দেওয়ানগঞ্জে বিরূপ আবহাওয়ায় মরিচের ব্যাপক ক্ষতি, লোকসানে চাষিরা
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মোখলেছুর রহমান :- বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদিত মরিচের প্রায় ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং গুণগত মান কমে যাওয়ায় অর্ধেক দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এতে উপজেলার প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মরিচচাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দেওয়ানগঞ্জে মোট কৃষক পরিবার রয়েছে ৫২ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যাই বেশি। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৪৬০ হেক্টরে। ফলনও শুরুতে ভালো ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকেরা জানান, সাধারণত আশ্বিন-কার্তিক মাসে মরিচের বীজ বপন করা হয় এবং ফাল্গুন-চৈত্রে ফল সংগ্রহ করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০ থেকে ১২ মণ মরিচ উৎপাদন সম্ভব। বাজারে ভালো মানের মরিচ প্রতি মণ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবার আবহাওয়ার কারণে বড় অংশের মরিচের রং নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এসব মরিচ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মাইছানির চর এলাকার চাষি আবুল হোসেন বলেন, মরিচ চাষে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হলেও ভালো ফলন হলে লাভ হয়। কিন্তু এ বছর মরিচ শুকানোর সময় বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
ফারাজীপাড়া গ্রামের চাষি আনিছুর রহমান জানান, তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষে তাঁর প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রায় ৪০ শতাংশ মরিচের গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না।
পোল্যাকান্দি এলাকার কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, শেষ সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে মরিচের মান নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে এসব মরিচের চাহিদা কম থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, চলতি বছর মরিচের উৎপাদন ভালো হলেও পাকা মরিচ শুকানোর সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ মরিচের গুণগত মান নষ্ট হয়েছে। ফলে কৃষকদের অর্ধেক দামে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উপজেলায় প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
দেওয়ানগঞ্জে বিরূপ আবহাওয়ায় মরিচের ব্যাপক ক্ষতি, লোকসানে চাষিরা
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মোখলেছুর রহমান :- বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদিত মরিচের প্রায় ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং গুণগত মান কমে যাওয়ায় অর্ধেক দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এতে উপজেলার প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মরিচচাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দেওয়ানগঞ্জে মোট কৃষক পরিবার রয়েছে ৫২ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যাই বেশি। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৪৬০ হেক্টরে। ফলনও শুরুতে ভালো ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকেরা জানান, সাধারণত আশ্বিন-কার্তিক মাসে মরিচের বীজ বপন করা হয় এবং ফাল্গুন-চৈত্রে ফল সংগ্রহ করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০ থেকে ১২ মণ মরিচ উৎপাদন সম্ভব। বাজারে ভালো মানের মরিচ প্রতি মণ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবার আবহাওয়ার কারণে বড় অংশের মরিচের রং নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এসব মরিচ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মাইছানির চর এলাকার চাষি আবুল হোসেন বলেন, মরিচ চাষে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হলেও ভালো ফলন হলে লাভ হয়। কিন্তু এ বছর মরিচ শুকানোর সময় বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
ফারাজীপাড়া গ্রামের চাষি আনিছুর রহমান জানান, তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষে তাঁর প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রায় ৪০ শতাংশ মরিচের গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না।
পোল্যাকান্দি এলাকার কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, শেষ সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে মরিচের মান নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে এসব মরিচের চাহিদা কম থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, চলতি বছর মরিচের উৎপাদন ভালো হলেও পাকা মরিচ শুকানোর সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ মরিচের গুণগত মান নষ্ট হয়েছে। ফলে কৃষকদের অর্ধেক দামে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উপজেলায় প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন