ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামে কৃষি কর্মকর্তার মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া কৃষক, ৮ দিন কারাভোগের পর দুই কৃষকের জামিন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

কুড়িগ্রামে কৃষি কর্মকর্তার মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া কৃষক, ৮ দিন কারাভোগের পর দুই কৃষকের জামিন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

চাঁদের হাটে নিষিদ্ধ পলিথিনবিরোধী অভিযান, ৩৫ কেজি পলিথিন জব্দ

চাঁদের হাটে নিষিদ্ধ পলিথিনবিরোধী অভিযান, ৩৫ কেজি পলিথিন জব্দ

বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন হানি ওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকরা

বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন হানি ওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকরা

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নদীতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নদীতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

কচুয়ায় মাদক অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ কর্মকর্তা, এলাকায় চাঞ্চল্য'

কচুয়ায় মাদক অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ কর্মকর্তা, এলাকায় চাঞ্চল্য'

UYBDS-এর কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন: সভাপতি ছালিম আহমদ , সম্পাদক সামিহা তাহসিন

UYBDS-এর কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন: সভাপতি ছালিম আহমদ , সম্পাদক সামিহা তাহসিন

গোবিন্দগঞ্জে ২০০০ পিস ইয়াবাসহ ১ মাদক কারবারি আটক

গোবিন্দগঞ্জে ২০০০ পিস ইয়াবাসহ ১ মাদক কারবারি আটক

তুরাগে ছয় রিকশাচালকের হাতে অটোরিকশার চাবি তুলে দিলেন হাজী চান মিয়া

তুরাগে ছয় রিকশাচালকের হাতে অটোরিকশার চাবি তুলে দিলেন হাজী চান মিয়া

কুড়িগ্রামে কৃষি কর্মকর্তার মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া কৃষক, ৮ দিন কারাভোগের পর দুই কৃষকের জামিন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

কুড়িগ্রামে কৃষি কর্মকর্তার মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া কৃষক, ৮ দিন কারাভোগের পর দুই কৃষকের জামিন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

কুড়িগ্রামে কৃষি কর্মকর্তার মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া কৃষক, ৮ দিন কারাভোগের পর দুই কৃষকের জামিন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে সরকারি কাজে বাধা ও কৃষি কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করার মামলায় 

কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মামলার আসামি হয়ে কেউ ঘরছাড়া, আবার দুই কৃষক আট দিন কারাভোগের পর জামিনে বাড়ি ফিরেছেন। 

তাদের অভিযোগ, চাহিদামতো সার চাইতেই আজ তারা আসামি হয়েছেন। তবে কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার দিন গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকার বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সার ঘরে সার বিতরণ কালে এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  আবদুল জব্বার বাদি হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

উপজেলার গনাইয়েরকুটি মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মোল্লা (৩৮) গত (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার স্ত্রী শিউলী বেগম বলেন, আমার স্বামী শুধু সার চাইতে গিয়েছিলেন। এখন তিনি ঘরছাড়া। জমির ফসলের দেখভাল করার কেউ নেই। টাকার অভাবে জামিনও করাতে পারছি না।

একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া কৃষক আল আমিন মোল্লা (৪৭) আট দিন জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। শুধু সার চেয়েছিলাম। সারের জন্য জেল খাটতে হয়েছে, এই কষ্ট কোনো দিন ভুলতে পারব না।

তার স্ত্রী রওশান আরা বেগম বলেন, স্বামীকে মুক্ত করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। জেল থেকে ফেরার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

আরেক কৃষক সুরুজ মিয়া (৪৫) বলেন, আমরা বিক্ষোভ করেছি, কিন্তু কৃষি কর্মকর্তার গায়ে কেউ হাত দেয়নি। দেশের জন্য ফসল ফলাতে গিয়ে জেল খাটতে হয়েছে। এখন কৃষিকাজে মন বসে না।

স্থানীয় কৃষক কলিম উদ্দিন জানান, তার ভাইসহ অনেক কৃষক গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। দিনে ভয় নিয়ে খেতে কাজ করি, রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। পুলিশ দেখলেই ভয় লাগে।

বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, মামলার পর কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। অনেকেই বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।  সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লাও অজ্ঞাত আসামিদের নাম বাদ দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, সার বিতরণের সময় উসকানিতে বিক্ষোভ হয়। আমাকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে। তাই ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছি।

ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, দুইজন গ্রেফতার হয়েছেন। এরপর আর কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। যারা দোষী নন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুড়িগ্রামে কৃষি কর্মকর্তার মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া কৃষক, ৮ দিন কারাভোগের পর দুই কৃষকের জামিন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামে কৃষি কর্মকর্তার মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া কৃষক, ৮ দিন কারাভোগের পর দুই কৃষকের জামিন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে সরকারি কাজে বাধা ও কৃষি কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করার মামলায় 

কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মামলার আসামি হয়ে কেউ ঘরছাড়া, আবার দুই কৃষক আট দিন কারাভোগের পর জামিনে বাড়ি ফিরেছেন। 

তাদের অভিযোগ, চাহিদামতো সার চাইতেই আজ তারা আসামি হয়েছেন। তবে কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার দিন গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকার বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সার ঘরে সার বিতরণ কালে এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  আবদুল জব্বার বাদি হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

উপজেলার গনাইয়েরকুটি মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মোল্লা (৩৮) গত (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার স্ত্রী শিউলী বেগম বলেন, আমার স্বামী শুধু সার চাইতে গিয়েছিলেন। এখন তিনি ঘরছাড়া। জমির ফসলের দেখভাল করার কেউ নেই। টাকার অভাবে জামিনও করাতে পারছি না।

একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া কৃষক আল আমিন মোল্লা (৪৭) আট দিন জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। শুধু সার চেয়েছিলাম। সারের জন্য জেল খাটতে হয়েছে, এই কষ্ট কোনো দিন ভুলতে পারব না।

তার স্ত্রী রওশান আরা বেগম বলেন, স্বামীকে মুক্ত করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। জেল থেকে ফেরার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

আরেক কৃষক সুরুজ মিয়া (৪৫) বলেন, আমরা বিক্ষোভ করেছি, কিন্তু কৃষি কর্মকর্তার গায়ে কেউ হাত দেয়নি। দেশের জন্য ফসল ফলাতে গিয়ে জেল খাটতে হয়েছে। এখন কৃষিকাজে মন বসে না।

স্থানীয় কৃষক কলিম উদ্দিন জানান, তার ভাইসহ অনেক কৃষক গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। দিনে ভয় নিয়ে খেতে কাজ করি, রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। পুলিশ দেখলেই ভয় লাগে।

বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, মামলার পর কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। অনেকেই বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।  সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লাও অজ্ঞাত আসামিদের নাম বাদ দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, সার বিতরণের সময় উসকানিতে বিক্ষোভ হয়। আমাকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে। তাই ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছি।

ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, দুইজন গ্রেফতার হয়েছেন। এরপর আর কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। যারা দোষী নন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণে কাজ করছে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ