ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীতে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ৮ ঘণ্টায় উদ্ধার

পটুয়াখালীতে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ৮ ঘণ্টায় উদ্ধার

পটুয়াখালীতে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ৮ ঘণ্টায় উদ্ধার

অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে ১২ বছরের এক মেয়ে শিশুকে অপহরণের আট ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো. শাহ জামাল (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে শিশুটিকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গে নিয়ে যান শাহ জামাল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দুমকির পাগলার মোড় বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শাহ জামালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি দুমকি থানায় জানান তারা।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার, পটুয়াখালীর নির্দেশনায় দুমকি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। পুলিশ পাগলার মোড়, পায়রা সেতুর টোলপ্লাজাসহ আশপাশের শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহ জামালের গতিবিধি শনাক্ত করে।

পরে দুমকি থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে SRB-১০-এর সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় শাহ জামালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহ জামাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা এবং সৌদি আরবপ্রবাসী। প্রায় তিন মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে থাকাকালে ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দেশে ফেরার পরও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহ জামাল ওই পরিবারের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২ অক্টোবর ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যান তিনি।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ অক্টোবর দুমকি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৭/৩০ ধারায় মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-০২।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ জামাল অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


পটুয়াখালীতে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ৮ ঘণ্টায় উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীতে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ৮ ঘণ্টায় উদ্ধার

অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে ১২ বছরের এক মেয়ে শিশুকে অপহরণের আট ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো. শাহ জামাল (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে শিশুটিকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গে নিয়ে যান শাহ জামাল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দুমকির পাগলার মোড় বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শাহ জামালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি দুমকি থানায় জানান তারা।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার, পটুয়াখালীর নির্দেশনায় দুমকি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। পুলিশ পাগলার মোড়, পায়রা সেতুর টোলপ্লাজাসহ আশপাশের শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহ জামালের গতিবিধি শনাক্ত করে।

পরে দুমকি থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে SRB-১০-এর সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় শাহ জামালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহ জামাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা এবং সৌদি আরবপ্রবাসী। প্রায় তিন মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে থাকাকালে ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দেশে ফেরার পরও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহ জামাল ওই পরিবারের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২ অক্টোবর ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যান তিনি।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ অক্টোবর দুমকি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৭/৩০ ধারায় মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-০২।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ জামাল অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ