাম মুকুল (৫৫), আনিছুর রহমান আনিছ (৪০), পিংনা ইউনিয়ন বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ মিয়া (৬০), ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য চান মিয়া (৬০), বাবু মিয়া (৩৫), হুমায়ুন (৪৫), সুভাষ সরকার (৩১), বায়েজিদ (৩৮), সামাল (৩০), শিবলু মিয়া (৩৭) ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম (৩৮)। আহতদের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আশরাফুল নাহার বৃষ্টি জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশ জব্দ করা বালুভর্তি বাল্কহেডটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মাহবুবুল, হারুন অর রশিদ ও আজম নামে তিন শ্রমিক বাল্কহেডটি নিতে গেলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সোপর্দ করে বলে জানা গেছে।
সুভাষ সরকার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজীপুর থেকে বালুভর্তি বাল্কহেডটি সরিষাবাড়ীর দিকে আসার পর সেটি পুড়িয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তার ও তার লোকজনের ওপর হামলা করা হয়। তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।
অপর পক্ষের মাজহারুল ইসলাম মুকুল ও আনিছুর রহমান আনিছ অভিযোগ করেন, সুভাষ সরকার ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে রসপাল মৌজায় জেগে ওঠা ভূমি ও কৃষকদের আবাদি জমির আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে বাধা দিতে গেলে কৃষক ও স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে—এটি সত্য। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
স্থানীয়দের দাবি, যমুনা নদী ও চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যমুনা নদীর বালু উত্তোলন নিয়ে বিএনপির দু-পক্ষের সংঘর্ষে আহত -১২
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা; ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ, বালুভর্তি বাল্কহেড জব্দ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থক দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বালুভর্তি এমবি আব্দুল্লাহ বায়েজিদ পরিবহনের একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিংনা ইউনিয়নের রসপাল মৌজায় যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সুভাষ সরকার। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি সমর্থক মাজহারুল ইসলাম মুকুল ও আনিছুর রহমান আনিছ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুভাষ সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে রসপাল মৌজা সহ কয়েকটি স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। অপরদিকে আনিছুর রহমান আনিছের পক্ষ ওই এলাকায় কৃষি জমি রক্ষায় বালু উত্তোলন করতে সুভাষের বালু উত্তোলনে বাধা দিয়ে আসছিল।ধ
শনিবার সন্ধ্যার দিকে চাষাবাদ যোগ্য কৃষি জমির এলাকা রসপাল মেীজাধ থেকে বালু উত্তোলন করা একটি বালুভর্তি বাল্কহেডকে নিয়ে আসে এবং ইঞ্জিন আগুনে পুডিয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় সুভাষ সরকারের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হন।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় সুভাষ সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাজহারুল ইসলাম মুকুল (৫৫), আনিছুর রহমান আনিছ (৪০), পিংনা ইউনিয়ন বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ মিয়া (৬০), ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য চান মিয়া (৬০), বাবু মিয়া (৩৫), হুমায়ুন (৪৫), সুভাষ সরকার (৩১), বায়েজিদ (৩৮), সামাল (৩০), শিবলু মিয়া (৩৭) ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম (৩৮)। আহতদের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আশরাফুল নাহার বৃষ্টি জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশ জব্দ করা বালুভর্তি বাল্কহেডটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মাহবুবুল, হারুন অর রশিদ ও আজম নামে তিন শ্রমিক বাল্কহেডটি নিতে গেলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সোপর্দ করে বলে জানা গেছে।
সুভাষ সরকার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজীপুর থেকে বালুভর্তি বাল্কহেডটি সরিষাবাড়ীর দিকে আসার পর সেটি পুড়িয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তার ও তার লোকজনের ওপর হামলা করা হয়। তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।
অপর পক্ষের মাজহারুল ইসলাম মুকুল ও আনিছুর রহমান আনিছ অভিযোগ করেন, সুভাষ সরকার ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে রসপাল মৌজায় জেগে ওঠা ভূমি ও কৃষকদের আবাদি জমির আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে বাধা দিতে গেলে কৃষক ও স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে—এটি সত্য। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
স্থানীয়দের দাবি, যমুনা নদী ও চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন