পঞ্চগড়ে ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের নকল কয়েল বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- দীর্ঘদিন ধরে ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের মোড়ক ও ট্রেডমার্ক নকল করে মানহীন মশার কয়েল বাজারজাতের অভিযোগে দুলাল হোসেন (৪৬) নামে পঞ্চগড়ের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ। একই দিন কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত দুলাল হোসেন পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পঞ্চগড় বাজারের একজন ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে কোম্পানির কাছে তথ্য আসে যে, দুলাল হোসেন ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের মশার কয়েলের নাম, ট্রেডমার্ক ও মোড়ক নকল করে জাল পণ্য বাজারজাত করছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম উদ্দৌলার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তার দোকান থেকে ৭০ কার্টন নকল কয়েল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা পণ্য ধ্বংস করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, সতর্ক করার পরও তিনি গোপনে একই ধরনের নকল পণ্য বাজারজাত করতে থাকেন। নিম্নমানের কয়েল কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেন বিভিন্ন ক্রেতা। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে পঞ্চগড় বণিক সমিতির কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়। সমিতির পক্ষ থেকেও তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুন পঞ্চগড় শহরের অগ্রদূত হোটেল প্যালেসে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে দুলাল হোসেন জোনাকী ব্র্যান্ডের নামে নকল কয়েল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু পরে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পুনরায় নকল কয়েল প্রস্তুত ও বিক্রি অব্যাহত রাখেন। এতে কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, বণিক সমিতির মাধ্যমে সতর্কীকরণ এবং আলোচনার পরও নকল পণ্য বিক্রি বন্ধ না হওয়ায় কোম্পানি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে শুধু কোম্পানিরই নয়, সাধারণ ভোক্তারাও প্রতারিত হয়েছেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
পঞ্চগড়ে ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের নকল কয়েল বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- দীর্ঘদিন ধরে ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের মোড়ক ও ট্রেডমার্ক নকল করে মানহীন মশার কয়েল বাজারজাতের অভিযোগে দুলাল হোসেন (৪৬) নামে পঞ্চগড়ের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ। একই দিন কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত দুলাল হোসেন পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পঞ্চগড় বাজারের একজন ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে কোম্পানির কাছে তথ্য আসে যে, দুলাল হোসেন ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের মশার কয়েলের নাম, ট্রেডমার্ক ও মোড়ক নকল করে জাল পণ্য বাজারজাত করছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম উদ্দৌলার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তার দোকান থেকে ৭০ কার্টন নকল কয়েল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা পণ্য ধ্বংস করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, সতর্ক করার পরও তিনি গোপনে একই ধরনের নকল পণ্য বাজারজাত করতে থাকেন। নিম্নমানের কয়েল কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেন বিভিন্ন ক্রেতা। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে পঞ্চগড় বণিক সমিতির কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়। সমিতির পক্ষ থেকেও তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুন পঞ্চগড় শহরের অগ্রদূত হোটেল প্যালেসে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে দুলাল হোসেন জোনাকী ব্র্যান্ডের নামে নকল কয়েল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু পরে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পুনরায় নকল কয়েল প্রস্তুত ও বিক্রি অব্যাহত রাখেন। এতে কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, বণিক সমিতির মাধ্যমে সতর্কীকরণ এবং আলোচনার পরও নকল পণ্য বিক্রি বন্ধ না হওয়ায় কোম্পানি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে শুধু কোম্পানিরই নয়, সাধারণ ভোক্তারাও প্রতারিত হয়েছেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন