পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কর্মকর্তার স্বজনদের নাম ফ্যামিলি কার্ড গণনাকারী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায়
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: ১৯/৮/২৬ কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী (গণনাকারী) নয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কয়েকজনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছে চুড়ান্ত তালিকায়। এ ছাড়া মাদক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত এক আসামির নামও তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় রয়েছে।
রৌমারী উপজেলার ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার আবদুল্লাহিল কাফির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁর ভাগনির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছেন। উপজেলা প্রশাসন বলছে, আগের ইউএনওর সিলগালা করা ফাইলের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, গত শুক্রবার ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে রৌমারী উপজেলা প্রশাসন। তালিকায় যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তারের নাম রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর দাবি, নাসরিন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেননি। নাসরিন প্রকল্পের সদস্যসচিব আবদুল্লাহিল কাফির ভাগনি।
অভিযোগ রয়েছে, আবদুল্লাহিল কাফির আরেক ভাগনি মাসুমা আক্তার বৈবাহিক সূত্রে অন্য জেলার বাসিন্দা হলেও তাঁর নামও চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া রৌমারী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাসরিন আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিয়েছেন। তবে কবে, কোথায় এবং কারা তাঁর ভাইভা নিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভাইভায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাও বলতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল ধরেননি।
নাসরিনের এক প্রতিবেশী ও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক প্রার্থী বলেন, তাঁরা রৌমারীতে ভাইভায় অংশ নিয়েছেন। তাঁদের ইউনিয়নের অনেক প্রার্থীও ভাইভা দিয়েছেন। কিন্তু ওই ভাইভায় নাসরিনকে দেখা যায়নি।
মাদক মামলার আসামিও তালিকায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এ প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় মাদক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির নাম থাকায়ও প্রশ্ন উঠেছে।
তালিকা অনুযায়ী, যাদুরচর ইউনিয়নের শ্রীফলগাতী গ্রামের আকিব হাসান সিফাতের নামও তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৯৬০টি ইয়াবাসহ ঢাকার মিরপুর মডেল থানার পুলিশের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং এ ঘটনায় তিনি পাঁচ মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন।
স্থানীয় ও নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহিল কাফির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর ভাগনি নাসরিন আক্তার ভাইভায় অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সব কাগজ যাচাই বাচাই করেছেন বলেও তিনি জানান।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি রৌমারীতে যোগদানের আগেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পূর্বতন ইউএনওর সিলগালা করা ফাইলের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। কেউ নিষিদ্ধ দল বা কোনো মামলায় জড়িত থাকলে তাঁকে বাদ দেওয়া হবে।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কর্মকর্তার স্বজনদের নাম ফ্যামিলি কার্ড গণনাকারী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায়
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: ১৯/৮/২৬ কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী (গণনাকারী) নয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কয়েকজনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছে চুড়ান্ত তালিকায়। এ ছাড়া মাদক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত এক আসামির নামও তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় রয়েছে।
রৌমারী উপজেলার ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার আবদুল্লাহিল কাফির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁর ভাগনির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছেন। উপজেলা প্রশাসন বলছে, আগের ইউএনওর সিলগালা করা ফাইলের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, গত শুক্রবার ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে রৌমারী উপজেলা প্রশাসন। তালিকায় যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তারের নাম রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর দাবি, নাসরিন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেননি। নাসরিন প্রকল্পের সদস্যসচিব আবদুল্লাহিল কাফির ভাগনি।
অভিযোগ রয়েছে, আবদুল্লাহিল কাফির আরেক ভাগনি মাসুমা আক্তার বৈবাহিক সূত্রে অন্য জেলার বাসিন্দা হলেও তাঁর নামও চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া রৌমারী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাসরিন আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিয়েছেন। তবে কবে, কোথায় এবং কারা তাঁর ভাইভা নিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভাইভায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাও বলতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল ধরেননি।
নাসরিনের এক প্রতিবেশী ও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক প্রার্থী বলেন, তাঁরা রৌমারীতে ভাইভায় অংশ নিয়েছেন। তাঁদের ইউনিয়নের অনেক প্রার্থীও ভাইভা দিয়েছেন। কিন্তু ওই ভাইভায় নাসরিনকে দেখা যায়নি।
মাদক মামলার আসামিও তালিকায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এ প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় মাদক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির নাম থাকায়ও প্রশ্ন উঠেছে।
তালিকা অনুযায়ী, যাদুরচর ইউনিয়নের শ্রীফলগাতী গ্রামের আকিব হাসান সিফাতের নামও তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৯৬০টি ইয়াবাসহ ঢাকার মিরপুর মডেল থানার পুলিশের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং এ ঘটনায় তিনি পাঁচ মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন।
স্থানীয় ও নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহিল কাফির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর ভাগনি নাসরিন আক্তার ভাইভায় অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সব কাগজ যাচাই বাচাই করেছেন বলেও তিনি জানান।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি রৌমারীতে যোগদানের আগেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পূর্বতন ইউএনওর সিলগালা করা ফাইলের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। কেউ নিষিদ্ধ দল বা কোনো মামলায় জড়িত থাকলে তাঁকে বাদ দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন