পীরগাছায় জে এন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ
প্রধান শিক্ষকের নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ: ৬০০ অভিভাবকের মধ্যে এলেন মাত্র ৫০, অধিকাংশের অনুষ্ঠান বর্জন!
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:- রংপুরের পীরগাছা জ্ঞানেন্দ্র নারায়ণ (জে এন) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নানাবিধ অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষাব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে মূলতঃ অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন সিংহভাগ অভিভাবক। বিদ্যালয়ের প্রায় ছয় শতাধিক অভিভাবককে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন। এতে করে বিদ্যালয়টির অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সম্পা রাণী রায়ের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিক হাসান তাহসিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু তাহের আলী, পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা, পীরগাছা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান রেজা এবং উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আবদুল্লাহ আল মামুন।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রভাষক আহম্মদ হোসেন এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও হাফিজার রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের ক্ষোভ, উপস্থিতি মাত্র ৫০: তবে বাহ্যিক এই আলোচনার আড়ালে সমাবেশকে ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র ক্ষোভ। সমাবেশ শেষে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অনিয়মের কারণে অভিভাবকরা চরম বিরক্ত। সে কারণেই প্রায় সাড়ে পাঁচশত অভিভাবক আজকের এই অনুষ্ঠান একপ্রকার বর্জন করেছেন। ৬০০ জনের জায়গায় মাত্র ৪০-৫০ জনের উপস্থিতিই প্রমাণ করে সাধারণ অভিভাবকরা বর্তমান প্রধান শিক্ষকের সার্বিক কর্মকাণ্ডে কতটা অসন্তুষ্ট।"
অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সম্পা রাণী রায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম দেখা দিয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশও তাঁর এসব বিতর্কিত ভূমিকা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিভাবকদের বিশাল অংশ উপস্থিত না থাকায় ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির শিক্ষা পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সম্পা রাণী রায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
পীরগাছায় জে এন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ
প্রধান শিক্ষকের নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ: ৬০০ অভিভাবকের মধ্যে এলেন মাত্র ৫০, অধিকাংশের অনুষ্ঠান বর্জন!
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:- রংপুরের পীরগাছা জ্ঞানেন্দ্র নারায়ণ (জে এন) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নানাবিধ অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষাব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে মূলতঃ অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন সিংহভাগ অভিভাবক। বিদ্যালয়ের প্রায় ছয় শতাধিক অভিভাবককে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন। এতে করে বিদ্যালয়টির অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সম্পা রাণী রায়ের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিক হাসান তাহসিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু তাহের আলী, পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা, পীরগাছা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান রেজা এবং উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আবদুল্লাহ আল মামুন।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রভাষক আহম্মদ হোসেন এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও হাফিজার রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের ক্ষোভ, উপস্থিতি মাত্র ৫০: তবে বাহ্যিক এই আলোচনার আড়ালে সমাবেশকে ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র ক্ষোভ। সমাবেশ শেষে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অনিয়মের কারণে অভিভাবকরা চরম বিরক্ত। সে কারণেই প্রায় সাড়ে পাঁচশত অভিভাবক আজকের এই অনুষ্ঠান একপ্রকার বর্জন করেছেন। ৬০০ জনের জায়গায় মাত্র ৪০-৫০ জনের উপস্থিতিই প্রমাণ করে সাধারণ অভিভাবকরা বর্তমান প্রধান শিক্ষকের সার্বিক কর্মকাণ্ডে কতটা অসন্তুষ্ট।"
অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সম্পা রাণী রায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম দেখা দিয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশও তাঁর এসব বিতর্কিত ভূমিকা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিভাবকদের বিশাল অংশ উপস্থিত না থাকায় ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির শিক্ষা পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সম্পা রাণী রায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন