ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘাটাইলের গারো বাজারে জমজমাট কলার বেচাকেনা, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

ঘাটাইলের গারো বাজারে জমজমাট কলার বেচাকেনা, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

ঘাটাইলের গারো বাজারে জমজমাট কলার বেচাকেনা, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

মমিনুর ইসলাম মিলন টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:- টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো বাজারে জমে উঠেছে কলার বেচাকেনা। কলার জন্য পরিচিত এ পাইকারি বাজারে বছরের বড় একটি সময়জুড়ে চলে জমজমাট কেনাবেচা। স্থানীয় পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের বাগান থেকে সংগ্রহ করা কলা এ বাজারে এনে বিক্রি করা হয়। পরে ট্রাকযোগে এসব কলা পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘাটাইলের লাল মাটির পাহাড়ি এলাকার মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য কলার বাগান। এসব বাগান থেকে পাকা ও কাঁচা কলা সংগ্রহ করে কৃষকেরা ভ্যান, বাইসাইকেল কিংবা মাথায় করে গারো বাজারে নিয়ে আসেন।

সপ্তাহের প্রধান হাট বসে রোববার ও বুধবার। তবে কলার মৌসুমে কমবেশি প্রতিদিনই চলে কেনাবেচা। ভোর থেকেই বাজারে আসতে শুরু করেন কৃষক ও পাইকাররা। একপর্যায়ে বিভিন্ন জাতের কলার স্তূপে ভরে ওঠে পুরো বাজার। দেশের বিভিন্ন এলাকার ফল ব্যবসায়ী ও পাইকাররা এখান থেকে কলা কিনে ট্রাকযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যান।

গারো বাজার এখন শুধু স্থানীয় কৃষকদের কলা বিক্রির স্থান নয়; এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কলা সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে কলা কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষক, আড়তদার, পাইকার, পরিবহন শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি গারো নৃগোষ্ঠীর মানুষের হাত ধরে এ হাটের উৎপত্তি। তাদের নাম অনুসারেই বাজারটির নাম হয় ‘গারো বাজার’। সময়ের সঙ্গে এখানে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ মিলেমিশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন।

গারো বাজার থেকে কেনা কলা ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ঘাটাইলের এসব কলা। এতে কৃষকের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিলশাদ জাহান বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা গারো বাজারে এসে কলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কলার ভালো বাজার পাচ্ছেন। এতে কলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং ঘাটাইলে কলার আবাদ ও উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি ও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কলার ভালো দাম পাওয়ায় তারা এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে বাজারে সংরক্ষণ, পরিবহন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গারো বাজারের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে ঘাটাইলে কলা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি বাজারকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের জীবন-জীবিকায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঘাটাইলের গারো বাজারে জমজমাট কলার বেচাকেনা, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঘাটাইলের গারো বাজারে জমজমাট কলার বেচাকেনা, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

মমিনুর ইসলাম মিলন টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:- টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো বাজারে জমে উঠেছে কলার বেচাকেনা। কলার জন্য পরিচিত এ পাইকারি বাজারে বছরের বড় একটি সময়জুড়ে চলে জমজমাট কেনাবেচা। স্থানীয় পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের বাগান থেকে সংগ্রহ করা কলা এ বাজারে এনে বিক্রি করা হয়। পরে ট্রাকযোগে এসব কলা পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘাটাইলের লাল মাটির পাহাড়ি এলাকার মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য কলার বাগান। এসব বাগান থেকে পাকা ও কাঁচা কলা সংগ্রহ করে কৃষকেরা ভ্যান, বাইসাইকেল কিংবা মাথায় করে গারো বাজারে নিয়ে আসেন।

সপ্তাহের প্রধান হাট বসে রোববার ও বুধবার। তবে কলার মৌসুমে কমবেশি প্রতিদিনই চলে কেনাবেচা। ভোর থেকেই বাজারে আসতে শুরু করেন কৃষক ও পাইকাররা। একপর্যায়ে বিভিন্ন জাতের কলার স্তূপে ভরে ওঠে পুরো বাজার। দেশের বিভিন্ন এলাকার ফল ব্যবসায়ী ও পাইকাররা এখান থেকে কলা কিনে ট্রাকযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যান।

গারো বাজার এখন শুধু স্থানীয় কৃষকদের কলা বিক্রির স্থান নয়; এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কলা সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে কলা কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষক, আড়তদার, পাইকার, পরিবহন শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি গারো নৃগোষ্ঠীর মানুষের হাত ধরে এ হাটের উৎপত্তি। তাদের নাম অনুসারেই বাজারটির নাম হয় ‘গারো বাজার’। সময়ের সঙ্গে এখানে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ মিলেমিশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন।

গারো বাজার থেকে কেনা কলা ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ঘাটাইলের এসব কলা। এতে কৃষকের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিলশাদ জাহান বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা গারো বাজারে এসে কলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কলার ভালো বাজার পাচ্ছেন। এতে কলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং ঘাটাইলে কলার আবাদ ও উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি ও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কলার ভালো দাম পাওয়ায় তারা এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে বাজারে সংরক্ষণ, পরিবহন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গারো বাজারের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে ঘাটাইলে কলা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি বাজারকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের জীবন-জীবিকায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ