ব্রাহ্মণপাড়াসহ কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৩৫ টি ট্রান্সফরমা ও ৫৫০টি বিকল; বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ২৭হাজার গ্রাহক।
এইচ এম গোলাম কিবরিয়া রাকিব, কুমিল্লা। কুমিল্লায় বৈশাখী ঝড়ে ১৭টি উপজেলাতেই বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামত করা হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিল মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেক কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে অন্ধকারে কিংবা চার্জার লাইট বা মোমবাতি জ্বালিয়ে।
এছাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে জেলার দক্ষিণে কুমিল্লার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে থাকা উপজেলাগুলো। দুই দিনের কালবৈশাখীতে এখানকার ৬ উপজেলা- আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ঝড়ের তাণ্ডবে মোট ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। ভেঙে নষ্ট হয়েছে ৫৫০টি মিটার। অন্তত ১ হাজার ২৫টি স্পটে বৈদ্যুতিক সংযোগের উপরে গাছ পড়েছে এবং ৭৩৮টি স্পটে তার ছিড়ে পড়েছে। ছয় উপজেলায় ৩৫টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ২৭ হাজার গ্রাহকের।
তিনি বলেন, রোববারের পর আমরা সকল সংযোগ চালু করেছিলাম। কিন্তু মঙ্গলবারের ঝড়ে আবারো এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়েছে। আমরা সেগুলো পুনরুদ্ধারে দিন-রাত কাজ করছি।”
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকেন এই এসব এলাকার গ্রাহকরা। পরে বিকেল ৫টায় জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগটি সংস্কার করা হয় বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, “ঝড়ের পর থেকে আমাদের টিম সব জায়গায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।”
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, উপজেলার ভবানীপুর, এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছে, সেগুলো আবারও সংযোগ দিতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ।
কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুতের ৪টি সমিতির মোট ক্ষয়ক্ষতি জানতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ দপ্তর।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ব্রাহ্মণপাড়াসহ কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৩৫ টি ট্রান্সফরমা ও ৫৫০টি বিকল; বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ২৭হাজার গ্রাহক।
এইচ এম গোলাম কিবরিয়া রাকিব, কুমিল্লা। কুমিল্লায় বৈশাখী ঝড়ে ১৭টি উপজেলাতেই বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামত করা হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিল মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেক কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে অন্ধকারে কিংবা চার্জার লাইট বা মোমবাতি জ্বালিয়ে।
এছাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে জেলার দক্ষিণে কুমিল্লার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে থাকা উপজেলাগুলো। দুই দিনের কালবৈশাখীতে এখানকার ৬ উপজেলা- আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ঝড়ের তাণ্ডবে মোট ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। ভেঙে নষ্ট হয়েছে ৫৫০টি মিটার। অন্তত ১ হাজার ২৫টি স্পটে বৈদ্যুতিক সংযোগের উপরে গাছ পড়েছে এবং ৭৩৮টি স্পটে তার ছিড়ে পড়েছে। ছয় উপজেলায় ৩৫টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ২৭ হাজার গ্রাহকের।
তিনি বলেন, রোববারের পর আমরা সকল সংযোগ চালু করেছিলাম। কিন্তু মঙ্গলবারের ঝড়ে আবারো এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়েছে। আমরা সেগুলো পুনরুদ্ধারে দিন-রাত কাজ করছি।”
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকেন এই এসব এলাকার গ্রাহকরা। পরে বিকেল ৫টায় জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগটি সংস্কার করা হয় বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, “ঝড়ের পর থেকে আমাদের টিম সব জায়গায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।”
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, উপজেলার ভবানীপুর, এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছে, সেগুলো আবারও সংযোগ দিতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ।
কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুতের ৪টি সমিতির মোট ক্ষয়ক্ষতি জানতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ দপ্তর।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন