সর্বস্ব লুটেও ক্ষান্ত হয়নি দুর্বৃত্তরা: বেড়ায় চুরির পর বসতবাড়িতে আগুন, পুড়ল বাবার শেষ স্মৃতি
আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার জোড়দাহ গ্রামে এক লোমহর্ষক ও নৃশংস চুরির পর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্র শুধু মালামাল লুট করেই ক্ষান্ত হয়নি, একটি পরিবারকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করতে এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রয়াত বাবার শেষ স্মৃতিটুকুও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত ২৩ মে (শনিবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ২:৩০ মিনিটে মোঃ দেলোয়ার হোসেন পলাশের বাড়িতে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি, ট্রাংক ও ওয়ারড্রোব ভেঙে মূল্যবান মালামাল, নগদ অর্থ লুটে নেয়। এমনকি ঘরের টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও গ্যাস সিলিন্ডার পর্যন্ত নিয়ে যায় তারা। লুটপাট শেষে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং প্রমাণ নষ্ট করতে তারা পুরো ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্রতিবেশী মো: মোতালেব আগুন জ্বলতে দেখে বাড়ির মালিক দেলোয়ার হাসান পলাশকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় রাত ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ঘরের ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ পুরো ঘরটি প্রায় ভস্মীভূত হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন নিভে যাওয়ার পর দেখা যায় দুটি ঘরের মূল ফটকের তালা ভাঙা। এছাড়াও ঘরের ভেতরের ট্রাংক ও আলমারির তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল, যা স্পষ্টতই পরিকল্পিত চুরির প্রমাণ দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ চুরি বা দুর্ঘটনা নয়। তাদেরকে পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ এবং সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নিকৃষ্ট ও অমানুষিক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বাবার রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতিটুকু এভাবে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন দিশেহারা।
ঘটনার পরদিন সকালে পলাশের চাচা ডাঃ মোহাম্মদ আলী চাঁদ সরদার বেড়া মডেল থানা পুলিশ কে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। এই ন্যাক্কারজনক ও পরিকল্পিত অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিতকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
সর্বস্ব লুটেও ক্ষান্ত হয়নি দুর্বৃত্তরা: বেড়ায় চুরির পর বসতবাড়িতে আগুন, পুড়ল বাবার শেষ স্মৃতি
আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার জোড়দাহ গ্রামে এক লোমহর্ষক ও নৃশংস চুরির পর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্র শুধু মালামাল লুট করেই ক্ষান্ত হয়নি, একটি পরিবারকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করতে এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রয়াত বাবার শেষ স্মৃতিটুকুও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত ২৩ মে (শনিবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ২:৩০ মিনিটে মোঃ দেলোয়ার হোসেন পলাশের বাড়িতে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি, ট্রাংক ও ওয়ারড্রোব ভেঙে মূল্যবান মালামাল, নগদ অর্থ লুটে নেয়। এমনকি ঘরের টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও গ্যাস সিলিন্ডার পর্যন্ত নিয়ে যায় তারা। লুটপাট শেষে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং প্রমাণ নষ্ট করতে তারা পুরো ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্রতিবেশী মো: মোতালেব আগুন জ্বলতে দেখে বাড়ির মালিক দেলোয়ার হাসান পলাশকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় রাত ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ঘরের ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ পুরো ঘরটি প্রায় ভস্মীভূত হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন নিভে যাওয়ার পর দেখা যায় দুটি ঘরের মূল ফটকের তালা ভাঙা। এছাড়াও ঘরের ভেতরের ট্রাংক ও আলমারির তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল, যা স্পষ্টতই পরিকল্পিত চুরির প্রমাণ দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ চুরি বা দুর্ঘটনা নয়। তাদেরকে পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ এবং সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নিকৃষ্ট ও অমানুষিক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বাবার রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতিটুকু এভাবে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন দিশেহারা।
ঘটনার পরদিন সকালে পলাশের চাচা ডাঃ মোহাম্মদ আলী চাঁদ সরদার বেড়া মডেল থানা পুলিশ কে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। এই ন্যাক্কারজনক ও পরিকল্পিত অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিতকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন