বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্যবই বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, কিন্ডারগার্টেনগুলোর কাছে ১০-২৫ হাজার টাকা দাবি
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বিনামূল্যে দেওয়া পাঠ্যবই বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক ও পরিচালকদের দাবি, বই সংগ্রহের জন্য তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বই সরবরাহে দেরি এবং বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে দেবীগঞ্জের ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তালিকাভুক্ত ৩৫টি কিন্ডারগার্টেনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫৪টি বই বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৩ হাজার ১৭৬ জন এবং কিন্ডারগার্টেনে প্রায় ৮ হাজার।
একাধিক শিক্ষক জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বই না পেলে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। এ কারণে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বই সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রতিবছর একই পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে।
ভাউলাগঞ্জ আলহেরা ইসলামী কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগে শুধু পরিবহন ব্যয় দিয়েই বই আনা সম্ভব হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া বই পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। চলতি বছর তাদের কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই অর্থ পরিশোধের পর বই সংগ্রহ করা সম্ভব হয় বলে তিনি দাবি করেন।
স্কলার কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বই সংগ্রহের সময় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অজুহাতে বারবার ঘুরতে হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
মডার্ন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বাবু বলেন, উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো তারাও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেই সরকারি বই সংগ্রহ করে থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, বই বিতরণে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগে নাম আসা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী বাবুও অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্যবই বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, কিন্ডারগার্টেনগুলোর কাছে ১০-২৫ হাজার টাকা দাবি
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বিনামূল্যে দেওয়া পাঠ্যবই বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক ও পরিচালকদের দাবি, বই সংগ্রহের জন্য তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বই সরবরাহে দেরি এবং বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে দেবীগঞ্জের ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তালিকাভুক্ত ৩৫টি কিন্ডারগার্টেনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫৪টি বই বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৩ হাজার ১৭৬ জন এবং কিন্ডারগার্টেনে প্রায় ৮ হাজার।
একাধিক শিক্ষক জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বই না পেলে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। এ কারণে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বই সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রতিবছর একই পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে।
ভাউলাগঞ্জ আলহেরা ইসলামী কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগে শুধু পরিবহন ব্যয় দিয়েই বই আনা সম্ভব হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া বই পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। চলতি বছর তাদের কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই অর্থ পরিশোধের পর বই সংগ্রহ করা সম্ভব হয় বলে তিনি দাবি করেন।
স্কলার কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বই সংগ্রহের সময় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অজুহাতে বারবার ঘুরতে হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
মডার্ন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বাবু বলেন, উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো তারাও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেই সরকারি বই সংগ্রহ করে থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, বই বিতরণে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগে নাম আসা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী বাবুও অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন