চাঁদপুরের পাটোয়ারী বাজারে জমি-ভবন বিক্রির বায়না নিয়ে বিরোধ, হামলার অভিযোগ
চাঁদপুর প্রতিনিধি:- চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বালিথুবা ইউনিয়নের পাটোয়ারী বাজারে জমি ও ভবন বিক্রির বায়নানামা অনুযায়ী সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বিক্রেতা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি গত ১২ অক্টোবর এ বিরোধের জেরে তাঁর ওপর হামলার অভিযোগও করেছেন তিনি।
ক্রেতাপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পাটোয়ারী বাজারের একটি জমি ও ভবন কেনার বিষয়ে মিজানুর রহমানের সঙ্গে শরিফুল ইসলামের আলোচনা হয়। সম্পত্তিটি ব্যাংকে বন্ধক থাকায় ব্যাংকঋণ-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য উভয় পক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বায়নানামা সম্পাদন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই সময় বিক্রয়মূল্যের একটি অংশ বায়না হিসেবে দেওয়া হয় বলেও জানান ক্রেতাপক্ষ।
শরিফুল ইসলামের দাবি, বায়নানামা সম্পাদনের সময় এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও পরে বিক্রেতা আরও সময় চান। ঋণের ১০ লাখ টাকা মওকুফের আবেদন করেছেন বলে জানিয়ে তিনি অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন। ক্রেতাপক্ষ মানবিক বিবেচনায় তাঁকে সময় দিলেও পরবর্তী কয়েক মাসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও বুঝে পাননি বলে অভিযোগ করেন শরিফুল ইসলাম।
ক্রেতাপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি সমাধানের জন্য বিক্রেতার পরিবারের সদস্য ও বায়নানামার সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে পাটোয়ারী বাজার কমিটির সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমান ঢাকায় শরিফুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আগস্ট মাসের ৩ বা ৪ তারিখের মধ্যে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন শরিফুল ইসলাম। তবে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করা হলে বিক্রেতা সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শরিফুল ইসলামের দাবি, সম্পত্তিটি ব্যাংকে বন্ধক থাকায় ক্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তবে অভিযোগের কপি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য কিংবা এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গত ১২ অক্টোবর সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন শরিফুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির পাশের কয়েকজন ব্যক্তি মিজানুর রহমানের ছেলের দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়ে সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শরিফুল ইসলামও বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে মোস্তফা, হাবিব, বাহার ও মোরশেদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের বক্তব্য, আহত ব্যক্তিদের পরিচয়, চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য এবং এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্পত্তি রেজিস্ট্রি নিয়ে বিরোধ এবং ১২ অক্টোবরের ঘটনার বিষয়ে বিক্রেতা মিজানুর রহমান, তাঁর ছেলে ও অভিযোগে নাম আসা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা গেলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদপুরের পাটোয়ারী বাজারে জমি-ভবন বিক্রির বায়না নিয়ে বিরোধ, হামলার অভিযোগ
চাঁদপুর প্রতিনিধি:- চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বালিথুবা ইউনিয়নের পাটোয়ারী বাজারে জমি ও ভবন বিক্রির বায়নানামা অনুযায়ী সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বিক্রেতা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি গত ১২ অক্টোবর এ বিরোধের জেরে তাঁর ওপর হামলার অভিযোগও করেছেন তিনি।
ক্রেতাপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পাটোয়ারী বাজারের একটি জমি ও ভবন কেনার বিষয়ে মিজানুর রহমানের সঙ্গে শরিফুল ইসলামের আলোচনা হয়। সম্পত্তিটি ব্যাংকে বন্ধক থাকায় ব্যাংকঋণ-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য উভয় পক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বায়নানামা সম্পাদন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই সময় বিক্রয়মূল্যের একটি অংশ বায়না হিসেবে দেওয়া হয় বলেও জানান ক্রেতাপক্ষ।
শরিফুল ইসলামের দাবি, বায়নানামা সম্পাদনের সময় এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও পরে বিক্রেতা আরও সময় চান। ঋণের ১০ লাখ টাকা মওকুফের আবেদন করেছেন বলে জানিয়ে তিনি অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন। ক্রেতাপক্ষ মানবিক বিবেচনায় তাঁকে সময় দিলেও পরবর্তী কয়েক মাসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও বুঝে পাননি বলে অভিযোগ করেন শরিফুল ইসলাম।
ক্রেতাপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি সমাধানের জন্য বিক্রেতার পরিবারের সদস্য ও বায়নানামার সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে পাটোয়ারী বাজার কমিটির সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমান ঢাকায় শরিফুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আগস্ট মাসের ৩ বা ৪ তারিখের মধ্যে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন শরিফুল ইসলাম। তবে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করা হলে বিক্রেতা সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শরিফুল ইসলামের দাবি, সম্পত্তিটি ব্যাংকে বন্ধক থাকায় ক্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তবে অভিযোগের কপি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য কিংবা এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গত ১২ অক্টোবর সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন শরিফুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির পাশের কয়েকজন ব্যক্তি মিজানুর রহমানের ছেলের দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়ে সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শরিফুল ইসলামও বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে মোস্তফা, হাবিব, বাহার ও মোরশেদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের বক্তব্য, আহত ব্যক্তিদের পরিচয়, চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য এবং এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্পত্তি রেজিস্ট্রি নিয়ে বিরোধ এবং ১২ অক্টোবরের ঘটনার বিষয়ে বিক্রেতা মিজানুর রহমান, তাঁর ছেলে ও অভিযোগে নাম আসা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা গেলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন