মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে পড়লো যাত্রীবাহী বাস, আতঙ্কে যাত্রীরা
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৯ নং বারোইপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ঠাকুরের দীঘি মোড়ে আবারও সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে “চন্দ্রা ট্রাভেলস” নামের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে পড়ে যায়। পরে বাসটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে আটকে গেলে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান বাসে থাকা যাত্রীরা। তবে আকস্মিক এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর থেকে দারিয়াপুর হয়ে গাইবান্ধার দিকে আসার সময় বাসটি গাইবান্ধা-দারিয়াপুর আঞ্চলিক সড়কের ঠাকুরের দীঘি মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল সামনে চলে আসে। এসময় মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক দ্রুত বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাস্তা সরু এবং মোড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে নেমে যায়।
পরে রাস্তার পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে আটকে যাওয়ায় বাসটি উল্টে পড়েনি। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রীরা প্রাণে রক্ষা পান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বাসে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন।
এসময় ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বাসটির সামনের অংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠাকুরের দীঘি মোড়টি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। প্রায়ই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে হরিপুর ব্রিজ চালু হওয়ার পর থেকে হরিপুর-দারিয়াপুর হয়ে গাইবান্ধা সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি এখনো সরু ও অপরিকল্পিত অবস্থায় থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই মোড়ে গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি প্রশস্তকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ মোড় সংস্কার, স্পিড ব্রেকার নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে পড়লো যাত্রীবাহী বাস, আতঙ্কে যাত্রীরা
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৯ নং বারোইপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ঠাকুরের দীঘি মোড়ে আবারও সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে “চন্দ্রা ট্রাভেলস” নামের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে পড়ে যায়। পরে বাসটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে আটকে গেলে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান বাসে থাকা যাত্রীরা। তবে আকস্মিক এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর থেকে দারিয়াপুর হয়ে গাইবান্ধার দিকে আসার সময় বাসটি গাইবান্ধা-দারিয়াপুর আঞ্চলিক সড়কের ঠাকুরের দীঘি মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল সামনে চলে আসে। এসময় মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক দ্রুত বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাস্তা সরু এবং মোড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে নেমে যায়।
পরে রাস্তার পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে আটকে যাওয়ায় বাসটি উল্টে পড়েনি। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রীরা প্রাণে রক্ষা পান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বাসে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন।
এসময় ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বাসটির সামনের অংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠাকুরের দীঘি মোড়টি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। প্রায়ই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে হরিপুর ব্রিজ চালু হওয়ার পর থেকে হরিপুর-দারিয়াপুর হয়ে গাইবান্ধা সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি এখনো সরু ও অপরিকল্পিত অবস্থায় থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই মোড়ে গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি প্রশস্তকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ মোড় সংস্কার, স্পিড ব্রেকার নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

আপনার মতামত লিখুন