ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

‎শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ, তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান। ‎

‎শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ, তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান।  ‎

‎শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ, তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান।

‎জাহাঙ্গীর আলম ‎জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:- ‎২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ২০২১ ও ২০২৪ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি জানানো হয়।

‎মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে জেলা হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক আলেম-ওলামা, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের কান্দিপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

‎মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক পর্যায়ে জনসমাগমে রূপ নেয়। কালিবাড়ি মোড়, টি এ রোড, ফকিরাপুল ও সদর হাসপাতাল সড়ক এলাকায় মিছিলকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন বহন করেন এবং শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়।

‎মিছিল শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম কাসেমী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি মুফতি মারুফ কাসেমী।

‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রকৃত সংখ্যা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আজও জাতির সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়নি। নিহতদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় থাকলেও তারা এখনো হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

‎বক্তারা আরও বলেন, “২০২১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সহিংসতায় বহু আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলোতেও একই ধরনের চিত্র পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় প্রকৃত সত্য আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।”

‎তারা অভিযোগ করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে এবং আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করে সব ঘটনার সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

‎সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মুফতি তানভীরুল হক সিরাজী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরিফ উদ্দিন আফতাবী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকারিয়া খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মুফতি ইহসাক আল হোসাইন, মুফতি আব্দুল হান্নান কাসেমী ও ইকবাল সিরাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

‎বক্তারা বলেন, “অতীতের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে না।” তারা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

‎সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা ছাড়াও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দাবি আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয় লক্ষ্য করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


‎শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ, তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান। ‎

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

‎শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ, তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান।

‎জাহাঙ্গীর আলম ‎জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:- ‎২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ২০২১ ও ২০২৪ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি জানানো হয়।

‎মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে জেলা হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক আলেম-ওলামা, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের কান্দিপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

‎মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক পর্যায়ে জনসমাগমে রূপ নেয়। কালিবাড়ি মোড়, টি এ রোড, ফকিরাপুল ও সদর হাসপাতাল সড়ক এলাকায় মিছিলকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন বহন করেন এবং শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়।

‎মিছিল শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম কাসেমী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি মুফতি মারুফ কাসেমী।

‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রকৃত সংখ্যা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আজও জাতির সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়নি। নিহতদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় থাকলেও তারা এখনো হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

‎বক্তারা আরও বলেন, “২০২১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সহিংসতায় বহু আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলোতেও একই ধরনের চিত্র পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় প্রকৃত সত্য আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।”

‎তারা অভিযোগ করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে এবং আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করে সব ঘটনার সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

‎সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মুফতি তানভীরুল হক সিরাজী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরিফ উদ্দিন আফতাবী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকারিয়া খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মুফতি ইহসাক আল হোসাইন, মুফতি আব্দুল হান্নান কাসেমী ও ইকবাল সিরাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

‎বক্তারা বলেন, “অতীতের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে না।” তারা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

‎সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা ছাড়াও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দাবি আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয় লক্ষ্য করা যায়।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ