ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মনপুরার ৬০ কলোনিতে জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে কোস্ট গার্ড, ত্রাণ বিতরণ

মনপুরার ৬০ কলোনিতে জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে কোস্ট গার্ড, ত্রাণ বিতরণ

মনপুরার ৬০ কলোনিতে জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে কোস্ট গার্ড, ত্রাণ বিতরণ

মুহাঃ আশরাফুল ইসলাম, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি:- ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার ৬০ কলোনিতে সাম্প্রতিক জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কোস্ট গার্ডের এ উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের অধীনস্থ বিসিজি আউটপোস্ট মনপুরার উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিসিজি আউটপোস্ট মনপুরার কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ। এ সময় জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা অস্বাভাবিক জোয়ারে ৬০ কলোনির অধিকাংশ বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবারের রান্নাঘর, ঘুমানোর কক্ষ ও গৃহস্থালির মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পানিবন্দী অবস্থায় শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

ত্রাণ গ্রহণকারী কয়েকজন জানান, জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে তাদের ঘরে থাকা সম্ভব হয় না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘরের চাল, আড়া কিংবা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। পানি নেমে গেলে আবার নিচে নেমে কোনোভাবে জীবনযাপন শুরু করেন। এভাবে প্রতিটি জোয়ারে তাদের জীবন-সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

উপকারভোগীরা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,“জোয়ারের সময় আমরা চরম অসহায় হয়ে পড়ি। অনেক সময় খাবারেরও সংকট দেখা দেয়। এমন কঠিন সময়ে কোস্ট গার্ড আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের দেওয়া ত্রাণ আমাদের অনেক উপকারে এসেছে। আমরা তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

ত্রাণ বিতরণকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এদিকে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে এলাকাবাসী ৬০ কলোনির সামনের নদীসংলগ্ন সড়কে দ্রুত একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, কলোনিটি মূল বেড়িবাঁধের বাইরে থাকায় প্রায় প্রতিটি জোয়ারেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জীবিকা নির্বাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের শিকার হলেও এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, একটি শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে জোয়ারের পানি থেকে পুরো এলাকাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে।

এলাকাবাসী আরও দাবি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং দুর্যোগকালীন খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানবিক এ ত্রাণ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, বরং ৬০ কলোনির মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এলাকাবাসী নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


মনপুরার ৬০ কলোনিতে জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে কোস্ট গার্ড, ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

মনপুরার ৬০ কলোনিতে জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে কোস্ট গার্ড, ত্রাণ বিতরণ

মুহাঃ আশরাফুল ইসলাম, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি:- ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার ৬০ কলোনিতে সাম্প্রতিক জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কোস্ট গার্ডের এ উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের অধীনস্থ বিসিজি আউটপোস্ট মনপুরার উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিসিজি আউটপোস্ট মনপুরার কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ। এ সময় জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা অস্বাভাবিক জোয়ারে ৬০ কলোনির অধিকাংশ বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবারের রান্নাঘর, ঘুমানোর কক্ষ ও গৃহস্থালির মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পানিবন্দী অবস্থায় শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

ত্রাণ গ্রহণকারী কয়েকজন জানান, জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে তাদের ঘরে থাকা সম্ভব হয় না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘরের চাল, আড়া কিংবা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। পানি নেমে গেলে আবার নিচে নেমে কোনোভাবে জীবনযাপন শুরু করেন। এভাবে প্রতিটি জোয়ারে তাদের জীবন-সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

উপকারভোগীরা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,“জোয়ারের সময় আমরা চরম অসহায় হয়ে পড়ি। অনেক সময় খাবারেরও সংকট দেখা দেয়। এমন কঠিন সময়ে কোস্ট গার্ড আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের দেওয়া ত্রাণ আমাদের অনেক উপকারে এসেছে। আমরা তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

ত্রাণ বিতরণকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এদিকে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে এলাকাবাসী ৬০ কলোনির সামনের নদীসংলগ্ন সড়কে দ্রুত একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, কলোনিটি মূল বেড়িবাঁধের বাইরে থাকায় প্রায় প্রতিটি জোয়ারেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জীবিকা নির্বাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের শিকার হলেও এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, একটি শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে জোয়ারের পানি থেকে পুরো এলাকাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে।

এলাকাবাসী আরও দাবি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং দুর্যোগকালীন খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানবিক এ ত্রাণ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, বরং ৬০ কলোনির মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এলাকাবাসী নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ