ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রাম ধরলা ব্রীজে বাস ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রাম ধরলা ব্রীজে বাস ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু

বীরগঞ্জে মরহুম বজলুর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

বীরগঞ্জে মরহুম বজলুর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

রাজৈরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

রাজৈরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

জঙ্গল সলিমপুরে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান

জঙ্গল সলিমপুরে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান

জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়ীতে সংঘর্ষ, আহত -২০

জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়ীতে সংঘর্ষ, আহত -২০

সুনামগঞ্জের নতুনপাড়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অফিস উদ্বোধন করেন পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক

সুনামগঞ্জের নতুনপাড়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অফিস উদ্বোধন করেন পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক

পীরগাছায় পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বিষাক্ত ট্যাবলেট, থানায় লিখিত অভিযোগ

পীরগাছায় পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বিষাক্ত ট্যাবলেট, থানায় লিখিত অভিযোগ

ভাঙ্গুড়ায় অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয় সভা

ভাঙ্গুড়ায় অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয় সভা

মোটা অঙ্কের ঘুস ছাড়া নামজারি হয় না নবীনগরের লাউরফহেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে

মোটা অঙ্কের ঘুস ছাড়া নামজারি হয় না নবীনগরের লাউরফহেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে

মোটা অঙ্কের ঘুস ছাড়া নামজারি হয় না নবীনগরের লাউরফহেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে

মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি:- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি ফির অতিরিক্ত টাকা না দিলে সেবা থেকে বঞ্চিত ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার(নায়েব) আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

একটি জমির খারিজ বা নামজারি করতে সরকার নির্ধারিত খরচ এক হাজার ১৭০ টাকা হলেও দলিলভেদে নেওয়া হয় ৬-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ নামজারির আবেদনের জন্য কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি এক হাজার টাকা ও প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০ টাকার বাইরে আর কোনো খরচ নেই।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত কোনো কাজে অনলাইনে অফিস থেকে আবেদন না করলে বা বাড়তি দেওয়া টাকার পরিমাণ কম হলে সারাদিন বসিয়ে রাখেন উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। 

এমনকী সকাল ৯টার পরিবর্তে তিনি অফিসে আসেন বেলা ১১টা বা দুপুর ১২টায়।আবার ভালো না লাগলে ৪টার আগেই তিনি অফিস বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। 

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস আতিকুর রহমানের দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুস ছাড়া নামজারি হয় না। নামজারির জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল হাই বলেন, ‘আমার জমি খারিজ করতে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। আমার পাশের একটি জমি খারিজ করে দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির সঙ্গে ১৮ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করেছেন। এরই মধ্যে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বাকি আট হাজার টাকা কাজ শেষ হলে নেবেন।

এছাড়াও লাুরফতেহপুর গ্রামের এক হতদরিদ্র পান দোকানদার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, নায়েব আতিকুর রহমান আমার একটি ১৫ শতক জায়গা খারিজ করতে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। জায়গা খারিজ করতে গিয়ে আমার ব্যাবসায়ীক মূল ধন সব হারিয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় ফেরী করে পানবেচি।

এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে স্থানীয় এ প্রবাসীর সাথে সোমবার দুপুরে লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে নায়েব আতিকুর রহমান কে একটি খারিজ করতে কত লাগবে জানতে চাইলে তিনি জানান ১০ হাজার টাকা লাগবে।পরে দশ হাজার টাকা কেন লাগবে জানতে চাইলে সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে কোন উত্তর না দিয়ে তিনি অফিস ছেড়ে চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসে কর্মরত একজন জানান, নায়েব আতিকুর রহমানের চাকরির জীবনের শেষ সময়ে এসে এখন তিনি ডাকাত হয়ে গেছেন। মোটা অংকের টাকা না হলে তিনিখারিজের ফাইল হাতে নেন না।

লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার ইউনিয়নের সহজসরল মানুষগুলোকে ঠকিয়ে লক্ষলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন নায়েব আতিকুর রহমান। তিনি আমার এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে একটি জমিরখারিজ করতে ৩০ হাজার টাকা দাবী করেন।আমি এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয় কে জানিয়েছি। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাউর ফতেহপুর  ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অফিসে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত লোকবল নেই। 

জমি খারিজে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালেদ বিন মনসুর বলেন, ঘুষ নেয়ার প্রমান থাকলে আমাকে দেন,তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা নিবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন,অবৈধ ভাবে মানুষদের ঠকিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মোটা অঙ্কের ঘুস ছাড়া নামজারি হয় না নবীনগরের লাউরফহেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

মোটা অঙ্কের ঘুস ছাড়া নামজারি হয় না নবীনগরের লাউরফহেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে

মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি:- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি ফির অতিরিক্ত টাকা না দিলে সেবা থেকে বঞ্চিত ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার(নায়েব) আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

একটি জমির খারিজ বা নামজারি করতে সরকার নির্ধারিত খরচ এক হাজার ১৭০ টাকা হলেও দলিলভেদে নেওয়া হয় ৬-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ নামজারির আবেদনের জন্য কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি এক হাজার টাকা ও প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০ টাকার বাইরে আর কোনো খরচ নেই।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত কোনো কাজে অনলাইনে অফিস থেকে আবেদন না করলে বা বাড়তি দেওয়া টাকার পরিমাণ কম হলে সারাদিন বসিয়ে রাখেন উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। 

এমনকী সকাল ৯টার পরিবর্তে তিনি অফিসে আসেন বেলা ১১টা বা দুপুর ১২টায়।আবার ভালো না লাগলে ৪টার আগেই তিনি অফিস বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। 

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস আতিকুর রহমানের দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুস ছাড়া নামজারি হয় না। নামজারির জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল হাই বলেন, ‘আমার জমি খারিজ করতে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। আমার পাশের একটি জমি খারিজ করে দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির সঙ্গে ১৮ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করেছেন। এরই মধ্যে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বাকি আট হাজার টাকা কাজ শেষ হলে নেবেন।

এছাড়াও লাুরফতেহপুর গ্রামের এক হতদরিদ্র পান দোকানদার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, নায়েব আতিকুর রহমান আমার একটি ১৫ শতক জায়গা খারিজ করতে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। জায়গা খারিজ করতে গিয়ে আমার ব্যাবসায়ীক মূল ধন সব হারিয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় ফেরী করে পানবেচি।

এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে স্থানীয় এ প্রবাসীর সাথে সোমবার দুপুরে লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে নায়েব আতিকুর রহমান কে একটি খারিজ করতে কত লাগবে জানতে চাইলে তিনি জানান ১০ হাজার টাকা লাগবে।পরে দশ হাজার টাকা কেন লাগবে জানতে চাইলে সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে কোন উত্তর না দিয়ে তিনি অফিস ছেড়ে চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসে কর্মরত একজন জানান, নায়েব আতিকুর রহমানের চাকরির জীবনের শেষ সময়ে এসে এখন তিনি ডাকাত হয়ে গেছেন। মোটা অংকের টাকা না হলে তিনিখারিজের ফাইল হাতে নেন না।

লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার ইউনিয়নের সহজসরল মানুষগুলোকে ঠকিয়ে লক্ষলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন নায়েব আতিকুর রহমান। তিনি আমার এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে একটি জমিরখারিজ করতে ৩০ হাজার টাকা দাবী করেন।আমি এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয় কে জানিয়েছি। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাউর ফতেহপুর  ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অফিসে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত লোকবল নেই। 

জমি খারিজে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালেদ বিন মনসুর বলেন, ঘুষ নেয়ার প্রমান থাকলে আমাকে দেন,তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা নিবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন,অবৈধ ভাবে মানুষদের ঠকিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ