উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি— বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু বাস্তবায়নে এখনই উদ্যোগ জরুরি
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা ও অনুন্নয়নের প্রেক্ষাপটে বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু আর কেবল একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়—এটি আজ এক ন্যায্য অধিকার, এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাট এলাকায় আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সেই জনদাবিকেই নতুন করে উচ্চকিত করেছে।
সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে, যা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। “উন্নয়নের লক্ষ্যে মানুষের প্রাণের দাবি— বালাসী টু বাহাদুরাবাদ সেতু চাই”—এই স্লোগানের ভেতরেই লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাস ও উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা।
এর সঙ্গে আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়েছে আরেকটি হৃদয়ের দাবি—“আমাদের সকলের প্রাণের দাবি, গাইবান্ধায় বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু চাই।” এই উচ্চারণ কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি অঞ্চলের মানুষের আশা, স্বপ্ন ও ন্যায্য অধিকারের প্রতিধ্বনি।
কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে, এই দাবি কোনো একক গোষ্ঠীর নয়; এটি একটি বৃহত্তর জনসমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রত্যাশা।
এছাড়াও মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। তারা একে একে তাদের মতামত তুলে ধরে বলেন, এই সেতু বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি এবং এটি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
নিঃসন্দেহে, বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে।
এটি উত্তরাঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক প্রবাহের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করবে। দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা কমে আসবে, সময় ও ব্যয়ের সাশ্রয় হবে, এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে একটি তিক্ত বাস্তবতাও অস্বীকার করার উপায় নেই—আমাদের গাইবান্ধা বারবার উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়েছে, উত্তরবঙ্গও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আছে।
এই অবহেলা কেবল অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় নয়, বরং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের সম্ভাবনা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনস্বীকার্য—উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণ কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং একটি ন্যায্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, যা জাতীয় উন্নয়নকে আরও সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
একই সঙ্গে, এই সেতু বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, পর্যটনের সম্ভাবনা প্রসারিত হবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার সহজ হবে। নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি হবে জীবনের গতি বদলে দেওয়ার এক নতুন দিগন্ত।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে “সেতু চাই, সেতু চাই”, “উন্নয়নের স্বার্থে বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে এক দৃঢ় গণদাবির প্রতিধ্বনি তুলে আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে।
মানববন্ধন থেকে উচ্চারিত হুঁশিয়ারিও অবহেলা করার মতো নয়। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই মানুষ তাদের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘসূত্রিতা অব্যাহত থাকলে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও জোরালো রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এখন সময় একটাই কথা বলার—আর নয় অবহেলা, এবার চাই বাস্তবায়ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি, জনগণের এই ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন যেন আর অধরা না থাকে—এই প্রত্যাশাই আজ সময়ের দাবি।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি— বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু বাস্তবায়নে এখনই উদ্যোগ জরুরি
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা ও অনুন্নয়নের প্রেক্ষাপটে বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু আর কেবল একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়—এটি আজ এক ন্যায্য অধিকার, এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাট এলাকায় আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সেই জনদাবিকেই নতুন করে উচ্চকিত করেছে।
সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে, যা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। “উন্নয়নের লক্ষ্যে মানুষের প্রাণের দাবি— বালাসী টু বাহাদুরাবাদ সেতু চাই”—এই স্লোগানের ভেতরেই লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাস ও উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা।
এর সঙ্গে আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়েছে আরেকটি হৃদয়ের দাবি—“আমাদের সকলের প্রাণের দাবি, গাইবান্ধায় বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু চাই।” এই উচ্চারণ কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি অঞ্চলের মানুষের আশা, স্বপ্ন ও ন্যায্য অধিকারের প্রতিধ্বনি।
কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে, এই দাবি কোনো একক গোষ্ঠীর নয়; এটি একটি বৃহত্তর জনসমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রত্যাশা।
এছাড়াও মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। তারা একে একে তাদের মতামত তুলে ধরে বলেন, এই সেতু বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি এবং এটি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
নিঃসন্দেহে, বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে।
এটি উত্তরাঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক প্রবাহের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করবে। দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা কমে আসবে, সময় ও ব্যয়ের সাশ্রয় হবে, এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে একটি তিক্ত বাস্তবতাও অস্বীকার করার উপায় নেই—আমাদের গাইবান্ধা বারবার উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়েছে, উত্তরবঙ্গও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আছে।
এই অবহেলা কেবল অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় নয়, বরং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের সম্ভাবনা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনস্বীকার্য—উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণ কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং একটি ন্যায্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, যা জাতীয় উন্নয়নকে আরও সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
একই সঙ্গে, এই সেতু বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, পর্যটনের সম্ভাবনা প্রসারিত হবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার সহজ হবে। নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি হবে জীবনের গতি বদলে দেওয়ার এক নতুন দিগন্ত।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে “সেতু চাই, সেতু চাই”, “উন্নয়নের স্বার্থে বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে এক দৃঢ় গণদাবির প্রতিধ্বনি তুলে আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে।
মানববন্ধন থেকে উচ্চারিত হুঁশিয়ারিও অবহেলা করার মতো নয়। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই মানুষ তাদের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘসূত্রিতা অব্যাহত থাকলে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও জোরালো রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এখন সময় একটাই কথা বলার—আর নয় অবহেলা, এবার চাই বাস্তবায়ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি, জনগণের এই ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বালাসী–বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন যেন আর অধরা না থাকে—এই প্রত্যাশাই আজ সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন