অবৈধ সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ
লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম, ভুল চিকিৎসা ও অনিয়মের অভিযোগে সমালোচনার মুখে প্রতিষ্ঠান
নাজমুল হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:- নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ভয়াবহ অনিয়মের মধ্য দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে ভুল চিকিৎসার কারণে একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনলাইনে লাইসেন্সের আবেদন করেই অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা সেবা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের আংশিক সত্যতাও পাওয়া গেছে।
ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ কক্ষের দরজা বন্ধ। রিসিপশনের পাশে দিনের বেলাতেই ঘুমিয়ে ছিলেন এক নারী কর্মী। পরে তিনি একজন নার্সকে ডাকেন। নিজেকে নার্স পরিচয় দিলেও সরকারি নিবন্ধন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে সেখানে চাকরি করছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ক্লিনিকে চারজন নার্স রয়েছেন, তবে তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, বাকিরা সাধারণ শাখার শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকটির মালিক ডা. মোহা. শফিউল ইসলাম নিজেই সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতি রোগীর মৃত্যুর অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, ক্লিনিকের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকার অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি নতুন নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়রা সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডা. মোহা. শফিউল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে ক্লিনিকটি পুরোপুরি বন্ধও না, আবার স্বাভাবিকভাবেও চলছে না। আর্থিক সমস্যার কারণে কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে।” লাইসেন্স নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আবেদন করা হয়েছে এবং সেটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এছাড়া জেলার অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
অবৈধ সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ
লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম, ভুল চিকিৎসা ও অনিয়মের অভিযোগে সমালোচনার মুখে প্রতিষ্ঠান
নাজমুল হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:- নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ভয়াবহ অনিয়মের মধ্য দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে ভুল চিকিৎসার কারণে একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনলাইনে লাইসেন্সের আবেদন করেই অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা সেবা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের আংশিক সত্যতাও পাওয়া গেছে।
ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ কক্ষের দরজা বন্ধ। রিসিপশনের পাশে দিনের বেলাতেই ঘুমিয়ে ছিলেন এক নারী কর্মী। পরে তিনি একজন নার্সকে ডাকেন। নিজেকে নার্স পরিচয় দিলেও সরকারি নিবন্ধন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে সেখানে চাকরি করছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ক্লিনিকে চারজন নার্স রয়েছেন, তবে তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, বাকিরা সাধারণ শাখার শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকটির মালিক ডা. মোহা. শফিউল ইসলাম নিজেই সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতি রোগীর মৃত্যুর অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, ক্লিনিকের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকার অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি নতুন নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়রা সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডা. মোহা. শফিউল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে ক্লিনিকটি পুরোপুরি বন্ধও না, আবার স্বাভাবিকভাবেও চলছে না। আর্থিক সমস্যার কারণে কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে।” লাইসেন্স নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আবেদন করা হয়েছে এবং সেটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এছাড়া জেলার অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন