ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে বোরো ধানসহ ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি, সরিষাবাড়ীতে ক্ষতিপূরণের দাবি
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকায় ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে ২৫/৩০ বিঘা জমির বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল, বনজ ও ফলদ গাছের ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এতে শতাধিক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষিজমির পাশে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর ধোঁয়া ও তীব্র গরম বাতাসে ধানের শীষ পুড়ে গেছে। অনেক জমিতে ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু বোরো ধানই নয়, শাক-সবজি, ইউক্যালিপটাস গাছ, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন বনজ ও ফলদ বৃক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, আব্দুস সাত্তার, মুজিবর রহমান, আজীরন বেওয়া, চায়না বেগম, রওশনারা, মকবুল হোসেন ভোলা, আবুল হোসেন, আরিফুল ইসলাম, হেলাল মিয়া ও মোকছেদ আলীসহ অনেকেই জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা ব্যাপক খরচ করে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে সেই স্বপ্ন ভেঙে মাথায় হাত পড়েছে ।
কৃষক মোকছেদ আলী বলেন, “এক একর জমিতে ধান আবাদ করেছি। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়া ও গরম বাতাসে ধান শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
অপর কৃষক মকবুল হোসেন ভোলা বলেন, “অনেক কষ্ট করে বোরো ধান চাষ করেছি। মাঠে গিয়ে দেখি ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন।”
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ জানিয়েছেন, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইটভাটার প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে স্থানীয় কৃষিবিদ আব্দুল মজিদ বলেন, কৃষিজমির আশপাশে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কারণে প্রতিবছরই ফসল ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে বোরো ধানসহ ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি, সরিষাবাড়ীতে ক্ষতিপূরণের দাবি
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকায় ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে ২৫/৩০ বিঘা জমির বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল, বনজ ও ফলদ গাছের ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এতে শতাধিক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষিজমির পাশে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর ধোঁয়া ও তীব্র গরম বাতাসে ধানের শীষ পুড়ে গেছে। অনেক জমিতে ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু বোরো ধানই নয়, শাক-সবজি, ইউক্যালিপটাস গাছ, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন বনজ ও ফলদ বৃক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, আব্দুস সাত্তার, মুজিবর রহমান, আজীরন বেওয়া, চায়না বেগম, রওশনারা, মকবুল হোসেন ভোলা, আবুল হোসেন, আরিফুল ইসলাম, হেলাল মিয়া ও মোকছেদ আলীসহ অনেকেই জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা ব্যাপক খরচ করে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে সেই স্বপ্ন ভেঙে মাথায় হাত পড়েছে ।
কৃষক মোকছেদ আলী বলেন, “এক একর জমিতে ধান আবাদ করেছি। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়া ও গরম বাতাসে ধান শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
অপর কৃষক মকবুল হোসেন ভোলা বলেন, “অনেক কষ্ট করে বোরো ধান চাষ করেছি। মাঠে গিয়ে দেখি ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন।”
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ জানিয়েছেন, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইটভাটার প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে স্থানীয় কৃষিবিদ আব্দুল মজিদ বলেন, কৃষিজমির আশপাশে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কারণে প্রতিবছরই ফসল ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ।

আপনার মতামত লিখুন