রংপুরের পীরগাছায় অবৈধভাবে সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ মালামাল রেখে সামান্য অংশ জব্দ করা এবং ড্রেনে ফেলে দেওয়া দুষিত তেল পুনরায় কুড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।[TECHTARANGA-POST:10696]বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পীরগাছা বাজারে অবস্থিত ‘মীম কনজ্যুমার’ নামক কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পীরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন।অভিযান সূত্র জানায়, কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সয়াবিন তেল, আটা, ওরস্যালাইন ও জুসসহ প্রায় ১৫ ধরনের ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল। আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানার মালিক মশিউর রহমানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মশিউর রহমান উপজেলার পারুল ইউনিয়নের সুন্দর এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে।[TECHTARANGA-POST:10697]এদিকে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানায় অন্তত ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ভেজাল খাদ্যপণ্য ও কাঁচামাল মজুত ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তার সামান্য অংশ জব্দ দেখিয়ে বিশাল এক অংশ কারখানার মালিক ও অসাধু ব্যবসায়ীদের জিম্মাতেই রেখে আসা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—প্রশাসনের উপস্থিতিতেই কারখানার বাইরে ফেলে দেওয়া দুষিত তেল পুনরায় কুড়িয়ে পাত্রে ভরতে দেখা গেছে, যা পরবর্তীতে বাজারজাত করার পূর্ণ সুযোগ রয়ে গেছে।[TECHTARANGA-POST:10698]অভিযানকে ‘লোকদেখানো নাটক’ আখ্যা দিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য পীরগাছাসহ আশপাশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এত বড় অপরাধে নামমাত্র জরিমানা ও স্বল্প মেয়াদের সাজা দেওয়ার পর মালামাল বাজেয়াপ্ত না করায় অসাধু চক্র আরও পার পেয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের শিথিলতায় ভেজালবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন জানান, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় অপরাধীকে সাজা ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।তবে জনস্বার্থে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এসে ভেজাল চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত কঠোর তদারকি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।