মানুষের স্বভাব পরিবর্তন অসম্ভব নয়: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, মানুষের চরিত্র বা স্বভাব পরিবর্তন হওয়া কঠিন হলেও তা একেবারেই অসম্ভব নয়। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী-র এই উক্তিটি মানুষের আত্মশুদ্ধি এবং স্বভাব সংশোধনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রেরণামূলক বার্তা বহন করে।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী-র আলোচনা থেকে এই দর্শনের মূল ভাবনাসমূহ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১.অভ্যাস ও চর্চার ভূমিকা: মানুষের জন্মগত বা দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা স্বভাব সহজে বদলায় না ঠিকই, তবে নিয়মিত ভালো কাজের অভ্যাস এবং সদাচারের মাধ্যমে খারাপ আচরণগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
২. ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও খোদাভীতি: দুধরচকী, উল্লেখ করেন যে, সৎ গুণাবলী অর্জনের অন্যতম প্রধান পন্থা হলো খোদাভীতি বা আল্লাহর ভয় এবং ইসলামী শিক্ষা ও বিধানের সঠিক অনুসরণ। আল্লাহর প্রতি আনুগত্য মানুষের ভেতরের কলুষতা দূর করতে সাহায্য করে।
৩. প্রচেষ্টা ও জান্নাতের পথ: সুন্দর ব্যবহার ও আচরণকে ইসলামের একটি বড় ইবাদত হিসেবে দেখা হয়। একজন মানুষ যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে, তবে তার ভেতরের নিকৃষ্ট স্বভাবগুলোকে দমন করে নিজেকে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, স্বভাব পরিবর্তন করা একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠিন যুদ্ধ হলেও দৃঢ় ইচ্ছা, সঠিক পরিবেশ এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে যেকোনো মানুষ নিজেকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
মানুষের চরিত্র বা স্বভাব পরিবর্তন হওয়া নিয়ে সমাজে দুই ধরণের মতবাদই প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন "মানুষের স্বভাব সহজে বদলায় না", আবার অনেকের বিশ্বাস সঠিক অনুশোচনা ও অভ্যাসের মাধ্যমে চরিত্র সংশোধন সম্ভব।
চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এবং মনস্তত্ত্ব যা বলে, তা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
৪.আচরণ পরিবর্তনযোগ্য: মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্ক পরিবর্তনশীল (Neuroplasticity)। কোনো মানুষ যদি মন থেকে চায় এবং নিয়মিত চেষ্টা করে, তবে সে তার পুরনো ক্ষতিকর অভ্যাস ও আচরণ বদলে নতুন ইতিবাচক চরিত্র গড়ে তুলতে পারে।
৫. ইচ্ছাশক্তি ও অনুশোচনা: পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হলো নিজের ভুল বুঝতে পারা। যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ভুল কাজের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয় এবং নিজে থেকে বদলাতে চায়, তবেই তার পক্ষে চরিত্র ঠিক করা সম্ভব।
৬. পারিপার্শ্বিক প্রভাব: একজন মানুষ কেমন পরিবেশে থাকছে এবং কাদের সাথে মেলামেশা করছে, তার ওপর তার স্বভাবের পরিবর্তন অনেকখানি নির্ভর করে। ভালো সঙ্গ ও ইতিবাচক পরিবেশ চরিত্র সংশোধনে বড় ভূমিকা রাখে।
৭. জোর করে পরিবর্তন অসম্ভব: বাইরের কোনো মানুষের চাপে বা অনুরোধে কেউ সাময়িকভাবে নিজেকে ভালো দেখালেও, ভেতর থেকে নিজে পরিবর্তন না হলে সেই পরিবর্তন স্থায়ী হয় না।
তাই বলা যায়, চরিত্র ঠিক হওয়া কঠিন হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তীব্র ইচ্ছাশক্তি ও সততার প্রয়োজন হয়।
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
মানুষের স্বভাব পরিবর্তন অসম্ভব নয়: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, মানুষের চরিত্র বা স্বভাব পরিবর্তন হওয়া কঠিন হলেও তা একেবারেই অসম্ভব নয়। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী-র এই উক্তিটি মানুষের আত্মশুদ্ধি এবং স্বভাব সংশোধনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রেরণামূলক বার্তা বহন করে।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী-র আলোচনা থেকে এই দর্শনের মূল ভাবনাসমূহ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১.অভ্যাস ও চর্চার ভূমিকা: মানুষের জন্মগত বা দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা স্বভাব সহজে বদলায় না ঠিকই, তবে নিয়মিত ভালো কাজের অভ্যাস এবং সদাচারের মাধ্যমে খারাপ আচরণগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
২. ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও খোদাভীতি: দুধরচকী, উল্লেখ করেন যে, সৎ গুণাবলী অর্জনের অন্যতম প্রধান পন্থা হলো খোদাভীতি বা আল্লাহর ভয় এবং ইসলামী শিক্ষা ও বিধানের সঠিক অনুসরণ। আল্লাহর প্রতি আনুগত্য মানুষের ভেতরের কলুষতা দূর করতে সাহায্য করে।
৩. প্রচেষ্টা ও জান্নাতের পথ: সুন্দর ব্যবহার ও আচরণকে ইসলামের একটি বড় ইবাদত হিসেবে দেখা হয়। একজন মানুষ যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে, তবে তার ভেতরের নিকৃষ্ট স্বভাবগুলোকে দমন করে নিজেকে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, স্বভাব পরিবর্তন করা একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠিন যুদ্ধ হলেও দৃঢ় ইচ্ছা, সঠিক পরিবেশ এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে যেকোনো মানুষ নিজেকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
মানুষের চরিত্র বা স্বভাব পরিবর্তন হওয়া নিয়ে সমাজে দুই ধরণের মতবাদই প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন "মানুষের স্বভাব সহজে বদলায় না", আবার অনেকের বিশ্বাস সঠিক অনুশোচনা ও অভ্যাসের মাধ্যমে চরিত্র সংশোধন সম্ভব।
চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এবং মনস্তত্ত্ব যা বলে, তা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
৪.আচরণ পরিবর্তনযোগ্য: মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্ক পরিবর্তনশীল (Neuroplasticity)। কোনো মানুষ যদি মন থেকে চায় এবং নিয়মিত চেষ্টা করে, তবে সে তার পুরনো ক্ষতিকর অভ্যাস ও আচরণ বদলে নতুন ইতিবাচক চরিত্র গড়ে তুলতে পারে।
৫. ইচ্ছাশক্তি ও অনুশোচনা: পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হলো নিজের ভুল বুঝতে পারা। যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ভুল কাজের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয় এবং নিজে থেকে বদলাতে চায়, তবেই তার পক্ষে চরিত্র ঠিক করা সম্ভব।
৬. পারিপার্শ্বিক প্রভাব: একজন মানুষ কেমন পরিবেশে থাকছে এবং কাদের সাথে মেলামেশা করছে, তার ওপর তার স্বভাবের পরিবর্তন অনেকখানি নির্ভর করে। ভালো সঙ্গ ও ইতিবাচক পরিবেশ চরিত্র সংশোধনে বড় ভূমিকা রাখে।
৭. জোর করে পরিবর্তন অসম্ভব: বাইরের কোনো মানুষের চাপে বা অনুরোধে কেউ সাময়িকভাবে নিজেকে ভালো দেখালেও, ভেতর থেকে নিজে পরিবর্তন না হলে সেই পরিবর্তন স্থায়ী হয় না।
তাই বলা যায়, চরিত্র ঠিক হওয়া কঠিন হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তীব্র ইচ্ছাশক্তি ও সততার প্রয়োজন হয়।
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।

আপনার মতামত লিখুন