ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

অধিক মুনাফার লোভে কেমিকেলযুক্ত আমে, ব্যবসা করছেন কালিয়াকৈর বাজার ব্যবসায়ীরা।

অধিক মুনাফার লোভে কেমিকেলযুক্ত আমে, ব্যবসা করছেন কালিয়াকৈর বাজার ব্যবসায়ীরা।

অধিক মুনাফার লোভে কেমিকেলযুক্ত আমে, ব্যবসা করছেন কালিয়াকৈর বাজার ব্যবসায়ীরা। 

মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:- গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাজারগুলো সয়লাব হয়ে গেছে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ও কৃত্রিম রং করা আমে। বাহ্যিকভাবে সতেজ ও উজ্জ্বল দেখালেও এসব আম মানবদেহের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে কালিয়াকৈর পৌর বাজার, চন্দ্রা বাজার, মৌচাক বাজার, সফিপুর বাজার ও রেলগেট এলাকার হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের আমে বাজার ছেয়ে গেছে। তবে সচেতন ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে থাকা আমের বড় একটি অংশ প্রাকৃতিকভাবে পাকানো নয়। দেখতে লোভনীয় হলেও ভেতরের অংশ কাঁচা, শক্ত ও স্বাদহীন। বাজার করতে আসা জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেখতে সুন্দর হওয়ায় আম কিনলাম। কিন্তু বাসায় গিয়ে কাটার পর দেখি ভেতরে কাঁচা, কোনো স্বাদও নেই। এগুলো খাওয়া আর বিষ খাওয়া একই কথা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দ্রুত বেশি লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা আম সংগ্রহ করে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথিফনসহ নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিয়ে ফেলছেন। আমকে আরও আকর্ষণীয় দেখাতে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম রং ও সংরক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল বিক্রেতা জানান, অল্প কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পুরো ফলের বাজার ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের বদনাম হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমিকেলযুক্ত ফল খেলে মানবদেহে মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। এতে লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা স্যানিটারি ইনস্পেক্টর উৎপল রানী জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। রাসায়নিক প্রয়োগের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হুসাইন বলেন, জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। রাসায়নিক দিয়ে ফল পাকানো দণ্ডনীয় অপরাধ। বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বাজার থেকে আম কেনার সময় সাধারণ ক্রেতা ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


অধিক মুনাফার লোভে কেমিকেলযুক্ত আমে, ব্যবসা করছেন কালিয়াকৈর বাজার ব্যবসায়ীরা।

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

অধিক মুনাফার লোভে কেমিকেলযুক্ত আমে, ব্যবসা করছেন কালিয়াকৈর বাজার ব্যবসায়ীরা। 

মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:- গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাজারগুলো সয়লাব হয়ে গেছে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ও কৃত্রিম রং করা আমে। বাহ্যিকভাবে সতেজ ও উজ্জ্বল দেখালেও এসব আম মানবদেহের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে কালিয়াকৈর পৌর বাজার, চন্দ্রা বাজার, মৌচাক বাজার, সফিপুর বাজার ও রেলগেট এলাকার হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের আমে বাজার ছেয়ে গেছে। তবে সচেতন ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে থাকা আমের বড় একটি অংশ প্রাকৃতিকভাবে পাকানো নয়। দেখতে লোভনীয় হলেও ভেতরের অংশ কাঁচা, শক্ত ও স্বাদহীন। বাজার করতে আসা জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেখতে সুন্দর হওয়ায় আম কিনলাম। কিন্তু বাসায় গিয়ে কাটার পর দেখি ভেতরে কাঁচা, কোনো স্বাদও নেই। এগুলো খাওয়া আর বিষ খাওয়া একই কথা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দ্রুত বেশি লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা আম সংগ্রহ করে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথিফনসহ নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিয়ে ফেলছেন। আমকে আরও আকর্ষণীয় দেখাতে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম রং ও সংরক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল বিক্রেতা জানান, অল্প কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পুরো ফলের বাজার ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের বদনাম হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমিকেলযুক্ত ফল খেলে মানবদেহে মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। এতে লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা স্যানিটারি ইনস্পেক্টর উৎপল রানী জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। রাসায়নিক প্রয়োগের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হুসাইন বলেন, জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। রাসায়নিক দিয়ে ফল পাকানো দণ্ডনীয় অপরাধ। বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বাজার থেকে আম কেনার সময় সাধারণ ক্রেতা ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ