ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্থায়ী চেকপোস্টে বসিয়ে ৪ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্থায়ী চেকপোস্টে বসিয়ে ৪ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

দামুড়হুদা হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

দামুড়হুদা হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ঠাকুরগাঁও -১আসনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা ৭ই অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ ২৯অক্টোবর ভোট

ঠাকুরগাঁও -১আসনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা ৭ই অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ ২৯অক্টোবর ভোট

গাইবান্ধায় অটোবাইক চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় অটোবাইক চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ জিয়া মঞ্চ এর ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জিয়া মঞ্চ এর ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আসক সিলেট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হলেন ওসমানীনগরের মামুনুর রহমান

আসক সিলেট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হলেন ওসমানীনগরের মামুনুর রহমান

কালাইয়ে মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব ইয়াকুব আলী মন্ডলের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

কালাইয়ে মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব ইয়াকুব আলী মন্ডলের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

আখচাষ সম্প্রসারণে জিল বাংলা চিনিকলের মহাব্যবস্থাপকের সাথে বোয়ালমারী গ্রামের আখচাষীদের মতবিনিময়

আখচাষ সম্প্রসারণে জিল বাংলা চিনিকলের মহাব্যবস্থাপকের সাথে বোয়ালমারী গ্রামের আখচাষীদের মতবিনিময়

পীরগাছার সুবিদ দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রমের নামে ভুতুড়ে কাণ্ড!

কাগজে-কলমে ৩০০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ

কাগজে-কলমে ৩০০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ

কাগজে-কলমে ৩০০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ

পীরগাছার সুবিদ দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রমের নামে ভুতুড়ে কাণ্ড!

​কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০০ জন। কিন্তু বাস্তবে পুরো প্রতিষ্ঠান ছাত্রশূন্য। কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ বা বেঞ্চ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো এক সাধারণ বসতবাড়ি। অথচ এভাবেই প্রতিদিন শিক্ষকেরা আসছেন, অলস সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরছেন এবং মাস শেষে নিয়মিত তুলে নিচ্ছেন সরকারি বেতন-ভাতা।

​রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুরী ইউনিয়নে অবস্থিত 'সুবিদ দাখিল মাদ্রাসা'য় অনুসন্ধান চালিয়ে উঠে এসেছে শিক্ষা ব্যবস্থার এমন চরম অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র।

​সাইনবোর্ডহীন প্রতিষ্ঠান, আসবাবপত্রের চরম সংকট সরেজমিনে পীরগাছার কৈকুরী ইউনিয়নের সুবিদ দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষার কোনো পরিবেশ চোখে পড়েনি। প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক বা ভবনে নেই কোনো সাইনবোর্ড। স্থানীয়দের মতে, না জানা থাকলে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শ্রেণিকক্ষগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, পুরো মাদ্রাসায় বসার জন্য রয়েছে মাত্র তিন থেকে চারটি বেঞ্চ। চার-পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কখনো দেখা যায় না। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শ্রেণিকক্ষগুলোতে জমেছে ধুলোবালি।

​শিক্ষক ও সুপারের বক্তব্যে চরম গরমিল শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের তথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতি।

​সরেজমিনে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, শিক্ষার্থী মূলত রেজিস্টার খাতায় সীমাবদ্ধ। বাস্তবে ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থী থাকে না। তবে অন্য এক শিক্ষক দাবি করেন, "আজকেও আমাদের প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।" কিন্তু মাত্র ৩-৪টি বেঞ্চে ১০০ জন শিক্ষার্থী কীভাবে বসে পাঠগ্রহণ করল—এমন প্রশ্নের কোনো যৌক্তিক উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

​অন্যদিকে, মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট (সুপার) মাওলানা আনারুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "আমাদের মাদ্রাসায় ৩-৪টি বেঞ্চ থাকার কথা সঠিক নয় এবং রেজিস্টার অনুযায়ী ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। নিয়ম মেরেই প্রতিষ্ঠান চলছে।"

​ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বীকারোক্তি মাদ্রাসার বর্তমান অচলাবস্থা ও অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, "আমি চার-পাঁচ মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সার্বিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বাস্তবে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থীর বেশি আমি কখনোই দেখিনি। খাতা-কলমের হিসেব আর বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"

​তদন্ত ও শাস্তির দাবি:                   স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বছরের পর বছর পরিদর্শন না হওয়া এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি এখন নামসর্বস্ব সংস্থায় পরিণত হয়েছে। সরকারের বিপুল রাজস্ব ব্যয় করে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে আকস্মিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা অফিসারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা, যাতে শিক্ষার নামে চলা এই অনিয়ম বন্ধ হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


 

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কাগজে-কলমে ৩০০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কাগজে-কলমে ৩০০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ

পীরগাছার সুবিদ দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রমের নামে ভুতুড়ে কাণ্ড!

​কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০০ জন। কিন্তু বাস্তবে পুরো প্রতিষ্ঠান ছাত্রশূন্য। কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ বা বেঞ্চ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো এক সাধারণ বসতবাড়ি। অথচ এভাবেই প্রতিদিন শিক্ষকেরা আসছেন, অলস সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরছেন এবং মাস শেষে নিয়মিত তুলে নিচ্ছেন সরকারি বেতন-ভাতা।

​রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুরী ইউনিয়নে অবস্থিত 'সুবিদ দাখিল মাদ্রাসা'য় অনুসন্ধান চালিয়ে উঠে এসেছে শিক্ষা ব্যবস্থার এমন চরম অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র।

​সাইনবোর্ডহীন প্রতিষ্ঠান, আসবাবপত্রের চরম সংকট সরেজমিনে পীরগাছার কৈকুরী ইউনিয়নের সুবিদ দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষার কোনো পরিবেশ চোখে পড়েনি। প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক বা ভবনে নেই কোনো সাইনবোর্ড। স্থানীয়দের মতে, না জানা থাকলে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শ্রেণিকক্ষগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, পুরো মাদ্রাসায় বসার জন্য রয়েছে মাত্র তিন থেকে চারটি বেঞ্চ। চার-পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কখনো দেখা যায় না। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শ্রেণিকক্ষগুলোতে জমেছে ধুলোবালি।

​শিক্ষক ও সুপারের বক্তব্যে চরম গরমিল শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের তথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতি।

​সরেজমিনে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, শিক্ষার্থী মূলত রেজিস্টার খাতায় সীমাবদ্ধ। বাস্তবে ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থী থাকে না। তবে অন্য এক শিক্ষক দাবি করেন, "আজকেও আমাদের প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।" কিন্তু মাত্র ৩-৪টি বেঞ্চে ১০০ জন শিক্ষার্থী কীভাবে বসে পাঠগ্রহণ করল—এমন প্রশ্নের কোনো যৌক্তিক উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

​অন্যদিকে, মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট (সুপার) মাওলানা আনারুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "আমাদের মাদ্রাসায় ৩-৪টি বেঞ্চ থাকার কথা সঠিক নয় এবং রেজিস্টার অনুযায়ী ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। নিয়ম মেরেই প্রতিষ্ঠান চলছে।"

​ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বীকারোক্তি মাদ্রাসার বর্তমান অচলাবস্থা ও অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, "আমি চার-পাঁচ মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সার্বিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বাস্তবে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থীর বেশি আমি কখনোই দেখিনি। খাতা-কলমের হিসেব আর বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"

​তদন্ত ও শাস্তির দাবি:                   স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বছরের পর বছর পরিদর্শন না হওয়া এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি এখন নামসর্বস্ব সংস্থায় পরিণত হয়েছে। সরকারের বিপুল রাজস্ব ব্যয় করে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে আকস্মিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা অফিসারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা, যাতে শিক্ষার নামে চলা এই অনিয়ম বন্ধ হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


 



ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ