নেত্রকোণায় জমি বিরোধে প্রতিবন্ধী পরিবারের ফসল নষ্ট, হামলার অভিযোগ
মোঃ রাসেল আহমেদ নেত্রকোণা প্রতিনিধি:- নেত্রকোণা সদর উপজেলার ভূটিয়ারবাড়ি গ্রামে ফসলি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর দফায় দফায় হামলা, চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। একই গ্রামের নজরুল ইসলাম, আবু তাহের ও তাঁদের লোকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বিলকিছ আক্তার।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পৈতৃক ২৩ শতাংশ জমি নিয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। গত বছরের ৩০ আগস্ট এ বিরোধের জেরে সংঘর্ষে সাইদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং তাঁর একটি হাত ভেঙে যায়। এরপর ওই জমি দখলের পাশাপাশি আরও ৩৮ শতাংশ জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলাম ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া প্রতিবেশী আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ২০ কাঠা জমিতে চাষাবাদে বাধা দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সম্প্রতি রোপা আমন চাষ করতে গেলে ফের এক লাখ টাকা দাবি এবং ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট রাতে তাঁদের আবাদ করা ৪৫ শতাংশ জমির রোপা আমন ধানের চারা উপড়ে নষ্ট করে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গত শুক্রবার নেত্রকোণা সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিলকিছ আক্তার। পরে শনিবার নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি তাঁদের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তাঁদের আত্মীয় ও নেত্রকোণা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল মাস্টারকে একটি মামলায় হয়রানি করা হয় বলে দাবি করেন তাঁরা। পরে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, “সাইদুলদের রোপণ করা জমির ধানের চারা রাতের আঁধারে উপড়ে নষ্ট করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমি জানি না।”
অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী ললিতা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁরা কারও জমিতে চাষাবাদে বাধা দেননি।”
নেত্রকোণা সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী পরিবারের কিছু জমির ফসল নষ্ট করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে একাধিকবার ডাকা হলেও বিবাদী আবু তাহের সাড়া দেননি।”
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই পক্ষকে একাধিকবার ডাকা হলেও তাঁরা আসেননি।”

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেত্রকোণায় জমি বিরোধে প্রতিবন্ধী পরিবারের ফসল নষ্ট, হামলার অভিযোগ
মোঃ রাসেল আহমেদ নেত্রকোণা প্রতিনিধি:- নেত্রকোণা সদর উপজেলার ভূটিয়ারবাড়ি গ্রামে ফসলি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর দফায় দফায় হামলা, চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। একই গ্রামের নজরুল ইসলাম, আবু তাহের ও তাঁদের লোকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বিলকিছ আক্তার।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পৈতৃক ২৩ শতাংশ জমি নিয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। গত বছরের ৩০ আগস্ট এ বিরোধের জেরে সংঘর্ষে সাইদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং তাঁর একটি হাত ভেঙে যায়। এরপর ওই জমি দখলের পাশাপাশি আরও ৩৮ শতাংশ জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলাম ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া প্রতিবেশী আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ২০ কাঠা জমিতে চাষাবাদে বাধা দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সম্প্রতি রোপা আমন চাষ করতে গেলে ফের এক লাখ টাকা দাবি এবং ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট রাতে তাঁদের আবাদ করা ৪৫ শতাংশ জমির রোপা আমন ধানের চারা উপড়ে নষ্ট করে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গত শুক্রবার নেত্রকোণা সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিলকিছ আক্তার। পরে শনিবার নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি তাঁদের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তাঁদের আত্মীয় ও নেত্রকোণা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল মাস্টারকে একটি মামলায় হয়রানি করা হয় বলে দাবি করেন তাঁরা। পরে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, “সাইদুলদের রোপণ করা জমির ধানের চারা রাতের আঁধারে উপড়ে নষ্ট করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমি জানি না।”
অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী ললিতা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁরা কারও জমিতে চাষাবাদে বাধা দেননি।”
নেত্রকোণা সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী পরিবারের কিছু জমির ফসল নষ্ট করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে একাধিকবার ডাকা হলেও বিবাদী আবু তাহের সাড়া দেননি।”
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই পক্ষকে একাধিকবার ডাকা হলেও তাঁরা আসেননি।”

আপনার মতামত লিখুন