ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

আশুলিয়ায় ৪১ জন সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকের সন্তানের বিনামূল্যে খৎনা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ

আশুলিয়ায় ৪১ জন সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকের সন্তানের বিনামূল্যে খৎনা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ

রংপুরে রাজনৈতিক পরিচয়ে লুটপাট, সম্পদ দখল করতেই রতনকে হত্যা: কর্নেল বাতেন

রংপুরে রাজনৈতিক পরিচয়ে লুটপাট, সম্পদ দখল করতেই রতনকে হত্যা: কর্নেল বাতেন

নোয়াখালীতে শান্তি-সম্প্রীতিতে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন

নোয়াখালীতে শান্তি-সম্প্রীতিতে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন

পাঁচবিবিবি বারোকান্দ্রী প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ( সিজন ৯) ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন।

পাঁচবিবিবি বারোকান্দ্রী প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ( সিজন ৯) ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন।

ময়মনসিংহ বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি

ময়মনসিংহ বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি

মনপুরায় বিদ্যুৎ সংকটে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা, আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান

মনপুরায় বিদ্যুৎ সংকটে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা, আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান

সরিষাবাড়ীতে বসত-বাড়িতে হামলা-লুটপাট, দুই নারীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত

সরিষাবাড়ীতে বসত-বাড়িতে হামলা-লুটপাট, দুই নারীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত

সন্দেহ প্রবণতা এক ধরনের মানসিক রোগের লক্ষণ

সন্দেহ প্রবণতা এক ধরনের মানসিক রোগের লক্ষণ

পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির মাতৃত্বকালীন ভাতা ব্যাপক অনিয়ম স্বজনপ্রীতি

পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির মাতৃত্বকালীন ভাতা  ব্যাপক অনিয়ম  স্বজনপ্রীতি

পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির মাতৃত্বকালীন ভাতা  ব্যাপক অনিয়ম  স্বজনপ্রীতি 

নিজস্ব প্রতিবেদক:- পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মায়েদের নামে দেয়া মাতৃত্বকালীন ভাতা চাকলাহাট ইউুনিয়নে  ব্যাপক  স্বজনপ্রীতি ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অযোগ্য ব্যক্তিদের ভাতাভোগী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এমনকি ভাতা পাওয়ার জন্য ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ  নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত চাকলাহাট ইউনিয়নে মোট ৪৯৩ জনকে মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এসব সুবিধাভোগীর ঠিকানায় গ্রামের নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে “নতুন গ্রাম”। অথচ চাকলাহাট ইউনিয়নে মোট ৫৬টি গ্রাম থাকলেও “নতুন গ্রাম” নামে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব নেই।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার জন্য উপকারভোগীকে প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণকালীন হতে হবে, বয়স ২০ বছরের বেশি হতে হবে এবং গর্ভবতী অবস্থায় আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য নির্ধারিত শর্তের মধ্যে অন্তত দুটি শর্ত পূরণ করতে হয়। একজন মা জীবনে মাত্র একবার ২৪ মাসের জন্য এ সুবিধা পেতে পারেন।

কিন্তু সরেজমিনে চাকলাহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ভাতাভোগীদের বড় একটি অংশ সরকারি নীতিমালার কোনো শর্তই পূরণ করেন না। তালিকায় এমন নারীদের নাম রয়েছে যাদের তিন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে, কারও সন্তান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, আবার কারও গর্ভধারণের সময়সীমা কিংবা বয়স সরকারি শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব খাটিয়ে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য গর্ভবতী নারীরা বঞ্চিত হলেও অর্থের বিনিময়ে অন্যদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, “চাকলাহাট ইউনিয়নে ‘নতুন গ্রাম’ নামে কোনো গ্রাম নেই। এখানে মোট ৫৬টি গ্রাম রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা নিইনি। ভাতাভোগীর তালিকা ইউপি সদস্যরা প্রস্তুত করেন। আমার আমলে কোনো ইউপি সদস্যের মেয়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা পাননি। তবে কেউ যদি তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেয়ে থাকে, তাহলে সেখানে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।

এব্যাপারে মঙ্গলবার ২৩ জুন  পঞ্চগড় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বলেন, নতুন গ্রাম’ উল্লেখ হওয়ার বিষয়টি সফটওয়্যারের ত্রুটিজনিত কারণে হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর দায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এরাতে পারেন না। প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করে যদি অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । একই সঙ্গে বিতর্কিত তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য নারীদের ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির মাতৃত্বকালীন ভাতা ব্যাপক অনিয়ম স্বজনপ্রীতি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির মাতৃত্বকালীন ভাতা  ব্যাপক অনিয়ম  স্বজনপ্রীতি 

নিজস্ব প্রতিবেদক:- পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মায়েদের নামে দেয়া মাতৃত্বকালীন ভাতা চাকলাহাট ইউুনিয়নে  ব্যাপক  স্বজনপ্রীতি ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অযোগ্য ব্যক্তিদের ভাতাভোগী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এমনকি ভাতা পাওয়ার জন্য ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ  নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত চাকলাহাট ইউনিয়নে মোট ৪৯৩ জনকে মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এসব সুবিধাভোগীর ঠিকানায় গ্রামের নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে “নতুন গ্রাম”। অথচ চাকলাহাট ইউনিয়নে মোট ৫৬টি গ্রাম থাকলেও “নতুন গ্রাম” নামে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব নেই।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার জন্য উপকারভোগীকে প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণকালীন হতে হবে, বয়স ২০ বছরের বেশি হতে হবে এবং গর্ভবতী অবস্থায় আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য নির্ধারিত শর্তের মধ্যে অন্তত দুটি শর্ত পূরণ করতে হয়। একজন মা জীবনে মাত্র একবার ২৪ মাসের জন্য এ সুবিধা পেতে পারেন।

কিন্তু সরেজমিনে চাকলাহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ভাতাভোগীদের বড় একটি অংশ সরকারি নীতিমালার কোনো শর্তই পূরণ করেন না। তালিকায় এমন নারীদের নাম রয়েছে যাদের তিন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে, কারও সন্তান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, আবার কারও গর্ভধারণের সময়সীমা কিংবা বয়স সরকারি শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব খাটিয়ে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য গর্ভবতী নারীরা বঞ্চিত হলেও অর্থের বিনিময়ে অন্যদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, “চাকলাহাট ইউনিয়নে ‘নতুন গ্রাম’ নামে কোনো গ্রাম নেই। এখানে মোট ৫৬টি গ্রাম রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা নিইনি। ভাতাভোগীর তালিকা ইউপি সদস্যরা প্রস্তুত করেন। আমার আমলে কোনো ইউপি সদস্যের মেয়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা পাননি। তবে কেউ যদি তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেয়ে থাকে, তাহলে সেখানে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।

এব্যাপারে মঙ্গলবার ২৩ জুন  পঞ্চগড় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বলেন, নতুন গ্রাম’ উল্লেখ হওয়ার বিষয়টি সফটওয়্যারের ত্রুটিজনিত কারণে হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর দায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এরাতে পারেন না। প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করে যদি অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । একই সঙ্গে বিতর্কিত তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য নারীদের ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ