দুমকিতে ৮৫০ মিটার সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও রোগীরা
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:- পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ২৫ বছরেও সংস্কার হয়নি ৮৫০ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক। ইটের সলিং উঠে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে সাত-আটটি গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সড়কটি দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বার বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির অধিকাংশ স্থানে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ৫৭৮৯৫৪১১৪ আইডি নম্বরের ৮৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি ২০০১ সালে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ২৫ বছরেও এর সংস্কার হয়নি।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রোগীদের কোলে কিংবা খাটিয়ায় করে বহন করতে হয়। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে পথচারীদেরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সড়কের বেহাল অবস্থায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের চলাচলে বাড়তি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল খান বলেন, “আমরা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করছি। বছরের পর বছর সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয় ভ্যানচালক মনির হোসেন বলেন, “উপজেলা সদরের এত কাছে হয়েও রাস্তাটির এমন অবস্থা। ভ্যান নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানাই।”
জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম নিজের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলে, “আমরা এমনিতেই প্রতিবন্ধী। চলাফেরা করতে অনেক কষ্ট হয়। তার ওপর রাস্তা ভাঙা থাকায় স্কুলে যেতে আরও কষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি, রাস্তাটি পাকা করে দিন, যাতে আমরা গাড়িতে করে স্কুলে যেতে পারি।”
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মঈনুল আজম বলেন, সড়কটি জেলার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) অন্তর্ভুক্ত থাকায় এত দিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই নতুন ডিপিপি তৈরি হচ্ছে। এতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত হলে দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়কটির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াত সহজ করা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
দুমকিতে ৮৫০ মিটার সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও রোগীরা
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:- পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ২৫ বছরেও সংস্কার হয়নি ৮৫০ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক। ইটের সলিং উঠে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে সাত-আটটি গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সড়কটি দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বার বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির অধিকাংশ স্থানে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ৫৭৮৯৫৪১১৪ আইডি নম্বরের ৮৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি ২০০১ সালে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ২৫ বছরেও এর সংস্কার হয়নি।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রোগীদের কোলে কিংবা খাটিয়ায় করে বহন করতে হয়। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে পথচারীদেরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সড়কের বেহাল অবস্থায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের চলাচলে বাড়তি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল খান বলেন, “আমরা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করছি। বছরের পর বছর সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয় ভ্যানচালক মনির হোসেন বলেন, “উপজেলা সদরের এত কাছে হয়েও রাস্তাটির এমন অবস্থা। ভ্যান নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানাই।”
জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম নিজের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলে, “আমরা এমনিতেই প্রতিবন্ধী। চলাফেরা করতে অনেক কষ্ট হয়। তার ওপর রাস্তা ভাঙা থাকায় স্কুলে যেতে আরও কষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি, রাস্তাটি পাকা করে দিন, যাতে আমরা গাড়িতে করে স্কুলে যেতে পারি।”
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মঈনুল আজম বলেন, সড়কটি জেলার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) অন্তর্ভুক্ত থাকায় এত দিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই নতুন ডিপিপি তৈরি হচ্ছে। এতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত হলে দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়কটির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াত সহজ করা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন