সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুষ্টিকর বনরুটি ডাস্টবিনে! নবীনগরে এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ, প্রধান শিক্ষকের ‘অজ্ঞতা’
মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি :- সরকার কর্তৃক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টির মান বাড়াতে সরবরাহ করা বিশেষ বনরুটি পাওয়া গেছে ডাস্টবিনে ও ময়লার স্তূপে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিল সংবলিত এবং "প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং-এর বনরুটি" লেখা বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী এভাবে ডাস্টবিনে পচতে দেখে স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আলিয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে। ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা সেই বনরুটিগুলো এখন পচে পিঁপড়ে ও পোকা-মাকড়ে ছেয়ে গেছে। সরকারের দেওয়া এই খাবার এভাবে ডাস্টবিনে কেন—তা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রশ্ন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শিক্ষকদের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই আজ আমাদের সন্তানদের জন্য পাঠানো এই পুষ্টিকর খাবার ডাস্টবিনে নষ্ট হচ্ছে। যদি কোনো কারণে ছাত্র-ছাত্রী কমও উপস্থিত থাকে, তবে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একটু বেশি করে দিয়ে দিলেই তো এই অপচয় হতো না। সরকারের দেওয়া জিনিস এভাবে নষ্ট করা স্পষ্ট অপরাধ।" তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, এমন কত শত সরকারি জিনিস আড়ালে-আবডালে নষ্ট হচ্ছে তা কেবল আল্লাহ পাকই ভালো বলতে পারবেন।
অনেক অভিভাবক ক্ষোভের সাথে জানান, "বনরুটির গায়ে যদি মেয়াদ (ডেট) উত্তীর্ণ হয়েই থাকে বা ডেট না-ই থাকে, তবে তা যাচাই না করে কেন শিক্ষকরা বুঝে নিলেন? আর যদি আগে থেকেই ডেট না থাকে, তবে তা সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনকে সাথে সাথেই ফেরত দেওয়া উচিত ছিল। ডেট থাকুক আর না থাকুক, সবকিছু দেখে-শুনে বুঝে রাখার দায়িত্ব তো শিক্ষকদেরই ছিল। শিক্ষকদের এই চরম গাফেলতির কারণেই আজ সরকারের এত বড় একটি উদ্যোগ ভেস্তে গেছে এবং খাবারগুলো অপচয় হলো।"
এই দুঃখজনক ও সংবেদনশীল বিষয়ে জানতে আলিয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সবুজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের দায়সারা উত্তর দিয়ে বলেন, "আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।"
প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে নবীনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের উম্মে সালমা (টিও) মুঠোফোনে বলেন আমি গতকাল মন্ত্রীমহোদযের প্রোগ্রাম থাকাতে ঢাকায় ছিলাম বিষয় টি আমি জাইনা বলতে হবে,এভাবে ত এগুলো আসার কথা না,স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে,খবরটি নিয়ে দেখতে হবে,বিষয়টি আমি অবগত না, জেনে পরে আপনাদের জানাব।
সরকারি খাদ্যসামগ্রী এভাবে ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুষ্টিকর বনরুটি ডাস্টবিনে! নবীনগরে এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ, প্রধান শিক্ষকের ‘অজ্ঞতা’
মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি :- সরকার কর্তৃক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টির মান বাড়াতে সরবরাহ করা বিশেষ বনরুটি পাওয়া গেছে ডাস্টবিনে ও ময়লার স্তূপে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিল সংবলিত এবং "প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং-এর বনরুটি" লেখা বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী এভাবে ডাস্টবিনে পচতে দেখে স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আলিয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে। ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা সেই বনরুটিগুলো এখন পচে পিঁপড়ে ও পোকা-মাকড়ে ছেয়ে গেছে। সরকারের দেওয়া এই খাবার এভাবে ডাস্টবিনে কেন—তা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রশ্ন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শিক্ষকদের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই আজ আমাদের সন্তানদের জন্য পাঠানো এই পুষ্টিকর খাবার ডাস্টবিনে নষ্ট হচ্ছে। যদি কোনো কারণে ছাত্র-ছাত্রী কমও উপস্থিত থাকে, তবে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একটু বেশি করে দিয়ে দিলেই তো এই অপচয় হতো না। সরকারের দেওয়া জিনিস এভাবে নষ্ট করা স্পষ্ট অপরাধ।" তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, এমন কত শত সরকারি জিনিস আড়ালে-আবডালে নষ্ট হচ্ছে তা কেবল আল্লাহ পাকই ভালো বলতে পারবেন।
অনেক অভিভাবক ক্ষোভের সাথে জানান, "বনরুটির গায়ে যদি মেয়াদ (ডেট) উত্তীর্ণ হয়েই থাকে বা ডেট না-ই থাকে, তবে তা যাচাই না করে কেন শিক্ষকরা বুঝে নিলেন? আর যদি আগে থেকেই ডেট না থাকে, তবে তা সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনকে সাথে সাথেই ফেরত দেওয়া উচিত ছিল। ডেট থাকুক আর না থাকুক, সবকিছু দেখে-শুনে বুঝে রাখার দায়িত্ব তো শিক্ষকদেরই ছিল। শিক্ষকদের এই চরম গাফেলতির কারণেই আজ সরকারের এত বড় একটি উদ্যোগ ভেস্তে গেছে এবং খাবারগুলো অপচয় হলো।"
এই দুঃখজনক ও সংবেদনশীল বিষয়ে জানতে আলিয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সবুজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের দায়সারা উত্তর দিয়ে বলেন, "আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।"
প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে নবীনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের উম্মে সালমা (টিও) মুঠোফোনে বলেন আমি গতকাল মন্ত্রীমহোদযের প্রোগ্রাম থাকাতে ঢাকায় ছিলাম বিষয় টি আমি জাইনা বলতে হবে,এভাবে ত এগুলো আসার কথা না,স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে,খবরটি নিয়ে দেখতে হবে,বিষয়টি আমি অবগত না, জেনে পরে আপনাদের জানাব।
সরকারি খাদ্যসামগ্রী এভাবে ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন