পটুয়াখালীতে রিপন কাজী হত্যা: বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও 'মিথ্যা মামলা' প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর সদর থানায় দায়ের করা রিপন কাজী হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু বিচার এবং নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা 'মিথ্যা ও হয়রানিমূলক' মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনরা।
মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরগুনার আমতলী উপজেলার কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও নিহত রিপন কাজীর মেজ ভাই মো. রাব্বি কাজী।
লিখিত বক্তব্যে রাব্বি কাজী জানান, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজঘোনা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনের সড়কে মোটরসাইকেল থামিয়ে রিপন কাজীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত ২ জুলাই নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-০২) দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী, রাহাত কাজী, আব্দুল আলিম মৃধা, মিজানুর রহমান ভুট্টু কাজী এবং রিয়াজ হাওলাদার।
রাব্বি কাজী বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামি রাসেল কাজী ও সোহাগ কাজীকে গ্রেফতার করেছে। তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে মামলার বাকি আসামিরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পলাতক আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি আমতলী থানায় নিহত রিপন কাজীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়েছে। এখন মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এই হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে হত্যা মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করা, নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং গণমাধ্যমের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান মো. রাব্বি কাজী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্ত্রী মাহফুজা (৩০), মা আমেনা বেগম (৫০), মেজ ভাই মো. রাব্বি কাজী (২৭), ছোট ভাই সাব্বির কাজী এবং ছোট বোন রাহিমা বেগম।

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
পটুয়াখালীতে রিপন কাজী হত্যা: বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও 'মিথ্যা মামলা' প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর সদর থানায় দায়ের করা রিপন কাজী হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু বিচার এবং নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা 'মিথ্যা ও হয়রানিমূলক' মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনরা।
মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরগুনার আমতলী উপজেলার কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও নিহত রিপন কাজীর মেজ ভাই মো. রাব্বি কাজী।
লিখিত বক্তব্যে রাব্বি কাজী জানান, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজঘোনা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনের সড়কে মোটরসাইকেল থামিয়ে রিপন কাজীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত ২ জুলাই নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-০২) দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী, রাহাত কাজী, আব্দুল আলিম মৃধা, মিজানুর রহমান ভুট্টু কাজী এবং রিয়াজ হাওলাদার।
রাব্বি কাজী বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামি রাসেল কাজী ও সোহাগ কাজীকে গ্রেফতার করেছে। তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে মামলার বাকি আসামিরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পলাতক আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি আমতলী থানায় নিহত রিপন কাজীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়েছে। এখন মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এই হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে হত্যা মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করা, নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং গণমাধ্যমের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান মো. রাব্বি কাজী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্ত্রী মাহফুজা (৩০), মা আমেনা বেগম (৫০), মেজ ভাই মো. রাব্বি কাজী (২৭), ছোট ভাই সাব্বির কাজী এবং ছোট বোন রাহিমা বেগম।

আপনার মতামত লিখুন