সায়েদাবাদে গভীর রাতে টিকিট জালিয়াতির প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ ৪ যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:-রাজধানীর সায়েদাবাদে গভীর রাতে যাত্রীদের সঙ্গে টিকিট জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এ ধরনের অনিয়ম প্রায়ই ঘটে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে এক সাংবাদিকসহ চার যাত্রী হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মুহা. সাইদুল ইসলাম সানাউল্লাহ জানান, তিনি আরও তিনজন সহযাত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাত প্রায় ১টার দিকে সায়েদাবাদের একটি পরিবহন কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয় করেন। টিকিট বিক্রয়ের সময় তাদেরকে উন্নতমানের একটি বাসের টিকিট দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সাধারণ লোকাল বাসে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা কাউন্টারে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে কাউন্টারের কয়েকজন কর্মচারী ও তাদের সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের ঘিরে ফেলে এবং মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম সানাউল্লাহ জানান, ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে হামলাকারীরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা তাকে ধাক্কাধাক্কি করে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তার ব্যবহৃত মাইক্রোফোন, হেডফোনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ছুড়ে ফেলে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ঠিক সেই সময় হামলাকারীরা তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর এক যুবক সেখানে এসে নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দেখতে চায়। পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পর মোবাইল ফোনটি ফেরত দেওয়া হলেও এর আগে ফোনে ধারণকৃত ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, টিকিট জালিয়াতি ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতে এবং ঘটনার ভিডিও প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সায়েদাবাদে রাত গভীর হওয়ার পর কিছু অসাধু টিকিট ব্যবসায়ী ও দালাল চক্রের মাধ্যমে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
সায়েদাবাদে গভীর রাতে টিকিট জালিয়াতির প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ ৪ যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:-রাজধানীর সায়েদাবাদে গভীর রাতে যাত্রীদের সঙ্গে টিকিট জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এ ধরনের অনিয়ম প্রায়ই ঘটে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে এক সাংবাদিকসহ চার যাত্রী হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মুহা. সাইদুল ইসলাম সানাউল্লাহ জানান, তিনি আরও তিনজন সহযাত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাত প্রায় ১টার দিকে সায়েদাবাদের একটি পরিবহন কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয় করেন। টিকিট বিক্রয়ের সময় তাদেরকে উন্নতমানের একটি বাসের টিকিট দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সাধারণ লোকাল বাসে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা কাউন্টারে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে কাউন্টারের কয়েকজন কর্মচারী ও তাদের সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের ঘিরে ফেলে এবং মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম সানাউল্লাহ জানান, ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে হামলাকারীরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা তাকে ধাক্কাধাক্কি করে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তার ব্যবহৃত মাইক্রোফোন, হেডফোনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ছুড়ে ফেলে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ঠিক সেই সময় হামলাকারীরা তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর এক যুবক সেখানে এসে নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দেখতে চায়। পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পর মোবাইল ফোনটি ফেরত দেওয়া হলেও এর আগে ফোনে ধারণকৃত ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, টিকিট জালিয়াতি ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতে এবং ঘটনার ভিডিও প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সায়েদাবাদে রাত গভীর হওয়ার পর কিছু অসাধু টিকিট ব্যবসায়ী ও দালাল চক্রের মাধ্যমে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন