সরিষাবাড়ীতে জমি বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ও মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৈতৃক জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. শফিকুল ইসলাম (৫৬)। এ ঘটনায় তার পক্ষের ও ফিরাতে গিয়ে একজন সহ পাঁচজন আহত হয়েছেন ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর বেপারীপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ‘খুশুর ভিটা’ হিসেবে পরিচিত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। একই গ্রামের প্রতিবেশী মরহুম মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ওই জমি নিজেদের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জমি ছেড়ে দিতে বলছেন বলে অভিযোগ করেছেন শফিকুল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে বলে দাবি তার।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষের সাদ্দাম হোসেন, বাচ্চু মিয়া,লাভলু মিয়া,ইসমাইল হোসেন, মোমিন মহুরি, মোখলেছ ও মুক্তা মিয়াসহ আরও কয়েকজন দলবদ্ধ হয়ে শফিকুল ইসলামের গনি মিয়ার ও রফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বসতঘরের টিনের বেড়া, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, টিনের বাউন্ডারিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। দুটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি’র দাবি করেন শফিকুল।
এ ছাড়া দুটি স্টিলের বাক্স নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। তার দাবি, ওই বাক্সে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা, এবং জমি বন্ধকসংক্রান্ত ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নগদ ছিল। পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি গ্যাসের চুলার সেট ও আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ধরার জাল সব মিলিয়ে ১৩ লাখ টাকার বেশি লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে সহ তার পরিবারের সদস্য শেফালী (৬০), মনোয়ার হোসেন (২৭), রওশনারা বেগম (৬০), আব্দুল গনি (৬১) এবং ফিরাতে গিয়ে স্থানীয় আব্দুস ছোবহান মারধরের শিকার হন। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা প্রদর্শন করে জমি ছেড়ে না দিলে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
আহতদের মধ্যে রওশনারা বেগম ও আব্দুল গনি মিয়াকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য এসআই বিকাশ সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরিষাবাড়ীতে জমি বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ও মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৈতৃক জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. শফিকুল ইসলাম (৫৬)। এ ঘটনায় তার পক্ষের ও ফিরাতে গিয়ে একজন সহ পাঁচজন আহত হয়েছেন ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর বেপারীপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ‘খুশুর ভিটা’ হিসেবে পরিচিত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। একই গ্রামের প্রতিবেশী মরহুম মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ওই জমি নিজেদের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জমি ছেড়ে দিতে বলছেন বলে অভিযোগ করেছেন শফিকুল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে বলে দাবি তার।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষের সাদ্দাম হোসেন, বাচ্চু মিয়া,লাভলু মিয়া,ইসমাইল হোসেন, মোমিন মহুরি, মোখলেছ ও মুক্তা মিয়াসহ আরও কয়েকজন দলবদ্ধ হয়ে শফিকুল ইসলামের গনি মিয়ার ও রফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বসতঘরের টিনের বেড়া, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, টিনের বাউন্ডারিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। দুটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি’র দাবি করেন শফিকুল।
এ ছাড়া দুটি স্টিলের বাক্স নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। তার দাবি, ওই বাক্সে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা, এবং জমি বন্ধকসংক্রান্ত ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নগদ ছিল। পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি গ্যাসের চুলার সেট ও আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ধরার জাল সব মিলিয়ে ১৩ লাখ টাকার বেশি লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে সহ তার পরিবারের সদস্য শেফালী (৬০), মনোয়ার হোসেন (২৭), রওশনারা বেগম (৬০), আব্দুল গনি (৬১) এবং ফিরাতে গিয়ে স্থানীয় আব্দুস ছোবহান মারধরের শিকার হন। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা প্রদর্শন করে জমি ছেড়ে না দিলে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
আহতদের মধ্যে রওশনারা বেগম ও আব্দুল গনি মিয়াকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য এসআই বিকাশ সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন