ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রাম ধরলা ব্রীজে বাস ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রাম ধরলা ব্রীজে বাস ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু

বীরগঞ্জে মরহুম বজলুর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

বীরগঞ্জে মরহুম বজলুর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

রাজৈরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

রাজৈরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

জঙ্গল সলিমপুরে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান

জঙ্গল সলিমপুরে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান

জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়ীতে সংঘর্ষ, আহত -২০

জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়ীতে সংঘর্ষ, আহত -২০

সুনামগঞ্জের নতুনপাড়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অফিস উদ্বোধন করেন পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক

সুনামগঞ্জের নতুনপাড়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অফিস উদ্বোধন করেন পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক

পীরগাছায় পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বিষাক্ত ট্যাবলেট, থানায় লিখিত অভিযোগ

পীরগাছায় পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বিষাক্ত ট্যাবলেট, থানায় লিখিত অভিযোগ

ভাঙ্গুড়ায় অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয় সভা

ভাঙ্গুড়ায় অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয় সভা

ধস্তাধস্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আঙুল ভাঙে দেওয়ার অভিযোগ।

ঠাকূরগাঁওয়ে গভীর রাতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার,

ঠাকূরগাঁওয়ে গভীর রাতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার,

ঠাকূরগাঁওয়ে গভীর রাতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার,

ধস্তাধস্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আঙুল ভাঙে দেওয়ার অভিযোগ।

  মো. আরফান আলী:- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে জুয়া খেলার অভিযোগে ঠাকুূরগাঁওয়ে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে ঠাকূরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান কালে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার হাতের একটি আঙুল ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকূরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)। 

পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে ওই পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তাসের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলার অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করা হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন। তাঁর হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায় । তাকে শারীরিক ভাবে অসুস্থতার কারণে ছুটি দেয়া হয়েছে। অভিযানস্থল থেকে তাস, নগদ ৫০ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন, মটরবাইক উদ্ধারের তথ্য জানা যায়। অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) পালিয়ে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে কনস্টেবল শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । অপর সদস্য আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলার কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

 দেশে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এদিকে ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারী আইনি নথিতে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন আইনটি Public Gambling Act, 1867 রহিত করে প্রণীত এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। আইনের ৪৯ ধারায় পুরোনো আইনের অধীনে ইতোমধ্যে নেওয়া কার্যক্রম, আদেশ এবং বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে সংরক্ষণমূলক বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনের ২ ধারায় অর্থ বা মূল্যমানের বিনিময়ে কার্ড গেমসহ বিভিন্ন খেলা পরিচালনা বা অংশগ্রহণকে ‘জুয়া’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ৪ ধারায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আইনের ১৫ ধারায় জুয়ার অপরাধের জন্য অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড, অথবা অনুর্ধ্ব দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের জন্য  বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, ব্যবহার বা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭ ধারায় অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৮ ধারায় এর  জন্য অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনুর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের জন্য  বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, সরবরাহ বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৮ ধারায় অপরাধ নির্ধারণ এবং ১৯ ধারায় অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড বা অনুর্ধ্ব দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের অনধি  বিধান রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলা, তদন্ত ও আদালতের বিষয়।সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নে উঠে আসে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ৩০ ধারায় নির্দিষ্ট কর্মকর্তার অভিযোগ ছাড়া আদালত এ আইনের অধীন মামলা বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারবে না এবং ৩১ ধারায় সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনের ৩৪ ধারায় এ আইনের অধীন অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বর্তমান ঘটনায় কোন ধারায় মামলা হয়েছে এবং ১৪ সেপ্টেম্বরের সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে কোন আইনের বিধান প্রয়োগ করা হবে—তা মামলার এজাহার, তদন্ত এবং আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে। কারণ ঘটনাটি নতুন আইন প্রকাশের আগের তারিখের হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন আইন কার্যকর হয়েছে এবং এর ৪৯ ধারায় পূর্ববর্তী আইনের অধীন গৃহীত কার্যক্রম ও বিচারাধীন কার্যধারার বিষয়ে পৃথক বিধান রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই আইন প্রয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই; তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের পাশাপাশি প্রযোজ্য বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। মামলার তদন্তে জুয়ার আসরে কার কী ভূমিকা ছিল, জুয়ার অর্থের পরিমাণ, ঘটনাস্থলের ব্যবহার এবং অভিযুক্তদের প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা এসব বিষয়ও যাচাই করার কথা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মধ্য দিয়েই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঠাকূরগাঁওয়ে গভীর রাতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার,

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঠাকূরগাঁওয়ে গভীর রাতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার,

ধস্তাধস্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আঙুল ভাঙে দেওয়ার অভিযোগ।

  মো. আরফান আলী:- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে জুয়া খেলার অভিযোগে ঠাকুূরগাঁওয়ে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে ঠাকূরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান কালে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার হাতের একটি আঙুল ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকূরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)। 

পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে ওই পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তাসের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলার অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করা হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন। তাঁর হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায় । তাকে শারীরিক ভাবে অসুস্থতার কারণে ছুটি দেয়া হয়েছে। অভিযানস্থল থেকে তাস, নগদ ৫০ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন, মটরবাইক উদ্ধারের তথ্য জানা যায়। অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) পালিয়ে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে কনস্টেবল শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । অপর সদস্য আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলার কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

 দেশে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এদিকে ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারী আইনি নথিতে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন আইনটি Public Gambling Act, 1867 রহিত করে প্রণীত এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। আইনের ৪৯ ধারায় পুরোনো আইনের অধীনে ইতোমধ্যে নেওয়া কার্যক্রম, আদেশ এবং বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে সংরক্ষণমূলক বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনের ২ ধারায় অর্থ বা মূল্যমানের বিনিময়ে কার্ড গেমসহ বিভিন্ন খেলা পরিচালনা বা অংশগ্রহণকে ‘জুয়া’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ৪ ধারায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আইনের ১৫ ধারায় জুয়ার অপরাধের জন্য অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড, অথবা অনুর্ধ্ব দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের জন্য  বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, ব্যবহার বা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭ ধারায় অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৮ ধারায় এর  জন্য অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনুর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের জন্য  বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, সরবরাহ বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৮ ধারায় অপরাধ নির্ধারণ এবং ১৯ ধারায় অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড বা অনুর্ধ্ব দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের অনধি  বিধান রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলা, তদন্ত ও আদালতের বিষয়।সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নে উঠে আসে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ৩০ ধারায় নির্দিষ্ট কর্মকর্তার অভিযোগ ছাড়া আদালত এ আইনের অধীন মামলা বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারবে না এবং ৩১ ধারায় সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনের ৩৪ ধারায় এ আইনের অধীন অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বর্তমান ঘটনায় কোন ধারায় মামলা হয়েছে এবং ১৪ সেপ্টেম্বরের সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে কোন আইনের বিধান প্রয়োগ করা হবে—তা মামলার এজাহার, তদন্ত এবং আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে। কারণ ঘটনাটি নতুন আইন প্রকাশের আগের তারিখের হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন আইন কার্যকর হয়েছে এবং এর ৪৯ ধারায় পূর্ববর্তী আইনের অধীন গৃহীত কার্যক্রম ও বিচারাধীন কার্যধারার বিষয়ে পৃথক বিধান রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই আইন প্রয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই; তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের পাশাপাশি প্রযোজ্য বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। মামলার তদন্তে জুয়ার আসরে কার কী ভূমিকা ছিল, জুয়ার অর্থের পরিমাণ, ঘটনাস্থলের ব্যবহার এবং অভিযুক্তদের প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা এসব বিষয়ও যাচাই করার কথা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মধ্য দিয়েই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ